বাণিজ্য ডেস্ক :
পাট নিয়ে মহা দুশ্চিন্তায় পড়েছে ফরিদপুরের কৃষকেরা। পানি সংকটের কারণে একদিকে পাট জাগ দেওয়া যাচ্ছে না। অন্যদিকে খেতে পাট শুকিয়ে মরে যাচ্ছে। অনেকেই ময়লা ও অপরিস্কার ডোবায় পাট জাগ দেবার কারণে পাটের আশ কালচে আকার ধারণ করছে। তাই কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ার আশঙ্কায় পাট নিয়ে কৃষকের স্বপ্ন ফিকে হয়ে আসছে।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত বছরের তুলনায় এ বছর ফরিদপুর জেলায় রেকর্ড পরিমাণ ৮৫ হাজার ৮৬৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। পাট লাগানোর পর প্রথমদিকে বৃষ্টিপাত হওয়ায় পাটের বাম্পার ফলনের স্বপ্ন দেখেন কৃষক। কিন্তু পাট বড় হওয়ার পর বৃষ্টিপাত না হওয়া এবং জমি থেকে পানি নেমে যাবার কারণে মাঠের পর মাঠ পাট খেত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এদিকে পাট পরিপক্ত না হওয়ায় তা কেটেও নিতে পারছেন না তারা। ফলে অনেক স্থানে জমির পাট শুকিয়ে মরে যাচ্ছে।
নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া ইউনিয়নের শশা গ্রামের কৃষক আব্দুল মজিদ বেপারী, কাসেম মাতুব্বর, রমজান শেখ জানান, গত বছর পাটের দাম ভালো পাওয়ায় এ বছর অধিক জমিতে পাটের আবাদ করেছিলেন। কিন্তু খরার কারণে পাট মাঠেই শুকিয়ে যাচ্ছে। তাছাড়া পাট জাগ দেবার মতো পানি নেই কোথাও। অনেকেই পাট কেটে মাঠে, রাস্তায় এবং বাড়িতে ফেলে রাখছেন। অনেকেই ভ্যান-নসিমনে করে দুরের স্থানের কুমার নদে নিয়ে পাট জাগ দেবার চেষ্টা করছেন।
ফুলসূতি গ্রামের সারোয়ার মাতুব্বর, রমেন বিশ্বাস, কাইমুদ্দিন মাতুব্বর জানান, তীব্র রোদের কারণে পাট গাছ শুকিয়ে যাচ্ছে। এসব পাট কোনো কাজেই আসবে না। শুধুমাত্র জ্বালানি হিসাবে ব্যবহার করা যাবে।
পাট আবাদ করে এবার ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়বেন বলে জানান তারা।
সালথা উপজেলার ধর্মদী গ্রামের আব্দুর রবক মাতুব্বর বলেন, আবাদ করেছি। অনাবৃষ্টি আর প্রচণ্ড খরতাপের কারণে পাট গাছ খর্বাকৃতির হয়ে আছে। জমির বেশিরভাগ পাট গাছ পুড়ে গেছে।
জুঙ্গুরদী গ্রামের ওহাব মিয়া বলেন, আমি ৩ বিঘা জমিতে পাটের আবাদ করেছি। জমি বর্গা নেয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন স্থান থেকে ঋণ নিয়েছি। এবার আমি পাট আবাদ করে সর্বশান্ত হবার পথে। আমার মতো অনেক কৃষক এবার লোকসানের মধ্যে পড়বেন।
তিনি বলেন, এক বিঘা জমিতে ১২ থেকে ১৪ মণ পাট উৎপাদন হয়। একবিঘা পাট আবাদ করতে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা হয়। গত বছর ভালো দাম পাওয়ায় এ বছর অধিক জমিতে পাটের আবাদ করেছেন কৃষকেরা। খরার কারণে পাট গাছ নষ্ট হবার পাশাপাশি পাট জাগ দেবার মতো পানি নেই। ফলে পাট চাষিরা দিশাহারা অবস্থায় রয়েছেন।
এ বছর পাট আবাদ করে কৃষকেরা চরম লোকসানের মধ্যে পড়বে উল্লেখ করে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র পাট ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ বলেন, পানির অভাবে পাট জাগ না দিতে পারায় এ সমস্যার মধ্যে পড়েছে কৃষকেরা। সরকারের উচিত কৃষকদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়া। তা না হলে আগামীতে পাটের রাজধানী হিসাবে পরিচিত ফরিদপুরে পাটের আবাদ কমে যাবে। এছাড়া সরকারি পাটকল বন্ধ থাকায় কৃষকেরা আরও বেশি বিপদে পড়েছেন। ফড়িয়াদের কবলে পড়ে প্রকৃত পাট ব্যবসায়ী ও কৃষকেরা দিশেহারা অবস্থায় দিন কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন।
