বাণিজ্য ডেস্ক :
২৬তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা এবার বরাবরের চেয়ে ব্যতিক্রম। এবার মেলার আসর বসেছে পূর্বাচলের বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী প্রদর্শনী কেন্দ্রে। সে কারণে মেলার পরিসর আগের তুলনায় হয়েছে ছোট। তাই স্টলে নিয়োগপ্রাপ্ত স্বল্পকালীন বিক্রয়কর্মীর কাজের সুযোগও কম।
ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় সবসময়ই দেখা যায়, খণ্ডকালীনের জন্য হলেও অনেকের কর্মের সংস্থান হয়। মেলায় অংশ নেওয়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্টল বা প্যাভিলিয়নে বিক্রয়কর্মী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় অনেক যুবক-যুবতীকে। এখানে ভাল কর্মক্ষমতার উপর ভিত্তি করে তাদের চাকুরি আবার স্থায়ীও করা হয়।
তবে এবারের মেলার ভ্যেনু আগারগাঁও এর তুলনায় ছোট হওয়ায় মেলায় অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানের পরিধিও ছোট হয়ে গিয়েছে। এতে বিক্রয়কর্মী নিয়োগের পরিমাণও কমে এসেছে। এতে স্থায়ীভাবে চাকুরি পাওয়ায় সম্ভাবনাও কমে এসেছে।
মেলায় খণ্ডকালীন চাকুরি পাওয়ায় বিষয়ে আইসক্রিম বিক্রয় প্রতিষ্ঠান সেভরির একজন নারী বিক্রয়কর্মী সোহা বলেছেন, আমি কিছুদিন আগে এইচএসসি পাস করেছি। এখন যেহেতু পরীক্ষা শেষ হয়েছে, তাই আমার জন্য বাণিজ্য মেলায় চাকুরি করার একটি ভাল সুযোগ ছিল। অনেকের সঙ্গে ইন্টারভিউ দেওয়ার পর আমি এখানে চাকুরির সুযোগ পাই। প্রতিষ্ঠান থেকে আমাদের জানানো হয়েছে যদি আমাদের পারফরমেন্স ভাল হলে আমাদের স্থায়ীভাবে চাকুরির সুযোগ দেওয়া হবে। অবশ্যই বেশ প্রতিযোগিতা রয়েছে। তবে আমি পুরোদমে চেষ্টা করছি।
স্থান পরিধি কম হওয়ায় বিক্রয়কর্মী তুলনামূলক কম নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে আরেক জন নারী বিক্রয়কর্মী বলেছেন, আমি একজন শিক্ষার্থী। এখানে পার্টটাইম হিসেবে ৩০ থেকে ৪০ দিন কাজ করতে হবে। এ সময়সীমা শেষ হলে আমার পারফরমেন্সের ওপর ভিত্তি করে আমায় চাকুরির সুযোগ হবে। এখানে বিক্রয়কর্মী হিসেবে ঢোকার সময় অনেক প্রতিযোগিতা ছিল। আমরা মত ৬০ জন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ইন্টারভিউ দিয়েছেন, তার মধ্যে ৩০ জনকে মেলায় কাজ করার সুযোগ দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে সেভরির সেলস সাপোর্টের সিনিয়র অফিসার তাহমিদ হাসান তকি বলেছেন, বিক্রয়কর্মী মূলত এজেন্সির মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হয়। বিক্রয়কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে আমাদের অবশ্যই কিছু রিকোয়ারমেন্ট রয়েছে। যেমন স্মার্ট হতে হবে, আইসক্রিম সম্পর্কে জ্ঞান থাকতে হবে, যারা আগেও কাজ করেছে, যাদের কথা বার্তায় স্মার্টনেস রয়েছে। শুরুতে এর ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরে পণ্যের বিষয়ে জ্ঞান দিতে আমরা তিনদিনে ট্রেনিং করে থাকি। এখানে বেশি কিছু নয়, পণ্যগুলো ও তার মূল্য সম্পর্কে সমূহ জ্ঞান দেওয়া হয়।
বিক্রয়কর্মীদের স্থায়ীভাবে নিয়োগের বিষয়ে তিনি বলেছেন, আমাদের পরিচালনায় নিয়োজিত দল বিক্রয়কর্মীদের পারফরমেন্স যাচাই করেন। যেমন- কথাবার্তা, বিক্রয়ক্ষমতা, তার ব্যবহার ইত্যাদি বিবেচনা করে হয়। দিন শেষে তাদের একটি মূল্যয়ন করে থাকি। এরপর ৩ থেকে ৪ জনকে বাছাই করে আমাদের বিভিন্ন আইসক্রিম পার্লারে নিয়োগ দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতাও বিবেচনা করা হয়। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের বেশি প্রাধান্য দিয়ে থাকি। তখন তার এক বছরের অভিজ্ঞতা থাকলে, আমরা তাকে হেড অফিসে নিয়ে আসি।
