বাণিজ্য ডেস্ক :
স্মার্টফোন, ইন্টারনেট, ফেসবুক, ইউটিউব, ভিডিও গেমস সবই মানুষের ব্যবহারের পণ্য। কিন্তু পণ্য ব্যবহার করতে গিয়ে অজান্তে মানুষ নিজেই পণ্য হয়ে যাচ্ছে না তো? এসব নিয়েই আজকের প্রতিবেদন।
ভালো লাগা, খারাপ লাগা, কান্না-হাসি, ভালোবাসা-বেদনা সবই হরমোনের খেলা। মানুষের হরমোনই মানুষকে প্রভাবিত করে। বলা হয়ে থাকে, মানুষের যদি নিজের ওপরে নিয়ন্ত্রণ না থাকে, তার পারিপার্শ্বিক অবস্থা তাকে নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করে।
মানবদেহের চারটি গুরুত্বপূর্ণ হরমোন হচ্ছে ডোপামিন, অক্সিটকিন, সেরোটনিন ও এন্ড্রোফিন। এর মধ্যে ডোপামিনকে বলা হয় লোভী হরমোন। ডোপামিন প্রতিনিয়ত আনন্দ-উল্লাসের উৎস খুঁজে বেড়ায়। অনেক সময় ডোপামিনের চাহিদা মেটাতে গিয়ে অন্য হরমোনের প্রভাবকে রীতিমতো অবহেলা করা হয়।
ধরা যাক, একজন ঠিক করলো ফেসবুকে ২ মিনিটের কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করবে কিন্তু ফেসবুকে লগইনের পর অনেকটা মনের অজান্তেই সেখানে কাটিয়ে দিচ্ছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময়, ১০ মিনিটের জন্য গেম খেলতে স্মার্টফোন হাতে নিয়ে কেটে যাচ্ছে ৩ ঘণ্টা কিংবা ফাস্টফুড খাওয়া ছেড়ে দেবে এমন প্রতিজ্ঞা করার পরও প্রায় প্রতিদিনই খাচ্ছে ফাস্টফুড। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, সবকিছু জেনেও কেন মানুষ নিজের ক্ষতির দিকটাই বেছে নিচ্ছে?
এর পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা দুষছেন অনিয়ন্ত্রিত ডোপামিন হরমোনকে। চারপাশের ক্ষতিকর পণ্যগুলোকে এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যা ডোপামিন হরমোনকে উসকে দেয়। এতে করে মানুষ পণ্য ব্যবহার করতে গিয়ে নিজেই একসময় পণ্য হয়ে যায়। তখন আসলেই প্রশ্ন ওঠে, আমরা ফেসবুক বা ইন্টারনেট ব্যবহার করছি নাকি ইন্টারনেট বা ফেসবুক আমাদের ব্যবহার করছে। আমরা চর্বিযুক্ত খাবার খাচ্ছি নাকি খাবারগুলো দিনকে দিন আমাদের খেয়ে ফেলছে।
স্মার্টফোন দুনিয়ার কর্ণধার বলা হয় স্টিভ জবসকে। যে স্টিভ জবসের অ্যাপলের জন্য বাজারে এত চাহিদা, সেই জবস নিজেই তার সন্তানদের স্মার্টফোন ব্যবহার করতে দিতেন না। কারণ কি এমন উদ্ভট আচারণের? এর একমাত্র কারণ জবস জানেন আপনার পকেটে থাকা ফোনটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে আপনি সেটি কাজে যতটা না ব্যবহার করবেন, তার থেকে কয়েকগুণ বেশি ব্যবহার করবেন কোনো রকমের প্রয়োজন ছাড়া শুধু সময় নষ্ট করার জন্য।
মুক্তির উপায় কী?
ডোপামিনের এই খাই খাই স্বভাব থেকে মানুষ নিজেকে কীভাবে বাঁচাবে এর ওপরে সম্প্রতি থিবো মেরিসের একটি বই প্রকাশিত হয়েছে। যেখানে থিবো বলেছেন, মানুষ অভ্যাসের দাস। অভ্যাস বদলানোর জন্য দরকার কঠোর সাধনা। সেটা হতে পারে কয়েকদিনের কিংবা কয়েক মাসের। তবে মানুষ যদি তার হরমোনের ব্যাপারে সচেতন থাকে তাহলে সহজেই সে নিয়ন্ত্রিত ব্যবহার করতে পারবে।
সস্তা আনন্দের ডোপামিনকে পাত্তা না দিয়ে দীর্ঘসময় কষ্ট-ক্লেশের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত ফল পেতে হলে মানুষকে সবার আগে নিজের ব্যাপারে সচেতন হতে হবে। সক্রেটিসের সেই বিখ্যাত লাইন- ‘নিজেকে জানো।’ নিজের ব্যাপারে সচেতন থাকলে ডোপামিন সামাল দেয়া কঠিন কিছু না। কিন্তু ডোপামিনের ডাকে সাড়া দিয়ে প্রতিনিয়ত সময় নষ্ট করলে এক সময় নিজেই হতাশার সাগরে ডুবে যাবেন বলে মনে করেন থিবো মেরিস থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট সব বিশেষজ্ঞ।
