আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে রুশ বাহিনী। তিনি দাবি করেছেন, ইউক্রেনে অভিযান শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত রাশিয়ার ৩১টি ব্যাটালিয়ন ট্যাক্টিক্যাল গ্রুপের (বিটিজি) লড়াই করার ক্ষমতা ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। শনিবার (১২ মার্চ) জাতির উদ্দেশে এক ভিডিও বার্তায় এ দাবি করেন জেলেনস্কি।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট এমন সময় রাশিয়ার এই ক্ষয়-ক্ষতির দাবি করেছেন যখন আশপাশের এলাকা থেকে রাজধানী কিয়েভের ওপর বোমা হামলা জোরদার করেছে রুশ বাহিনী।
রুশ সেনাবাহিনীর একটি ব্যাটালিয়ন ট্যাক্টিক্যাল গ্রুপ সাধারণত ২-৪টি কোম্পানি সেনা থাকে। প্রতিটি কোম্পানিতে সেনা সংখ্যা ৮০ থেকে ২৫০। একটা ব্যাটালিয়ন ট্যাক্টিক্যাল গ্রুপ প্রধানত বিমান প্রতিরক্ষা, আর্টিলারি, প্রকৌশল ও লজিস্টিক সাপোর্ট ইউনিট দিয়ে গঠিত। গ্রুপে একটি ট্যাংক বহর ও রকেট আর্টিলারি ইউনিটও দেখা যায়। ইউক্রেনে রাশিয়া এমন ১০০টি ব্যাটালিয়ন ট্যাক্টিক্যাল গ্রুপ পাঠিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
শনিবার ইউক্রেনের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ইউক্রিনফর্মের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ১৮ ব্যাটালিয়ন ট্যাক্টিক্যাল গ্রুপ সম্পূর্ণরুপে লড়াইয়ের ক্ষমতা হারিয়েছে। ১৩টি গ্রুপ পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।
ভিডিও বার্তায় জেলেনস্কি জানিয়েছেন, ব্যাপক ক্ষতিক্ষতির পর রাশিয়া এখন নতুন করে সেনাদল পাঠাচ্ছে। মেলিতোপোলের মেয়র ইভান ফেদোরোভের মুক্তি দাবি করেছেন তিনি। জেলেনস্কি জানিয়েছেন, মেয়র ইভান ফেদোরোভের মুক্তির ব্যাপারে তিনি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ও জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎজের সঙ্গে কথা বলেছেন।
শুক্রবার মেলিতোপোলের মেয়রকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায় রাশিয়ার অস্ত্রধারী সেনারা। রাশিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইভান ফেদোরোভ সন্ত্রাসী কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত। তার বিরুদ্ধে তদন্ত করা হবে এবং বিচারের মুখোমুখি করা হবে।
