খেলাধূলা ডেস্ক :
ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজে একটি ম্যাচেও জয় পায়নি বাংলাদেশ। তবে শেষ দুই ম্যাচে ব্যাটিংয়ে উন্নতিটা দৃশ্যমান। ব্যাটিংটা ঠিকঠাক হলেও বোলিংয়ে ভালো করেনি টাইগাররা। ফিল্ডিংও হয়নি আপ টু দ্য মার্ক। তবে অধিনায়ক সাকিব আল হাসান বলছেন, এই সিরিজ থেকে বিশ্বকাপের দল নিয়ে পেয়েছেন পরিষ্কার ধারণা।
‘বাংলা ওয়াশ’ ত্রিদেশীয় সিরিজে ম্যাচ জেতা হলো না বাংলাদেশের। সিরিজের চারটি ম্যাচেই হারলেও ইতিবাচক দিক খুঁজে পেয়েছেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। প্রথম দুই ম্যাচে বাজে পারফরম্যান্সের পর শেষ দুই ম্যাচে বেশ ভালো ব্যাটিং করেছে টাইগাররা। শেষ দুই ম্যাচেই ১৬০-এর বেশি রান করেছে বাংলাদেশ। ভালো শুরুর পর ভালো ফিনিশিং দিতে পারলে হয়তো আরও বেশি রান করতে পারত টাইগাররা। তবে টি-টোয়েন্টিতে ‘শিশু’ বাংলাদেশ শ্রীরামের অধীন উন্নতি করছে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ফল পক্ষে না এলেও এভাবেই নিজেদের উন্নতি করে যেতে চায় টাইগাররা। বিশ্বকাপে খেলতে চায় নিজেদের ব্র্যান্ডের ক্রিকেট।
ত্রিদেশীয় সিরিজে জয় না পেলেও শেষ দুই ম্যাচের ব্যাটিং নিয়ে আশাবাদী সাকিব আল হাসান। পাকিস্তানের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে আগে ব্যাট করে বাংলাদেশ নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে সংগ্রহ করে ১৭৩ রান। সাকিব ও লিটনের ৬৮ ও ৬৯ রানের ঝড়ো ইনিংসে বাংলাদেশ যেভাবে এগোচ্ছিল তাতে রানটা হতে পারত আরও বড়। সাকিবের বিদায়ের পর শেষ দুই ওভারে রান তুলতে ব্যর্থ হওয়ায় ফিনিশিংটা হয়নি মনের মতো। ম্যাচ শেষে সাকিব তুলে ধরেন দলের ফিনিশিং দুর্বলতার কথা।
সাকিব বলেন, ‘আমাদের জন্য কঠিন ছিল। তবে আমরা আমাদের সেরা ক্রিকেটটাই খেলেছি আজ। শেষ দিকে আরও কিছু রান হতে পারত, তবে এ ধরনের ঘটনা হয়। আমরা মিডল ওভারে দারুণ খেলেছি, যার কিনা এতদিন অভাব ছিল। যদি ইনিংসের শুরুতে জানতাম স্কোরবোর্ডে ১৭৩ রান তুলব, তবে তা সাদরে গ্রহণ করতাম। তবে পুরো টুর্নামেন্টে কিছুটা উন্নতি লক্ষ করা গেছে, যা কিনা আমাদের জন্য ইতিবাচক দিক।’
সাকিব জানান, জয়শূন্য সিরিজ থেকেই বিশ্বকাপের দল নিয়ে পরিষ্কার ধারণা পেয়েছে টিম ম্যানেজমেন্ট। তবে, বোলিং পারফরম্যান্স নিয়ে দুশ্চিন্তায় সাকিব। তার মতে, বোলিং ডিপার্টমেন্টে ব্যাপক উন্নতি করতে হতে হবে বাংলাদেশ দলকে।
‘বিশ্বকাপে কেমন একাদশ নিয়ে মাঠে নামব তার একটা পরিষ্কার ধারণা পেয়েছি, যা কিনা আমাদের জন্যই ভালো। এখন টুর্নামেন্টে কেমন পারফর্ম করব, তা আমাদের ওপরই নির্ভর করছে।’
ক্রাইস্টচার্চে ব্যাটিং অর্ডার নিয়ে অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়েছে। ব্যাটারদের পজিশন নিয়ে মোটামুটি একটা ধারণাও পাওয়া গেছে। তবে, বোলিং নিয়ে মাথাব্যথা সবার। বিশেষ করে ডেথ বোলিংয়ে যে সাফল্য পাচ্ছে না কেউই।
সাকিব বলেন, ‘আরও কিছু রান করতে পারলে ভালো হতো। তবে, ১৭৫ রানের মতো সংগ্রহ নিয়ে বোলিং পারফরম্যান্স আরও ভালো হওয়া দরকার ছিল। বোলিংটা আরও আপ টু দ্য মার্ক হতে হবে আমাদের।’
ব্যাট হাতে অনেক দিন থেকেই সময়টা ভালো যাচ্ছিল না সাকিবের। অধিনায়ক পারছিলেন না ব্যাট হাতে দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে। তবে ত্রিদেশীয় সিরিজে পরপর দুই ম্যাচে অর্ধশতক হাঁকিয়ে ফর্মে ফেরার ইঙ্গিত দিলেন মিস্টার সেভেন্টি ফাইভ। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৪৪ বলে ৭০ রানের পর পাকিস্তানের বিপক্ষেও ৪২ বলে ৬৮ রান। ব্যাট হাতে ভালো করলেও বল হাতে ছিলেন সাদামাটা। বিশ্বকাপের আগে কাজ করতে চান এই জায়গাটা নিয়ে।
বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ‘দলের জন্য রান করা তো আমার কাজের অংশই। যদিও বোলিংয়ে ভালো করিনি। এই একটা জায়গা নিয়ে আমার কাজ করতে হবে।’
