হোম আন্তর্জাতিক বিয়েতে অনাগ্রহ তরুণ-তরুণীদের, জাপানের অবস্থা দক্ষিণ কোরিয়ায়ও

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

জাপানের মতো অবস্থা তৈরি হয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ায়ও। দেশটিতে তরুণ-তরুণীদের মধ্যে বিয়ের ব্যাপারে অনীহা বাড়ছে। বলা হচ্ছে, বিয়েতে অনাগ্রহী তরুণ-তরুণীর সংখ্যা যে হারে বাড়ছে, তাতে ২০৫০ সাল নাগাদ দেশের ৪০ শতাংশ মানুষের কোনো পরিবার থাকবে না। অর্থাৎ, প্রতি পাঁচজনের দুজনই একাকী বসবাস করবে। নতুন এক জরিপে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

জাপানে সাম্প্রতিক এক জরিপে রেকর্ডসংখ্যক নারী ও পুরুষের মধ্যে বিয়ের বিষয়ে অনাগ্রহ দেখা গেছে, যা জাপানের জন্মহারের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে, জনসংখ্যা হ্রাসের কারণে দেশটির জনসংখ্যা ও কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা করছেন গবেষকরা।

জাপানের এই পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়ায়ও। স্ট্যাটিস্টিকস কোরিয়ার এক জরিপমতে, দেশের প্রায় অর্ধেক অবিবাহিত তরুণ-তরুণীর বিয়ের ব্যাপারে তাড়া নেই। বিয়ে না করার কারণ হিসেবে অর্থের অভাব ও চাকরির নিরাপত্তার অভাবের কথা বলেছেন তারা। ১২ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন যে তারা সন্তান লালন-পালনকে ‘বোঝা’ বোধ করেন।

উত্তরদাতাদের ২৫ শতাংশ দাবি করেছেন, তারা সঠিক জীবনসঙ্গী খুঁজে পাননি বা বিয়ে করার তাড়া অনুভব করেন না। দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় পরিসংখ্যান অফিস বলছে, ২০৫০ সাল নাগাদ দক্ষিণ কোরিয়ার যত মানুষ একাকী বা পরিবারহীন থাকবে, তা হবে ২০২০ সালের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ। এর ফলে পরিবার গঠন ও সংখ্যায় একটা বড় পরিবর্তন আসবে। এ কারণে জন্মহার ব্যাপকভাবে কমে যাবে।

বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়ার জনসংখ্যা ৫ কোটি ১৭ লাখ। স্ট্যাটিস্টিকস কোরিয়ার তথ্যমতে, ২০২০ সালে পরিবারহীন একাকী মানুষের সংখ্যা ছিল ৭২ লাখ, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৫.৫ শতাংশ। ২০৫০ সালের মধ্যে তা ৪০ শতাংশে গিয়ে ঠেকবে। ফলে এক সদস্যবিশিষ্ট পরিবার বৃদ্ধি পাবে, যা দেশটির প্রবীণ জনসংখ্যা আরও বাড়াবে।

সম্প্রতি জাপানের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব পপুলেশন অ্যান্ড সোশ্যাল সিকিউরিটি একটি সমীক্ষা প্রকাশ করেছে। ২০২১ সালের ওই সমীক্ষামতে, জাপানে পুরুষ ও নারীদের একটা বিরাট অংশ বিয়ের বন্ধনে নিজেকে আবদ্ধ করতে চাইছেন না।

২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২২-এর জানুয়ারিতে জরিপটি করা হয়। অংশ নেয় ২০ হাজার নাগরিক। বয়স ২০-৬০ বছরের মধ্যে। লিঙ্গসমতা সংক্রান্ত সরকারি শ্বেতপত্রে এটি প্রকাশ হয়। সমীক্ষা ফলাফলে বলা হয়, ৫৪ শতাংশ পুরুষ, ৬২ শতাংশ নারী ৩০ বছর বয়সে বিয়ে করেছেন। অবিবাহিত ৪৬ শতাংশ নারী-পুরুষ ত্রিশের মধ্যে বিয়ে করতে চান।

তবে ২৫ দশমিক ৫ শতাংশ পুরুষ, ২৫ দশমিক ৪ শতাংশ নারী অবিবাহিত থাকতে চান। ২০ বছর বয়সী ১৯ দশমিক ৩ শতাংশ তরুণ, ১৪ শতাংশ নারী বিয়ে করতে চান না। স্বাধীন থাকতে চাওয়া বিয়ে না করার কারণ বলে জানান জরিপে অংশ নেয়া সব বয়সী নারী-পুরুষ। এর পাশাপাশি সাংসারিক নানা ঝুটঝামেলার কথাও বলেছেন তারা।

এ ছাড়া নারীরা জানান, বিয়ের পর সংসারের কাজকর্ম, শিশু লালন-পালন, পরিবারের দেখভালের দায়িত্ব নিতে হয়, তাই বিয়েতে অনাগ্রহী। অন্যদিকে পুরুষরা জানিয়েছেন, আর্থিক সক্ষমতার অভাব, চাকরির অনিশ্চয়তা বিয়ে করতে না চাওয়ার অন্যতম কারণ। তা ছাড়া সংসারের নানা কাজকর্ম ও দায়িত্ব তো আছেই।

অন্যদিকে কমছে শিশু জন্মদানের হার। ২০২১ সালে জাপানে ৮ লাখ ১১ হাজার ৬০৪টি শিশু জন্মেছে। টানা ছয় বছর সর্বনিম্ন শিশু জন্মের হার। আরও কমবে বলে শ্বেতপত্রে সতর্ক করা হয়। পরিস্থিতি উত্তরণে বিয়ে, সন্তান জন্মদানের বিষয়ে ইতিবাচক প্রচারণার কথা বলা হয়।

নারী-পুরুষ যাতে বিয়েতে উৎসাহী, শিশু জন্মদানে আগ্রহী হয়, সে রকম পরিবেশ তৈরির কথা বলা হয়। তরুণ-তরুণীদের জন্য চাকরির নিশ্চয়তা, একক পরিবার গঠন, কর কমানোর মতো বিষয় বিবেচনায় নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

Khaleda

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন