হোম আন্তর্জাতিক ভেনেজুয়েলাকে যেন অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দেওয়া না হয়— ট্রাম্পকে এরদোয়ানের সতর্কবার্তা

ভেনেজুয়েলাকে যেন অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দেওয়া না হয়— ট্রাম্পকে এরদোয়ানের সতর্কবার্তা

কর্তৃক Editor
০ মন্তব্য 43 ভিউজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ভেনেজুয়েলাকে যেন অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দেওয়া না হয়— যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এমন আহ্বান জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান। এক ফোনালাপে তিনি এই কথা বলেন। সোমবার (৫ জানুয়ারি) মন্ত্রিসভার একটি বৈঠকে এরদোয়ান এ সতর্কবার্তা দেন।

মন্ত্রিসভার একটি বৈঠক শেষে এরদোয়ান বলেন, ‘আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে, আমরা এমন কোনো পদক্ষেপ সমর্থন করি না। অন্য দেশের সার্বভৌম অধিকার ক্ষুণ্ণ করা এবং আন্তর্জাতিক আইনকে পদদলিত করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপ; যা বিশ্বজুড়ে গুরুতর জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।’

এরদোয়ান বলেন, ‘মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপে আমি এ বিষয়ে আমাদের দেশের সংবেদনশীলতার কথা স্পষ্টভাবে জানিয়েছি। আমি বিশেষভাবে জোর দিয়ে বলেছি যে ভেনেজুয়েলাকে যেন অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দেওয়া না হয়।’ সরাসরি কারও নাম উল্লেখ না করে মাদুরোকে তুলে নেওয়ার ঘটনাকে ‘দুঃখজনক’ বলে বর্ণনা করেন এরদোয়ান।

এরদোয়ান বলেন, ‘ভেনেজুয়েলা ইস্যুতে আমাদের প্রচেষ্টা তুরস্ক ও ভেনেজুয়েলার বন্ধুত্বপূর্ণ জনগণের জন্য যা সবচেয়ে ভালো ও সঠিক, তা করার দিকেই নিবদ্ধ। প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও ভেনেজুয়েলার জনগণ বারবার প্রমাণ করেছেন যে তারা আমাদের দেশের অকৃত্রিম বন্ধু।’ তিনি বলেন, তুরস্ক ভেনেজুয়েলার পাশে থাকবে এবং দেশটির স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

বিভিন্ন খবরে জানা গেছে, গত নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র মাদুরোকে তুরস্কে নির্বাসনে যাওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল। সোমবার (৫ জানুয়ারি) ভোরে ট্রাম্পের উপস্থিতিতে এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

উল্লেখ্য, সাবেক মার্কিন ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে তুরস্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের টানাপোড়েন থাকলেও বর্তমান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে তার সঙ্গে এরদোয়ানের বেশ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।

২০১৬ সাল থেকে এরদোয়ান ও মাদুরোর মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রয়েছে। সেই বছর তুরস্কে এক ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানের পর মাদুরো নিজে এরদোয়ানকে ফোন করে তার প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন।

তবে সপ্তাহজুড়ে তুরস্ক সরকারের অবস্থান ছিল কিছুটা নীরব থাকলেও দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে শুধু ভেনেজুয়েলার স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রচেষ্টার প্রতি সমর্থন জানানো হয়। এমনকি সপ্তাহান্তে বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠানে জনসমক্ষে কথা বললেও এ বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করা থেকে বিরত ছিলেন এরদোয়ান।

এদিকে নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে ভেনেজুয়েলার এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, দেশটিতে মার্কিন হামলায় নিহত ব্যক্তির সংখ্যা বেড়ে ৮০–তে দাঁড়িয়েছে। তাদের মধ্যে বেসামরিক নাগরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য রয়েছেন। ওই কর্মকর্তা আরও জানান, এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

‘হামলার পেছনে রয়েছে ইহুদিবাদী প্রভাব’

শনিবার ভোরে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাস থেকে প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে তুলে নিয়ে যায়। একই সময় মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো দেশটির গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা ও ঘাঁটিগুলোতে বোমা হামলা চালায়। ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ বলেন, নিকোলা মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রের তুলে নিয়ে যাওয়ার এ ঘটনার পেছনে ‘ ইহুদিবাদীর প্রভাব’ রয়েছে।

মাদুরোর ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করা রদ্রিগেজকে ভেনেজুয়েলার সুপ্রিম কোর্ট অন্তর্বর্তী নেতা হিসেবে নিযুক্ত করেছেন।

শনিবার টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে রদ্রিগেজ বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার স্তম্ভিত যে ভেনেজুয়েলা এ ধরনের হামলার শিকার হয়েছে। এ হামলার পেছনে নিঃসন্দেহে জায়নবাদী প্রভাব রয়েছে।’

Khaleda

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন