জাতীয় ডেস্ক :
গান কিংবা কবিতায় এক আনা-দুই আনার কথা শুনলেও বাস্তবে হয়তো অনেকেই এসব মুদ্রা দেখেননি। পাই, আনা, কড়ির প্রচলন বহু বছর আগেই উঠে গেছে। তবে এমন অনেক দুর্লভ মুদ্রা সংরক্ষণ করছেন গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের রাশেদুল ইসলাম।
২০ বছর ধরে বিশ্বের ১২৩টি দেশের মুদ্রাসহ প্রাচীন অনেক মুদ্রার সংগ্রহশালা গড়ে তুলেছেন পেশায় নরসুন্দর রাশেদুল। ইতিহাস-ঐতিহ্য সংবলিত দুর্লভ এসব মুদ্রা নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতেই তার এমন উদ্যোগ। ইতোমধ্যে গাইবান্ধার বিভিন্ন স্কুলে প্রদর্শনীর মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের এসব মুদ্রার সঙ্গে পরিচয় করিয়েছেন তিনি।
রাশেদুল বলেন, ‘বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই পাই, আনা, কড়ি প্রভৃতি মুদ্রার সঙ্গে পরিচিত নয়। এসব মুদ্রার প্রচলনও নেই। কিন্তু এগুলোর মধ্যে ইতিহাস-ঐতিহ্য আছে। আমি চাই নতুন প্রজন্ম সেই ইতিহাস জানুক। তাই ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘ ২০ বছর ধরে আমি এসব মুদ্রা সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি গরিব মানুষ। অর্থের অভাবে মুদ্রাগুলো সঠিকভাবে সংরক্ষণ করতে পারিনি। এসব সংরক্ষণের জন্য যদি কোনো ঘর বা একটি নির্দিষ্ট স্থান থাকত, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এগুলো সম্পর্কে ভালোভাবে জানতে পারত। এ ছাড়া সরকার বা কোনো বিত্তবান ব্যক্তির সহযোগিতা পেলে দেশে প্রতিটি বিদ্যালয়ে এসব মুদ্রার প্রদর্শনী করা সম্ভব হতো।’
এদিকে, রাশেদুলের এই সংগ্রহশালা সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক মো. অলিউর রহমান।
তিনি বলেন, ‘এসব মুদ্রা সংরক্ষণ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ কারা হবে।’
