বাণিজ্য ডেস্ক :
বাংলাদেশের ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউনটেন্ট অব বাংলাদেশ (আইসিএবি) বিশ্বমানের ডিগ্রি দিয়ে আসছে উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, ভুটানে বাংলাদেশের আইসিএবি উন্নত ও আধুনিক হিসাব শিক্ষা পরিচালনা করতে পারে।
বৃহস্পতিবার (৮ ডিসেম্বর) ঢাকায় বাংলাদেশ সচিবালয়ে তার অফিস কক্ষে ঢাকায় নিযুক্ত ভুটানের রাষ্ট্রদূত রিনচেন কুয়েন্টশিলের সঙ্গে মতবিনিয়ের সময় এ কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
এসময় তিনি বলেন, ভুটানসহ বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশে মেডিকেল, প্রকৌশল, বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা গ্রহণ করে থাকেন। বাংলাদেশের ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউনটেন্ট অব বাংলাদেশ (আইসিএবি) বিশ্বমানের ডিগ্রি দিয়ে আসছে। ভুটানে বাংলাদেশের আইসিএবি উন্নত ও আধুনিক হিসাব শিক্ষা পরিচালনা করতে পারে।
ভুটানকে বাংলাদেশের বন্ধু রাষ্ট্র উল্লেখ করে তিনি বলেন, সার্বভৌম স্বাধীন বাংলাদেশকে ভুটান প্রথম স্বীকৃতি দেয়। বাংলাদেশের মানুষ কৃতজ্ঞতার সঙ্গে তা সবসময় স্বরণ করে। তাই ভুটানকে বাংলাদেশ সবসময় গুরুত্ব দিয়ে থাকে।
তিনি বলেন, এলডিসি গ্রাজুয়েশনের পর প্রতিযোগিতামূলক ব্যবসা-বাণিজ্যে এগিয়ে যাবার জন্য বিভিন্ন দেশের সঙ্গে এফটিএ বা পিটিএ এর মতো বাণিজ্য চুক্তি করে বাণিজ্য সুবিধা বাড়ানোর চেষ্টা করছে বাংলাদেশ। এরই অংশ হিসেবে ভুটানের সঙ্গে প্রথম পিটিএ স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ, যা গত জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে।
এতে উভয় দেশই বাণিজ্যিকভাবে উপকৃত হবে আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ফলে উভয় দেশের বাণিজ্য বাড়ানোর সুযোগ হয়েছে, এ সুযোগকে কাজে লাগাতে হবে।
এসময় ঢাকায় নিযুক্ত ভুটানের রাষ্ট্রদূত রিনচেন কুয়েন্টশিল বলেন, ভুটান বাংলাদেশে কমলালেবু রফতানি করে থাকে। এখন ফলের মৌসুম। তবে বাংলাদেশের আমদানিকারকদের এলসি খুলতে সমস্যা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সহযোগিতা করলে ফল আমদানি স্বাভাবিক থাকবে।
তিনি বলেন, ভুটান উন্নত মানের মিনারেল ওয়াটার রফতানি করে থাকে। বাংলাদেশের বাজারে ভুটান মিনারেল ওয়াটার রফতানি করতে আগ্রহী।
সোনাহাট স্থলবন্দর ভারত ও ভুটানের মধ্যে আমদানি ও রফতানির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করে তিনি বলেন, এ বন্দর দিয়ে ভুটান ও বাংলাদেশের পণ্য আমদানি-রফতানি করলে বাণিজ্য সহজ হবে এবং উভয় দেশ উপকৃত হবে
এছাড়া বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (এফটিএ) নূর মো. মাহবুবুল হক, ভূটান অ্যাম্বাসির মিনিস্টার ট্রেড কাউন্সিলর কেনচো থিনলে এবং থার্ড সেক্রেটারি পেমা সেলডন উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, বিগত ২০২১-২০২২ অর্থবছরে বাংলাদেশ ভুটানে ৯ দশমিক ৫৬ মিলিয়ন মর্কিন ডলার মূল্যের পণ্য রফতানি করেছে। একই সময়ে ৩৫ দশমিক ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য আমদানি করেছে।
