জাতীয় ডেস্ক:
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে ডিজিটাল সেবা চালু হয়েছে। বন্দরের ইমিগ্রেসন ব্যবস্থার সঙ্গে ডিজিটাল সেবা যুক্ত করে ব্যাগেজ স্ক্যানার মেশিন স্থাপন করায় অবশেষে দুর্ভোগ কমেছে পাসপোর্ট যাত্রীদের। এতে সময় বাঁচার পাশাপাশি জটিলতাও কমেছে বলে জানান যাত্রীরা।
ডিজিটাল সেবা নিয়ে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ব্যাগেজ স্ক্যানার মেশিনটি বাংলাবান্ধা শুল্ক স্টেশনে স্থাপন করা হয়। একই সময় ইমিগ্রেশন ভবনে পাসপোর্ট চেকিং পয়েন্টে বসানো হয় ই-পাসপোর্ট গেট।
মনজুর হোসেন নামে এক পাসপোর্টধারী যাত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ব্যাগেজ স্ক্যানার মেশিন স্থাপন করায় আমাদের সময় ও দুর্ভোগ অনেকটাই কমেছে।
ভারতের আসামের বাসিন্দা শিক্ষার্থী মেহেজাবিন সাংবাদিকদের বলেন, আমি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছি। একসময় বাংলাবান্ধায় ব্যাগেজ স্ক্যানার মেশিন না থাকায় অনেক সমস্যায় পড়তে হতো। কারণ আমাদের নারীদের ব্যাগ তল্লাশিতে লজ্জায় পড়তে হতো।
একই কথা জানান সুলতানা পারভিন নামে আরেক নারী। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ডিজিটাল এই সেবা নারীদের অনেক উপকারে আসছে। কারণ ব্যাগে হাত না দিয়ে মেশিনে দ্রুত তল্লাশি করা যাচ্ছে।
ইদ্রিস আলী নামে স্থানীয় এক ব্যবসায়ী সাংবাদিকদের বলেন, স্ক্যানার মেশিনের কাজ শুরু হলেও এখনো ই-গেইটের কার্যক্রম শুরু হয়নি। আমরা ই-গেইটটিও দ্রুত চালুর দাবি জানাচ্ছি।
বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের আমদানি- রফতানি গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক কুদরত-ই খুদা মিলন সাংবাদিকদের বলেন, বন্দরে এ ডিজিটাল সেবা যুক্ত হওয়ায় অনেকটাই এগিয়ে যাবে এ বন্দর। কারণ এতে মানুষের হয়রানী কমে আসার পাশাপাশি সময়ও কম লাগছে।
বন্দরের ইমিগ্রেসন ওসি নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালক করছে। পাসপোর্টধারী যাত্রীদের ব্যাগে কী রয়েছে তা মুহূর্তের মধ্যে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জানতে পারছেন।
বন্দরের রাজস্ব কর্মকর্তা ইমরুল হোসেন পাটোয়ারী সাংবাদিকদের বলেন, দেশের চোরাচালান প্রতিরোধ করতে ও রাজস্ব সুরক্ষায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে ব্যাগেজ স্ক্যানার মেশিনটি স্থাপন করা হয়েছে। এতে করে বিভিন্ন দেশ থেকে আনা অবৈধ মালামাল আমরা দ্রুত শনাক্ত করতে পারছি।
ডিজিটাল সেবা নিয়ে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ব্যাগেজ স্ক্যানার মেশিনটি বাংলাবান্ধা শুল্ক স্টেশনে স্থাপন করা হয়। একই সময় ইমিগ্রেশন ভবনে পাসপোর্ট চেকিং পয়েন্টে বসানো হয় ই-পাসপোর্ট গেইট। বর্তমানে ই-গেইট সেবা চালু না থাকলেও এই মাসে (জুলাই) তা উদ্বোধন করবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলে জানান ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ।
