হোম অন্যান্যসারাদেশ মণিরামপুরে অবৈধ ভাবে জমিতে সেচ দেয়ার প্রতিবাদ করায় যুবককে পিটিয়ে আহত, থানায় অভিযোগ

মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি :

মণিরামপুরে সেচ প্রকল্পের এরিয়ায় অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে জমিতে সেচ দেয়ার প্রতিবাদ করায় প্রকাশ্যে এক যুবককে পেটানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার মণিরামপুর পৌর শহরের মহাদেবপুর গ্রামে। অভিযুক্তরা হলেন ওই গ্রামের আমজেদ হোসেনের জামাতা আরিফ হোসেন, মৃত ওমর আলীর ছেলে আবুল হোসেন ও আরিফ হোসেনের স্ত্রী চায়না বেগম। এ ঘটনায় মণিরামপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

জানা যায়, উপজেলা সেচ কমিটির অনুমতিপত্র নিয়ে পৌর শহরের মহাদেবপুর মাঠে আলতাফ হোসেন একটি মটর স্থাপন করে জমিতে সেচ দিয়ে আসছেন। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে একই এলাকার আমজেদ হোসেনের জামাতা আরিফ হোসেন, সালাম মোড়লের ছেলে হাফিজুর রহমান, মৃত ওমর আলীর ছেলে আবুল হোসেন, আব্দুর রশিদের ছেলে কুতুবউদ্দিন ও মনমথ মন্ডলের ছেলে কানাইলাল মন্ডল সেচ কমিটির অনুমোদন ছাড়াই আবাসিক মিটার থেকে প্রায় ১ হাজার ফুট দুরে মাঠের মধ্যে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে সেচ ব্যবসা পরিচালনা করছেন।

আলতাফ হোসেনের অভিযোগ বিষয়টি নিয়ে বারবার যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ২ মনিরামপুর অফিসকে জানানোর পরও তারা কোন ব্যবস্থ্যা গ্রহন করেনি। পরবর্তীতে ওই অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহার কারীদের বিরুদ্ধে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে লিখিত অভিযোগ দেয় আলতাফ হোসেন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহার কারীরা আলতাফের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে এবং প্রায়ই আলতাফকে দেখে নেয়ার হুমখি দিতে থাকে।

তারই জের ধরে সোমবার বিকেলে বিবাদী আমজেদ হোসেনের জামাতা আরিফ হোসেন, মৃত ওমর আলীর ছেলে আবুল হোসেন ও আরিফ হোসেনের স্ত্রী চায়না বেগম বাড়ির সামনে আলতাফকে একা পেয়ে ব্যাপক মারপিট করতে থাকে। আলতাফের চিৎকাওে লোকজন ছুঠে আসলে তারা দৌঁড়ে পালিয়ে যায়। স্থানীয়দের সহযোগীতায় আলতাফকে প্রথমে গ্রাম্য ডাক্তার ও পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা শেষে রাতে তাকে বাড়িতে নেয়া হয়।

যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ২ মনিরামপুর অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার(ডিজিএম) মকছেদুল মমিন নানান কাজের অজুহাত তুলে ধরে সাংবাদিকদের বলেন, দেরিতে হলেও আমরা সেখানে লোক পাঠিয়েছি। তারা অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের প্রাথমিকভাবে সতর্ক করেছেন। পরবর্তীতে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে সেচ কার্য চালালে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। মণিরামপুর থানার এএসআই আশরাফুল অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

 

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন