ফকিরহাট (বাগেরহাট) প্রতিনিধি :
বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলা কৃষি বিভাগের তত্ত্বাবধায়নে এই প্রথম বৃহৎ পরিসরে রাইস ট্রান্সপ্লান্টারে ধানের চারা রোপন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ফলে কৃষকের জমিতে শ্রমিক সংকট লাঘব, উৎপাদন খরচ কম ও স্বল্প পুজিতে অধিক ফলন পাওয়ার যে স্বপ্ন তা অনেকাংশ পূরণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে অত্র অঞ্চলের কৃষকরা কৃষিতে আরও একধাপ এগিয়ে যাবে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে স্বল্প পুজিতে অধিক ফসল ঘরে তুলতে কৃষকদের কোন সমস্যা হবে না।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কৃষি প্রনোদনা কার্যাক্রমের আওতায় সমলয় চাষাবাদের উদ্দেশ্যে ট্রেতে চারা উৎপাদন করার জন্য উপজেলা কৃষি বিভাগ ব্যাপক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। যার অংশ হিসাবে তারা এই প্রথম বৃহৎ পরিসরে রাইস ট্রান্সপ্লান্টারে ধানের চারা রোপন কার্যক্রম শুরু করেন।
প্রথমে উপজেলা বেতাগা ইউনিয়নের মাসকাটা বিল ও বাহিরদিয়া ইউনিয়নের হোচলা গ্রামের শিল্পির মোড়ে অবস্থিত একটি বিলে এ কার্যাক্রম পরিচালনা করেন। বেতাগার মাসকাটা বিলে ৩৮জন চাষি ও হুচলা গ্রামের শিল্পির মোড়ের বিলে ৩৮জন চাষি সহ মোট ৭৬জন চাষিকে প্রায় ৫০একর জমিতে জলক রাজ ও বেবিলন-২ ধানের চারা রোপন করেছন। এই পদ্ধতিতে চারা উৎপাদন করে রাইস ট্রান্সপ্লান্টার মেশিনের সাহায্যে চারা রোপন করলে কৃষকরা লাভবান হবেন।
এই কার্যাক্রমে মুলত যে সমস্ত কৃষক তাদের জমিতে শ্রমিক পাচ্ছেন না,তাদের শ্রমিক সংকট লঘব হওয়ার পাশাপাশি উৎপাদন খরচ কম ও কম বয়সী চারা রোপনের জন্য ফলন বৃদ্ধি পাবে। স্থানীয় চাষি শেখ আসাদুজ্জামান, শেখ তরিকুল ইসলাম, শেখ মাহাম্মুদ আলী, শেখ কুতুব উদ্দিন, জাহাংগীর শেখ, সুলতান শেখ ও ইব্রাহিম শেখ সহ একাধিক চাষি বলেন, এই পদ্ধতিতে চাষাবাদ করলে চাষিরা লাভবান হবেন বেশি, কারণ ইহাতে শ্রমিক সংকট নিরসন, উৎপাদন খরচ কম ও স্বল্প পুজিতে অধিক ফলন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এতে কৃষকরা বেশি উপকৃত হবেন। উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ নাছরুল মিল্লাত বলেন, উপজেলা বেতাগা ইউনিয়নের মাসকাটা বিলের ৩৮জন চাষি ও বাহিরদিয়া ইউনিয়নের হুচলা গ্রামের ৩৮জন চাষি এবার প্রায় ৫০একর জমিতে এই পদ্ধতিতে চাষাবাদ শুরু করছেন। আগামীতে এর সংখ্যা আরো বৃদ্ধি পেতে পারে। এ ধারা অব্যাহত রাখলে এই অঞ্চলের কৃষকরা আরও বেশি লাভবান হবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
s
