হোম অর্থ ও বাণিজ্য বন্দরের পণ্য প্যালেটাইজেশনের সিদ্ধান্তে দ্বিমত ব্যবসায়ীদের

বাণিজ্য ডেস্ক :

অগ্নিদুর্ঘটনার পাশাপাশি চুরি ঠেকাতে আমদানি-রফতানি করা সব পণ্যই কাঠের কাঠামোর মাধ্যমে জাহাজে পরিবহনের নির্দেশ দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। এ নির্দেশনা মানা না হলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানিয়েছে তারা। তবে বন্দরের এমন সিদ্ধান্তে দ্বিমত জানিয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)।

চট্টগ্রাম বন্দরের আমদানি বা রফতানি সব পণ্যই উন্মুক্ত পদ্ধতিতে পরিবহন করা হচ্ছে। আমদানি করা পণ্য যেমন কনটেইনার থেকে এনে ডেলিভারির জন্য শেডে আনা হচ্ছে, তেমনি রফতানি পণ্যও একইভাবে জাহাজীকরণ প্রক্রিয়া চলছে।

কিন্তু আমদানি কিংবা রফতানি সব পণ্য উন্মুক্ত পদ্ধতির পরিবর্তে প্যালেটাইজেশন বা কাঠের কাঠামোভুক্ত করতে এরই মধ্যে নির্দেশনা দিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, ‘এলসিএল কার্গোতে অনেক চালানের মালামাল যখন থাকে, তখন তা যেন ঠিকভাবে যাচাই-বাছাই করা হয় এবং চুরি বা খোয়া না যায়, সে বিষয়গুলো নিশ্চিতের জন্য এবং চালানকারীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে আমরা এ ধরনের প্রজ্ঞাপন জারি করেছি।’

সব পণ্য প্যালেইট করা কঠিন উল্লেখ করে সাইফ মেরিটাইম লিমিটেডের চিফ অপারেটিং অফিসার আবদুল্লাহ জহির বলেন, ‘এফসিএল পণ্য যেহেতু সরাসরি ডেলিভারি হয়, আমরা মনে হয় এফসিএলের ক্ষেত্রে প্যালেটাইজেশন যতটা-না গুরুত্বপূর্ণ, এলসিএলের ক্ষেত্রে হয়তো সেটি আরেকটু বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’

সম্প্রতি বন্দরের এ সিদ্ধান্ত বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত শিপিং মালিকদের জানিয়ে দেয়া হয়েছে। এ অবস্থায় বিপজ্জনক কার্গো ছাড়া অন্য কোনো পণ্য কাঠের কাঠামো দিয়ে পরিবহন সম্ভব নয় বলে জানিয়ে বন্দরকে চিঠি দিয়েছে শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন।

এ বিষয়ে সংগঠনটির চেয়ারম্যান সৈয়দ মোহাম্মদ আরিফ বলেন, ‘যেসব কার্গো প্যালেটাইজ করা দরকার, সেটি সঠিকভাবে করতে হবে। আর প্যাকেজগুলোও সঠিকভাবে করতে হবে। কাজেই এফসিএল ও এলসিএল ১০০ শতাংশ প্যালেটাইজ করে আনতে হবে, আমি এটি মনে করি না। কারণ, এটি আনা সম্ভব নয়।’

বন্দরের এ সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বেশি বেকায়দায় পড়তে যাচ্ছে দেশের পোশাকশিল্প। কাঁচামাল আমদানি ও তৈরি পোশাক শক্ত কাগজের প্যাকেটের পাশাপাশি পলিথিন ব্যাগ এবং হ্যাঙ্গারের মাধ্যমে রফতানি হয়। তাই এ সিদ্ধান্তের প্রতি দ্বিমত জানিয়ে বন্দরকে চিঠি দিয়েছে বিজিএমইএ।

সংগঠনটির সহসভাপতি রকিবুল আলম চৌধুরী বলেন, ‘আমার বন্দরের কাছে অনুরোধ, তারা যেন আমাদের সঙ্গে বসে একটি বাস্তবিক সিদ্ধান্ত নেন, যে এটি আদৌ সম্ভব কি না। কারণ, আমাদের দৈনিক হাজার হাজার লাখ কার্টন যায়। এর মধ্যে যদি আমাদের আলাদাভাবে আরেকটি খরচ বেড়ে যায়, তাহলে এটি আমাদের পক্ষে কোনোভাবেই সম্ভব নয়।’

চট্টগ্রাম বন্দর বছরে গড়ে ৩২ লাখ কনটেইনার এবং ১১ কোটি মেট্রিক টন কার্গো পণ্য হ্যান্ডলিং করছে, যার ৯৮ শতাংশই সম্পন্ন হয় কার্টন-প্যাকেট-ল্যাসিং এবং হ্যাঙ্গার পদ্ধতিতে। প্রতিবছর বাংলাদেশ ৮০ থেকে ৯০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য যেমন আমদানি করে, ঠিক তেমনি রফতানি করছে অন্তত ৬০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য। আর বন্দরের এ প্রজ্ঞাপন মানতে গেলে আমদানি ও রফতানি খরচ কয়েক গুণ বেড়ে যাবে, এমনটিই বলছেন ব্যবসায়ীরা। তাই এ প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহারের দাবি তাদের।

Khaleda

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন