আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইরানে গণহত্যাকারী ইসরাইল ও তাদের সহযোগী যুক্তরাষ্ট্র আগ্রাসন শুরু করার পর পাল্টা হামলায় সাত মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে বলে ওয়াশিংটন স্বীকার করেছে। যদিও এটি প্রকৃত সংখ্যা নয়, মূলত কয়েশ সৈন্যের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি তেহরানের।
এরই মধ্যে এল বড় খবর। যুক্তরাষ্ট্রের আরও ১৩ সেনা সদস্যকে হত্যা করেছে ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক। ইরান সমর্থিত এই স্বশস্ত্র গোষ্ঠী জানিয়েছে, তারা গত ১২ দিনে ২৯১টি সামরিক অভিযান চালিয়েছে এবং এই হামলায় ১৩ মার্কিন সৈন্য নিহত ও আরও কয়েক ডজন আহত হয়েছে।
আজ বুধবার (১১ মার্চ) এক বিবৃতিতে প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোর এই জোট ঘোষণা করেছে, তারা গত ২৪ ঘণ্টায় ৩১টি অভিযান পরিচালনা করেছে, যেখানে ইরাক ও এই অঞ্চলের মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করতে কয়েক ডজন ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।
বিবৃতিতে দাবি করা হয়, গত ১২ দিনে গোষ্ঠীটি পরিচালিত মোট অভিযানের সংখ্যা ২৯১-এ পৌঁছেছে, যার ফলে ১৩ মার্কিন সেনা নিহত এবং আরও কয়েক ডজন আহত হয়েছে, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
ইরাকি গোষ্ঠীটি ইরানবিরোধী আগ্রাসনে অংশ নেওয়ার বিরুদ্ধে ইউরোপীয় দেশগুলোকেও সতর্ক করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিশ্বশক্তিগুলো মুক্ত মানুষের ওপর নিজেদের আধিপত্য চাপিয়ে দিয়ে ‘জাতিগুলোর মর্যাদা ও স্বাধীনতাকে’ দমন করার চেষ্টা করছে।
এতে আরও বলা হয়, ‘জায়নিস্ট এবং আমেরিকান শত্রু’ ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে তাদের মিত্রদের সম্পৃক্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। গোষ্ঠীটি যোগ করেছে যে, এই আগ্রাসনে অংশগ্রহণকারী যেকোনো দেশকে শত্রু হিসেবে গণ্য করা হবে এবং ইরাকসহ এ অঞ্চলে তাদের বাহিনী ও স্বার্থগুলো প্রতিশোধমূলক হামলার বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) এক ঘোষণায় ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক জানায়, তাদের যোদ্ধারা দক্ষিণ ইরাকের উত্তর বসরা প্রদেশে শত্রুর একটি উন্নত ড্রোন ভূপাতিত করেছে। গোষ্ঠীটি জানিয়েছে, তারা এ অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর একটি এমকিউ-৯ ড্রোন ধ্বংস করেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, এমকিউ-৯ রিপার হিসেবে চিহ্নিত চালকবিহীন ড্রোনটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল এবং বসরা প্রদেশের উত্তরাঞ্চলে ‘উপযুক্ত অস্ত্র’ ব্যবহার করে সেটি নামিয়ে আনা হয়েছে।
সর্বশেষ এ পরিস্থিতি এমন এক সময়ে তৈরি হলো যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর নতুন করে বিমান হামলা শুরু করে; তারও আট মাস আগে তারা দেশটির ওপর উস্কানিমূলক হামলা চালিয়েছিল।
ওয়াশিংটন ও তেল আবিব ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনি এবং শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের গুপ্তহত্যা করে এক জঘন্য সন্ত্রাসবাদ উসকে দিয়েছে। এখন পর্যন্ত কয়েকশ নারী ও শিশুসহ ১২০০-এরও বেশি বেসামরিক নাগরিক শহীদ হয়েছেন।
এর জবাবে ইরান দ্রুত ইসরাইল অধিকৃত অঞ্চল এবং এই অঞ্চলের দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের বৃষ্টি বর্ষণ করে পাল্টা আঘাত হেনেছে।
সূত্র: প্রেস টিভি।
