হোম আন্তর্জাতিক বড় ভাই উইলিয়ামের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ হ্যারির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

বড় ভাই ব্রিটিশ যুবরাজ প্রিন্স উইলিয়ামের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ করেছেন ছোট ভাই প্রিন্স হ্যারি। তিনি বলেছেন, স্ত্রী মেগান মার্কেলকে ঘিরে দ্বন্দ্বের একপর্যায়ে তার গায়ে হাত তুলেছিলেন ভাই উইলিয়াম। এমনকি তার জামার কলার চেপে ধরে ধাক্কা দিয়ে মেঝেয় ফেলে দিয়েছিলেন। নিজের স্মৃতিকথামূলক একটি বইয়ে ভাইয়ের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেছেন হ্যারি।

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনমতে, ‘স্পেয়ার’ নামে একটি স্মৃতিকথামূলক বই লিখেছেন প্রিন্স হ্যারি, যা ১০ জানুয়ারি প্রকাশিত হওয়ার কথা। সেই বইতেই অগ্রজ প্রিন্স উইলিয়ামের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ করেছেন হ্যারি।

খ্যাতনামা মার্কিন অভিনেত্রী মেগান মার্কেলকে বিয়ে করার পর থেকেই রাজপরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হ্যারির। সম্প্রতি রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের মৃত্যুর পরও সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়নি; বরং দূরত্ব আরও বেড়েছে।

২০১৬ সালে মার্কিন খ্যাতনামা অভিনেত্রী মেগান মার্কেলের সঙ্গে পরিচয় হয় প্রিন্স হ্যারির। এর দুই বছর পর ২০১৮ সালে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ে রাজকীয়ভাবে হলেও কৃষ্ণাঙ্গ হওয়ায় মেগানকে ভালোভাবে নেয়নি রাজপরিবার। ফলে ২০২০ সালের মার্চে রাজপরিবার ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণ জীবনযাপনের সিদ্ধান্ত নেন তারা।

গত বছর মার্কিন টিভি উপস্থাপক অপরা উইনফ্রের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকার দেন প্রিন্স হ্যারি। সেই সাক্ষাৎকারে রাজপরিবার ত্যাগ ও বড় ভাই সম্পর্কে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন তিনি।

এ ছাড়া ‘হ্যারি অ্যান্ড মেগান’ শীর্ষক নেটফ্লিক্সের এক ডকুমেন্টারিতে রাজপরিবার ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানোর পেছনের কারণ তুলে ধরেন হ্যারি ও মেগান। সেই তথ্যচিত্রে তারা রাজপরিবারের সঙ্গে তাদের নানা নেতিবাচক অভিজ্ঞতা অকপটে প্রকাশ করেন। এবার আত্মজীবনীতেও তুলে আনলেন নিজের পরিবারের কাণ্ডকীর্তি।

৩৮ বছর বয়সী হ্যারি আত্মজীবনীতে লিখেছেন, অভিনেত্রী মেগান মার্কেলকে বিয়ে করায় ভাইয়ের সঙ্গে তার সম্পর্ক ভেঙে যায়। বিয়ের কিছুদিন পরই ২০১৯ সালে মেগানকে নিয়ে লন্ডনের প্রাসাদে তাদের ঝগড়া হয়। সেই সংঘাতের কথা উল্লেখ করে হ্যারি লিখেছেন, মেগানকে ‘বাজে’, ‘বদরাগী’ ও ‘বেপরোয়া’ বলতেন উইলিয়াম।

একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে সংঘাত চরম আকার ধারণ করে। হ্যারি লেখেন, ‘উইলিয়াম আমার কলার চেপে ধরেন, গলার চেইন ছিঁড়ে ফেলেন এবং…ধাক্কা মেরে মেঝেতে ফেলে দেন।’ এতে তার পিঠে আঘাত লাগে বলে জানান হ্যারি। এ ঘটনার পর রাজপরিবার ছেড়ে হ্যারি-মেগান দম্পতি ২০২০ সালে আমেরিকায় পাড়ি জমান। বিবাদ মিটিয়ে রাজপ্রাসাদে ফেরার ইচ্ছা নেই বলেও জানিয়েছেন হ্যারি।

হ্যারির লেখা ‘স্পেয়ার’ শীর্ষক আত্মজীবনীমূলক বইটি আগামী সপ্তাহে প্রকাশিত হবে। বইটি ব্রিটিশ রাজপরিবার নিয়ে মারাত্মক হইচই ফেলে দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

বইটির নাম এসেছে রাজকীয় ও অভিজাত পরিমণ্ডলের একটি পুরোনো কথা থেকে। সেটি হলো প্রথম ছেলে সিংহাসন, ক্ষমতা ও সম্পদের উত্তরাধিকারী আর দ্বিতীয়জন অতিরিক্ত (স্পেয়ার)। যা কিছু ঘটে, যে প্রথমে জন্ম নেয়, তারই জোটে। ‘স্পেয়ার’ একটি অসাধারণ বই বলে মনে করা হচ্ছে। এতে ব্রিটিশ রাজপ্রাসাদের উত্তরাধিকারী দুই যুবরাজের মধ্যকার বিরোধের একটি চমকপ্রদ আখ্যান উঠে এসেছে।

Khaleda

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন