হোম আন্তর্জাতিক বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গে বাংলাদেশি ওয়াসফিয়া নাজরীন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ কে-টুর চূড়ায় প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে পা রাখলেন এভারেস্ট বিজয়ী পর্বতারোহী ওয়াসফিয়া নাজরীন। খবর এএফপি।

শুক্রবার (২২ জুলাই) ওয়াসফিয়া নাজরীনের সঙ্গে কে-টু জয় করেছেন ইরানি আফসানেহ হেসামিফার্ড, লেবানিজ-সৌদি নাগরিক নেলি আত্তার ও পাকিস্তানের নাগরিক সামিনা বেগ। তারা প্রত্যেকেই নিজ নিজ দেশের প্রথম পর্বতারোহী হিসেবে কে-টু জয় করলেন।

৩৯ বছর বয়সী ওয়াসফিয়া গেল ১৭ জুলাই কে-টুর চূড়ায় উঠার জন্য যাত্রা শুরু করেন। রেনেটা লিমিটেডের পৃষ্ঠপোষকতায় এই অভিযানের নেতৃত্ব দিয়েছেন বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ও বিখ্যাত ৩ পর্বতারোহী- মিংমা তেনজি শেরপা, মিংমা ডেভিড শেরপা ও নির্মল পুরজা। এর আগে এই শৃঙ্গে কোনও বাঙালি পা রাখেননি। কে-টু শৃঙ্গ আরোহণে ভারতীয়দের উপর রয়েছে নিষেধাজ্ঞা। তবু জয়ের পালক এল বাঙালির ঘরে।

জুন মাসে ওয়াসফিয়া নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন, ‘ইসলামাবাদ থেকে আমার সালাম জানবেন সবাই। গত দশ বছর ধরে যে স্বপ্নের পিছু তাড়া করে চলেছি তা সত্যি হতে চলেছে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর গত ৫০ বছরে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে পাকিস্তান সরকারের ইস্যু করা মাউন্টেনিয়ারিং এবং ট্রেকিং পারমিশন পেয়েছি। অনেকগুলো মানুষের ধন্যবাদ প্রাপ্য এজন্য। তবে তার আগে অবশ্যই আমাকে ঘুমিয়ে নিতে হবে কারণ সামনে দীর্ঘ দুই মাসের কঠিন এক জার্নি অপেক্ষা করছে।

তিনি আরও লিখেছিলেন, ‘পুরো ব্যাপারটা স্বপ্নের মতো লাগছে। আমি নিজেকে নিয়ে গর্বিত কারণ ‘এটা কোনোভাবেই সম্ভব না’ এমনটা আমার মুখের ওপর বলা হলেও আমি হাল ছাড়িনি। অনেক ধকল সহ্য করে আমাকে এ সুযোগ এনে দেয়ার জন্য বাংলাদেশ, নেপাল, পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধুদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ।

যাত্রা শুরুর আগেও ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন ওয়াসফিয়া। তিনি বলেন, ‘আমরা আজ রাতে নিমসদাই, মিংমা তেনজি শেরপা এবং মিংমা ডেভিড শেরপার নেতৃত্বে কে-টুর জয়ের জন্য যাত্রা করছি। সব ঠিকঠাক থাকলে এক সপ্তাহের মধ্যেই সুখবর আসবে। কোনো খবর না থাকলেও, ভালো আছি জানবেন। আমি সবচেয়ে শক্তিশালী দলের সঙ্গে আছি তাই চিন্তা করবেন না। শুধু আমার জন্য জোর প্রার্থনা করবেন। আপনাদের সবার জন্য ভালোবাসা।’

এভারেস্টের পর বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ কে-টু। এটি কারাকোরাম পর্বতমালার সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ। বিশ্বে ৮ হাজার মিটারের বেশি উঁচু যতগুলো পর্বত রয়েছে তার মধ্যে ৫টিই পাকিস্তানে। এগুলোকে আরোহন করা যেকোনো পর্বতারোহীর জন্যই চূড়ান্ত কৃতিত্বের।

আজ অবধি বাংলাদেশ থেকে কোনও পর্বতারোহী কেটু শৃঙ্গ অভিযানে যাননি। ১৯৫৪ সালের পর থেকে মাত্র ৪২৫ জন এটির চূড়ায় উঠেছেন। এ পর্যন্ত গোটা বিশ্বের মাত্র ১৮ জন নারী কেটু শৃঙ্গে আরোহণ করতে পেরেছেন। এর পরে আজই যোগ হয়েছে আরও ১০ টি নাম। সেই তালিকায় যুক্ত হলেন ওয়াসফিয়া। বিশ্বের অন্যতম কঠিন ও বিপজ্জনক শৃঙ্গটি যে শুধু আরোহণের দিক থেকে কঠিন তা-ই নয়, পাকিস্তান সরকারের তরফ থেকেও আসে নানা বাধা। সে সব জয় করে স্বপ্নের শৃঙ্গে বাংলাদেশের পতাকা ওড়ালেন ওয়াসফিয়া।

এর আগে ওয়াসফিয়া দ্বিতীয় বাংলাদেশি নারী হিসেবে ২০১২ সালের ২৬ মে এভারেস্ট জয় করেন। এরপর বাংলাদেশের প্রথম পর্বতারোহী হিসেবে সাত মহাদেশের সাতটি সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গও জয় (সেভেন সামিট) করেন তিনি।

Khaleda

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন