হোম অন্যান্যসারাদেশ ফের রক্তাক্ত খলিশাখালী, বৃদ্ধসহ ৩ জনকে কুপিয়ে জখমের ঘটনায় মামলা

স্টাফ রিপোর্টার :

ডজন ডজন মামলার আসামী, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও ভূমিদস্যুদের অভয়ারণ্য দেবহাটার খলিশাখালীতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বৃদ্ধসহ একই পরিবারের তিনজনকে কুপিয়ে জখমের ঘটনায় মামলা হয়েছে। রবিবার সকালে খলিশাখালীতে এ সশস্ত্র হামলা ও মারপিটের ঘটনাটি ঘটে। এসময় চালতেতলা ঢালীপাড়া গ্রামের মৃত মফেজ ঢালীর ছেলে ছমিরউদ্দীন ঢালী (৬৫), তার ছেলে রফিকুল ঢালী (৩৫) এবং ভাগ্নে ইউসুফ গাজী (২৫) কে নৃশংসভাবে পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করে সন্ত্রাসী ও ভূমিদস্যুরা। আহতদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় বর্তমানে তাদেরকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

এদিকে এঘটনার পর রাতেই ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে আহত বৃদ্ধের বড় ছেলে শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে মারপিট ও হামলায় নের্তৃত্বে থাকা ১২ জন ভূমিদস্যু ও সন্ত্রাসীদের নাম উল্লেখসহ আরও অন্তত ১০/১২ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করে দেবহাটা থানায় মামলাটি (নং-০৩) দায়ের করেন। দায়েরকৃত মামলাটিতে চারকুনির মৃত আকরাম গাজীর ছেলে ও ভূমিহীন জনপদের মূর্তিমান আতঙ্ক ইউপি সদস্য ইসমাইল হোসেন, তার অপর দুই ভাই মুজাহিদ এবং মারুফসহ চালতেতলা গ্রামের আয়ুব আলী গাজীর ছেলে শফিকুল ইসলাম ওরফে কালু, তার অপর দুই ভাই রফিকুল ইসলাম, ফয়জুল ইসলাম, কাওছার গাজীর ছেলে রফিকুল ইসলাম, জামাতা বিকারুল ইসলাম, মৃত আরশাদের ছেলে রবিউল ইসলাম, মৃত আলেক মোড়লের ছেলে মাসুম মোড়ল, খলিশাখালী গ্রামের মৃত ফেরাজউল্লাহ মোড়লের ছেলে বাবুল, আশাশুনির তোয়ারডাঙ্গা গ্রামের আনোয়ার ইসলামের ছেলে ফরহাদকে এজাহারনামীয় আসামী করা হয়েছে।

একাধিক সূত্র জানায়, খলিশাখালী নমক ওই জনপদের বিস্তৃত প্রায় ১৩২০ বিঘা সম্পত্তির বর্তমানে অন্তত তিন’শ জন রেকর্ডিয় মালিক রয়েছে। যুগযুগ ধরে এসকল মালিকেরা ওই জনপদে চিংড়ি ও বিভিন্ন প্রজাতির সাদা মাছ চাষের মৎস্য ঘের করে আসছিল। ওই জনপদের মূর্তিমান আতঙ্ক, অস্ত্রধারী ভূমিদস্যু চারকুনির আকরাম গাজীর ছেলে ইসমাইল মেম্বর, বাবুরাবাদের রুহুল আমিনের ছেলে হত্যা, গুম, চাঁদাবাজি, ডাকাতিসহ কমপক্ষে ১০ মামলার পলাতক আসামী আকরাম ডাকাত, তার অপর সহযোগী কালু ডাকাত, নওয়াপাড়ার অস্ত্রধারী আব্দুল গফুর ওরফে গফুর মাস্তানের নের্তৃত্বে গেল বছরের ১০ সেপ্টেম্বর ভোররাতে মুহুর্মুহু গুলি ও বোমা বর্ষনের মাধ্যমে এলাকা জুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি ও জমির মালিকদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে খলিশাখালি নামক ১৩২০ বিঘা জমির মৎস্য ঘের জবরদখল করে নেয়। সেই থেকে সেখানকার মৎস্যঘের গুলোর কোটি কোটি টাকার মাছ লুটসহ ওই জনপদে অস্ত্রবাজির রাজত্ব কায়েম করে চলেছে সন্ত্রাসী ও ভূমিদস্যুরা। আর জবরদখল হয়ে যাওয়া রেকর্ডিয় সম্পত্তি পুনরুদ্ধারে জমির মালিকেরা বারবার জেলা প্রশাসনের দারস্থ হলেও, একাধিক মামলা মোকদ্দমা চলমান থাকায় আইনী জটিলতার কারনে ভূমিদস্যুদের উচ্ছেদে জেলা প্রশাসনের পদক্ষেপ মুখ থুবড়ে পড়ে।

সূত্রগুলো আরও জানায়, জবরদখল পরবর্তী প্লট প্রতি মোটা অংকের টাকা নিয়ে ওই জমিতে কয়েক’শ কথিত ভূমিহীনকে বসিয়ে দেয় এসকল ভূমিদস্যু ও সন্ত্রাসীরা। তারপর থেকে পুলিশ-প্রশাসনকে ম্যানেজ এবং উচ্ছেদাভিযান ঠেকানোর নামে সেখানে বসবাসরত পরিবার গুলোর কাছ থেকে মাঝেমধ্যেই লাখ লাখ টাকা চাঁদা উত্তোলন করে পকেটে ভরে আসছিল তারা। এমনকি এসব সন্ত্রাসীদের শেল্টার দেয়া এবং প্রশাসনের নাম করে দেবহাটা উপজেলা পরিষদের একজন জনপ্রতিনিধি ওই জনপদ থেকে দফায় দফায় ৮৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে সম্প্রতি একাধিক সংবাদ মাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। কয়েকদিন আগে প্রশাসনকে ম্যানেজ করতে ওই জনপ্রতিনিধিকে ২০ লাখ টাকা দেয়ার কথা বলে খলিশাখালীতে বসবাসরত পরিবার গুলোর কাছ থেকে ফের চাঁদাবাজি শুরু করে ইসমাইল মেম্বরসহ অন্যান্য ভূমিদস্যুরা। এতে অস্বীকৃতি জানালে ভূমিদস্যু ও সন্ত্রাসীরা একের পর এক নীরিহ ব্যাক্তিদের ওপর হামলা, জখমসহ তাদের জমির প্লট ফের জরবদখল করে নিতে শুরু করে। এরই জের হিসেবে রবিবার সকালে ইসমাইল মেম্বর, আকরাম ডাকাত, শরিফুল ইসলাম ওরফে কালু ডাকাত, আব্বাস ডাকাতের নের্তৃত্বে ভূমিদস্যু বাহিনীর সদস্য আসাদুল, বাবলু, বিকারুল, খাজরার সাবেক ইউপি সদস্য ফারহাদ, মুজাহিদ, মারুফসহ তাদের সাঙ্গপাঙ্গরা বৃদ্ধ ছমিরউদ্দীন ঢালীর বাড়িতে হামলা চালিয়ে প্রকাশ্যে তিনিসহ তার পরিবারের তিন সদস্যকে কুপিয়ে জখম করে বলে জানিয়েছে সূত্রগুলো।

এব্যাপারে দেবহাটা থানার ওসি শেখ ওবায়দুল্যাহ বলেন, খলিশাখালীতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে হামলা ও তিনজনকে কুপিয়ে জখমের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। আসামীদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

Khaleda

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন