খেলাধূলা ডেস্ক :
বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে হাফ ম্যারাথন, ম্যারাথন, আল্ট্রা রানের পাশাপাশি নাইট রানকেও জনপ্রিয় করার লক্ষ্যে প্রথমবারের মতো ‘নাইট রান’ আয়োজন করতে যাচ্ছে ঢাকা ইউনিভার্সিটি রানার্স কমিউনিটি (ডিইউআরসি)।
বৃহস্পতিবারের (১৪ এপ্রিল) এ আয়োজনে অংশগ্রহণ করবেন দেশের ৫৫ জন রানার্স বা দৌড়বিদ। মূলত সংক্ষিপ্ত সময়ের নোটিশে এই সংখ্যক রানার্সকে রেজিস্ট্রেশনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
১০ কিলোমিটারের এই ইভেন্টটি অনুষ্ঠিত হবে হাতিরঝিলে। সব রানার পূর্বনির্ধারিত রাত ১১টা ৩০ মিনিটে হাতিরঝিলের পুলিশ প্লাজা কনকর্ডের সামনে রিপোর্ট করবেন। পুলিশ প্লাজা কনকর্ডের সামনের জায়গাটি হবে ইভেন্টের স্টার্টিং পয়েন্ট। রানার রিপোর্ট করার পর আয়োজকরা সঙ্গে সঙ্গে বিব নম্বর বিতরণ করে দেবেন। রাত ১২ টায় রান শুরু হবে। রানাররা স্টার্টিং পয়েন্ট থেকে নির্দিষ্ট ট্র্যাকের দিকে ৫ কিলোমিটার রান করে পুনরায় স্টার্টিং পয়েন্টে আসবেন। এভাবে দুইটি লুপে শেষ হবে ১০ কিলোমিটার রান। প্রত্যেক রানারকে পুরো ট্র্যাকের ধারণা দিয়ে দেবে ইভেন্ট আয়োজকরা।
আয়োজকরা জানিয়েছে, ইভেন্টে কোনো প্রাইজমানি বা পোডিয়াম থাকবে না। প্রত্যেক রানারকে উল্টোপথে হাতের বাম দিকে থেকে একজন/দুজন করে পেছনে পেছনে রান করতে বলা হচ্ছে। রানিং এর মাঝে ট্র্যাকজুড়ে রানারদের প্রাণবন্ত রাখতে, উৎসাহ এবং সহযোগিতা করতে পর্যাপ্ত সংখ্যক ভলান্টিয়ার থাকবে। ভলান্টিয়ার সাপোর্টের পাশাপাশি রানারদের জন্যে হাইড্রেশন সাপোর্ট দেওয়া হবে। হাইড্রেশন হিসেবে থাকবে খেজুর, কমলা, স্যালাইন, গ্লুকোজ, পিনাট বার এবং পর্যাপ্ত পানি ইত্যাদি। এছাড়া মেডিকেল সাপোর্ট হিসেবে থাকবে প্রয়োজনীয় কিছু ওষুধ, স্প্রে’র ব্যবস্থা এবং ওয়ান টাইম ব্যান্ডেজ।
আয়োজকরা আরও বলছেন, পুরো ১০ কিলোমিটার ট্র্যাকে রানারদের জন্যে শতভাগ নিরাপত্তা থাকবে। এ বিষয়ে হাতিরঝিল থানাকেও অবহিত করা হয়েছে। তবে বাসা থেকে রেস গ্রাউন্ড পর্যন্ত আসা যাওয়ার মাঝে কোনো রানার অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার শিকার হলে সেটির দায় দায়িত্ব কোনোভাবেই ডিইউআরসি নেবে না।
ইভেন্ট আয়োজকরা রেস গ্রাউন্ডে তাবুর ব্যবস্থা করবে এবং একই সঙ্গে নামাজ পড়ার জন্যেও আলাদা ব্যবস্থা করবে বলে জানিয়েছেন। এছাড়াও রান শেষে রানারদের মাঝে ক্রেস্ট বিতরণ করা হবে। ক্রেস্ট বিতরণ শেষে সেহরির খাবারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে, যেন রমজান মাস উপলক্ষে মধ্যরাতে কোনো রানার খাবারের সংকটে না পড়েন।
ঢাকা ইউনিভার্সিটি রানার্স কমিউনিটির এডমিন এবং ‘DURC 10K Night Run 2022’-এর রেস ডিরেক্টর মো. ইসতিয়াক উদ্দিন জানান, শারীরিকভাবে ফিট এবং সুস্থ থাকার জন্য রানিং, সাইক্লিং, সুইমিং খুবই জরুরি। বাংলাদেশে রানিংটাকে প্রমোট করার জন্যে তিনি নিরলস কাজ করে যেতে চান। পাশাপাশি তিনি চান বিদেশের মতো বাংলাদেশেও নাইট রানের ইভেন্ট আয়োজন হোক, নাইট রান জনপ্রিয় হোক। প্রতি বছর ডিইউআরসি এ ধরনের নাইট রানের আয়োজন করবেন বলেও জানিয়েছেন।
এ ইভেন্টের রেজিস্ট্রেশন ফি হিসেবে প্রত্যেক রানারের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে এবং পুরো ইভেন্টে কোনো ধরনের স্পন্সর থাকছে না।
