হোম আন্তর্জাতিক ভারতে বিধ্বস্ত উড়োজাহাজটি আগেও দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিল

ভারতে বিধ্বস্ত উড়োজাহাজটি আগেও দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিল

কর্তৃক Editor
০ মন্তব্য 65 ভিউজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী ও এনসিপি প্রধান অজিত পাওয়ারকে বহনকারী যে উড়োজাহাজটি বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকালে বিধ্বস্ত হয়েছে, সেটি এর আগেও একবার বড় ধরনের দুর্ঘটনার শিকার হয়েছিল বলে খবর পাওয়া গেছে। পুনে জেলার বারামতী বিমানবন্দরের কাছে এই দুর্ঘটনায় অজিত পাওয়ারসহ মোট পাঁচজন আরোহী নিহত হয়েছেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, ভিএসআর ভেঞ্চারস পরিচালিত এই ‘লিয়ারজেট ৪৫’ মডেলের উড়োজাহাজটি গত ২০ বছরের ইতিহাসে একাধিকবার যান্ত্রিক ও নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়েছিল। আজকের এই মর্মান্তিক পরিণতির পর উড়োজাহাজটির ফিটনেস এবং বারবার একই যান্ত্রিক ত্রুটির বিষয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

তদন্তের বরাত দিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, এই লিয়ারজেট ৪৫ এক্সআর উড়োজাহাজটি ২০২৩ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর মুম্বাই বিমানবন্দরে এক ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিল। সে সময় বিশাখাপত্তনম থেকে মুম্বাই আসার পথে ভারী বৃষ্টির মধ্যে অবতরণ করতে গিয়ে উড়োজাহাজটি রানওয়ে থেকে ছিটকে দ্বিখণ্ডিত হয়ে গিয়েছিল। সেই ঘটনায় কো-পাইলট গুরুতর আহত হলেও পাইলটসহ আটজন যাত্রী অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে যান। সেই একই উড়োজাহাজ মেরামত করে পুনরায় ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল কি না এবং সেটির কারিগরি মান কতটা সুরক্ষিত ছিল, তা নিয়ে এখন বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে।

বুধবার সকাল ৮টার দিকে অজিত পাওয়ার বারামতীতে চারটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী জনসভায় যোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে মুম্বাই থেকে যাত্রা শুরু করেন। যাত্রার ৪৫ মিনিট পর বারামতী বিমানবন্দরে অবতরণের প্রচেষ্টাকালে উড়োজাহাজটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সজোরে আছড়ে পড়ে এবং মুহূর্তেই আগুন ধরে যায়।

ভিএসআর অ্যাভিয়েশনের ক্যাপ্টেন ভি কে সিং জানিয়েছেন, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়াই এই দুর্ঘটনার প্রাথমিক কারণ হতে পারে। লিয়ারজেট ৪৫ মডেলটি মূলত ১৯৯০-এর দশকে তৈরি করা হয়েছিল, যার সুরক্ষা রেকর্ড খুব একটা সন্তোষজনক নয়। ২০২১ সালেও মেক্সিকোতে এই একই মডেলের একটি উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে ছয়জন প্রাণ হারিয়েছিলেন।

অজিত পাওয়ারের এই অকাল প্রয়াণে ভারতজুড়ে শোকের মাতম চলছে। নয়াদিল্লি ভিত্তিক সংস্থা ভিএসআর ভেঞ্চারস প্রাইভেট লিমিটেডের এই উড়োজাহাজটির নিরাপত্তা ছাড়পত্র নিয়ে ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (ডিজিসিএ)।

একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে যারা খতিয়ে দেখবে যে, পূর্বের দুর্ঘটনার পর এই উড়োজাহাজটি উড়বার জন্য কতটা উপযুক্ত ছিল। মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে এই দুর্ঘটনাটি কেবল একটি যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা নিয়েও জল্পনা চলছে।

সূত্র: এনডিটিভি

Khaleda

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন