হোম খেলাধুলা বিশ্বকাপের দল পরিচিতি : ২০০২ সালের স্মৃতি ফিরিয়ে আনতে পারবে কি দক্ষিণ কোরিয়া?

ফুটবল বিশ্বকাপ :

এশিয়ার ফুটবল পরাশক্তি দক্ষিণ কোরিয়া ২০০২ বিশ্বকাপে চমক দেখিয়ে উঠে গিয়েছিল সেমিফাইনালে। সে আসরে ইতালি, পর্তুগাল ও স্পেনের মতো দলকে হারিয়ে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিল এশিয়ান টাইগাররা। এরপর অবশ্য আর কখনোই সে সাফল্যের পুনরাবৃত্তি ঘটাতে পারেনি তারা। ২০১০ সালের পর ফের শেষ ষোলোয় জায়গা করে নিয়েছে এশিয়ান টাইগাররা। স্বপ্ন দেখছে ব্রাজিলকে হারিয়ে আরও দূরে যাওয়ার।

এশিয়ার পরাশক্তি দক্ষিণ কোরিয়া কাতার বিশ্বকাপে এশিয়ান দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে সফল। ২০০২ কোরিয়া-জাপান বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে উঠে চমক দেখায় তারা। এছাড়া ২০১০ বিশ্বকাপে দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠেছিল এশিয়ান টাইগাররা। দেশটির সবচেয়ে বড় তারকা ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে টটেনহ্যামের হয়ে খেলা সন হিউং-মিন। এছাড়াও আছেন লা লিগার ক্লাব মায়োর্কার হয়ে খেলা লি ক্যাং-ইন, উলভসের হোয়াং হি -চ্যাঙ, নাপলির কিম মিন-জির মতো তারকা।

একনজরে দক্ষিণ কোরিয়া ফুটবল দল:
ডাকনাম: তাইগেউক ওয়ারিয়ার (এশিয়ান টাইগার)
অংশগ্রহণ: ১১বার (১৯৫৪, ১৯৮৬, ১৯৯০, ১৯৯৪, ১৯৯৮, ২০০২, ২০০৬, ২০১০, ২০১৪, ২০১৮, ২০২২)
সেরা সাফল্য: চতুর্থ (২০০২ সাল)
র‍্যাঙ্কিং: ২৮
কোচ: পাওলো বেন্টো
অধিনায়ক: সন হিউং-মিন
বিশ্বকাপের গ্রুপ: গ্রুপ এইচ (প্রতিপক্ষ: পর্তুগাল, ঘানা, উরুগুয়ে)

কাতার বিশ্বকাপেও শক্তিশালী উরুগুয়ে ও দারুণ পারফরম্যান্স দেখানো ঘানাকে পেছনে ফেলে শেষ ষোলোয় উঠেছে দক্ষিণ কোরিয়া। গ্রুপ পর্বের তৃতীয় ম্যাচে হারিয়েছে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো-ব্রুনো ফার্নান্দেজের শক্তিশালী পর্তুগালকে।

বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ফল: বাছাই পর্বে এশিয়ান অঞ্চলের গ্রুপ ‘এ’তে ইরানের পেছনে থেকে দ্বিতীয় দল হিসেবে বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে দক্ষিণ কোরিয়া। বাছাই পর্বে ১০ ম্যাচের ৭টিতে জয় , ২ড্র ও ১হারে ২৩ পয়েন্ট অর্জন করে সন হিউং-মিনের দল।

সাম্প্রতিক ফর্ম: বিশ্বকাপের আগে সবশেষ ৯ ম্যাচের ৫টিতেই জয় পেয়েছে এশিয়ান টাইগাররা। এর মাঝে আছে চিলি, মিশর ও ক্যামেরুনের বিপক্ষে জয়।

কাতার বিশ্বকাপের এইচ গ্রুপে পর্তুগাল, উরুগুয়ে ও ঘানার সঙ্গে খেলে শেষ ষোলোয় জায়গা করে নিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। প্রথম ম্যাচে উরুগুয়ের বিপক্ষে ড্র করার পর দ্বিতীয় ম্যাচে ঘানার কাছে হেরে যায় সন হিউং-মিনের দল। তৃতীয় ম্যাচে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালকে হারিয়ে গ্রুপ রানার্স আপ হিসেবে শেষ ষোলোর টিকেট পায় তারা।

কোচের কৌশল: ২০১৮ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার কোচের দায়িত্ব নেন পর্তুগালের সাবেক কোচ পাওলো বেন্তো। ট্যাকটিশিয়ান হিসেবে মধ্যমাঠ থেকে গেম বিল্ডআপ করে খেলতে পছন্দ করেন তিনি। তার অধীনে দল ভালো কিছু জয় পেলেও বড় কোন শিরোপা আসেনি।

তার ট্যাকটিকসের বড় সমস্যা গেম বিল্ডআপ প্রক্রিয়া ধীরগতির হওয়ায় প্রতিপক্ষ সহজেই চেপে ধর‍তে পারে। গতিশীল ফুটবলের সামনে প্রায়ই এলোমেলো হয়ে যায় তার দল। ধীরগতির খেলায় প্রায়ই মধ্যমাঠের সঙ্গে আক্রমণভাগের দূরত্ব তৈরি হয়ে যায়।

মূল খেলোয়াড়:

সন হিউং মিন: দক্ষিণ কোরিয়ার প্রাণভোমরা সন হিউং-মিন। টটেনহ্যামের এই ফরোয়ার্ড এই প্রজন্মের অন্যতম সেরা ফুটবলারের অন্যতম। প্রিমিয়ার লিগের গত মৌসুমে ২৩ গোল করে প্রথম এশিয়ান ফুটবলার হিসেবে গোল্ডেন শু জেতেন তিনি।

দারুণ গতি ও ড্রিবলিং ক্ষমতা তাকে মাঠে অন্য খেলোয়াড়দের থেকে আলাদা করেছে। কাউন্টার অ্যাটাক বা ওয়ান টু ওয়ান পরিস্থিতিতে তিনি অত্যন্ত ভয়ঙ্কর। গোল করার পাশাপাশি গোল করানোতেও দক্ষ এই ফরোয়ার্ড খেলতে পারেন স্ট্রাইকার, সেকেন্ড স্ট্রাইকার বা উইঙ্গার হিসেবে।

কাতার বিশ্বকাপের ঠিক আগে ইনজুরিতে পড়ায় বিশ্বকাপে তার খেলা নিয়েই ছিল সংশয়। তবে সব শঙ্কা পেছনে ফেলে মাঠে নেমেছেন সন। এখনো নিজের সেরাটা দেখাতে না পারলেও সনের ওপর অগাধ আস্থা কোচ পাওলো বেন্তোর। ব্রাজিলের বিপক্ষেই জ্বলে উঠবেন ‘সনালদো’, এমনটাই আশা করছেন তিনি।

যার ওপর থাকবে চোখ:

লি ক্যাং-ইন: লা লিগার ক্লাব মায়োর্কায় খেলা অ্যাটকিং মিডফিল্ডার লি ক্যাং-ইন হতে পারেন কাতারে দক্ষিণ কোরিয়ার তুরুপের তাস। ২০১৯ ফিফা অনূর্ধ্ব -১৯ বিশ্বকাপে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জয়ী লি সে বছর জেতেন এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের এশিয়ান ইয়ং প্লেয়ার অফ দ্য ইয়ার পুরস্কার। জাতীয় দলের হয়ে এরই মধ্যে খেলে ফেলেছেন ৬টি ম্যাচ।

ইতিহাস: দক্ষিণ কোরিয়া বিশ্বকাপে প্রথমবার খেলে ১৯৫৪ এর আসরে। সেবার গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয় এশিয়ান টাইগাররা। এরপর দীর্ঘ বিরতি দিয়ে ১৯৮৬ সালে তারা দ্বিতীয়বারের মতো সুযোগ পায় গ্রেটেস্ট শো অন আর্থের মঞ্চে। তারপর থেকে টানা ৯টি বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে তারা। ১০ আসরে দেশটি দুবার পেরিয়েছে গ্রুপ পর্বের বাধা। ২০০২ সালে জাপানের সঙ্গে যৌথভাবে তারা আয়োজন করে এশিয়ার প্রথম বিশ্বকাপ। কিছু বিতর্ক বাদ দিলে দারুণ সফল সে আসরে সেমিফাইনাল খেলে তারা।

২০০২ বিশ্বকাপে গ্রুপ ডি’তে পর্তুগাল ও পোল্যান্ডকে হারিয়ে চমক দেখায় তারা। যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ড্র করে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউট পর্বে জায়গা করে নেয় দক্ষিণ কোরিয়া। শেষ ১৬ তে ইতালিকে অতিরিক্ত সময়ে ২-১ গোলে হারায়। এরপর কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেনকে পেনাল্টিতে হারায়। তবে সেমিতে জার্মানির কাছে ১-০ গোলে হেরে গেলে শেষ হয় কোরিয়ান রূপকথা। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে তুর্কিদের কাছে ২-৩ গোলে হেরে যায়।

২০১৮ বিশ্বকাপে জার্মানিকে গ্রুপ পর্বে ২-০ গোলে হারায় দক্ষিণ কোরিয়া, যা বিশ্বকাপে তাদের সবচেয়ে বড় জয়। এছাড়াও ২-০ গোলে জয় পায় পোল্যান্ড ও গ্রিসের বিপক্ষে।

Khaleda

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন