হোম জাতীয় পাঁচ হাজার টাকা ঋণ দিয়ে ৫ লাখ টাকা দাবি, কৃষকের আত্মহত্যা

জাতীয় ডেস্ক :

মাদারীপুরের ডাসারে বাড়ির পাশের গাছ থেকে বাবুল মল্লিক নামে এক কৃষকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (৯ ডিসেম্বর) সকালে উপজেলার নবগ্রামের কৃষকের নিজ বাড়ির পাশে গাছ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

কৃষকের পরিবারের দাবি, সুদে আনা ৫ হাজার টাকা স্ট্যাম্পে ৫ লাখ টাকা লিখে ২ বিঘা জমি দখল করেছে সুদ কারবারি। এ কারণে আত্মহত্যা করেছেন কৃষক।

স্বজনদের অভিযোগ, তিনবছর আগে বাবুল মল্লিক পাশের আলিশাকান্দি গ্রামের হাকেম আলী শিকদারের লিটন শিকদারের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা ধার নেন। এ টাকা দিতে না পারায় প্রায়ই বাবুলকে ডেকে নিয়ে করা হয় মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন। একপর্যায়ে জোরপূর্বক সুদ-আসলে স্ট্যাম্পে ৫ লাখ টাকা লিখে চাপ দেন দাদন ব্যবসায়ী লিটন। এমনকি কৃষকের চাষাবাদের ৫ বিঘা জমিও দখলে নেয় সে। দিশেহারা হয়ে বাড়ির পাশের বাগানে শুক্রবার ভোরে আত্মহত্যা করেন ওই কৃষক।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে দাদন ব্যবসায়ী লিটন, স্বপন, শওকত মিস্ত্রি ও আবুবক্কর শেখ সুদে টাকা দিয়ে মানুষের সঙ্গে নানাভাবে প্রতারণা করে আসছে। এমন ঘটনায় অভিযুক্তদের বিচার দাবি করেছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।

নিহত বাবুল মল্লিকের স্ত্রী বুলবুলি মল্লিক বলেন, প্রায়ই লিটন, স্বপন, আবু বক্কর শেখ ও শওকত মিস্ত্রি আমার স্বামীকে মোবাইলে ডেকে নিয়ে যেতো। মানসিক ও শারীরিকভাবে তারা নির্যাতন করেছে। তাদের এই অত্যাচারেই আমার স্বামী মারা গেছে। এ ঘটনার উপযুক্ত বিচার চাই।

বাবুল মল্লিকের ছেলে তূর্য মল্লিক বলেন, আমি এইচএসসি পরীক্ষার্থী। বাবা ছিল সংসারের একমাত্র আয়ের উৎস। তার মৃত্যুতে পুরো পরিবার এখন অসহায়। কী করে সংসার চালাব, বুঝতেই পারছি না।

স্থানীয় বাসিন্দা পিংকু মল্লিক বলেন, ময়নাতদন্ত শেষে শুক্রবার রাতে বাবুলের শেষকার্য (দাহ) বাড়ির উঠানেই করা হয়। পরিবারে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। এই পরিবারকে কে দেখে রাখবে। তারা তো এখন অসহায়।

মাদারীপুরের ডাসার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হাসানুজ্জামান জানান, এ ব্যাপারে থানায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। দাদন ব্যবসায়ীদের এমন নানা সমস্যার বিষয়ে থানায় বেশ কয়েকবার মীমাংসাও করা হয়েছে। কিন্তু তাদের দৌরাত্ম্য থামছেই না।

এদিকে এই ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত লিটন শিকদারের বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। ব্যবহৃত মোবাইলে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে তার মা আনোয়ার বেগম বলেন, আমার সন্তান কেউই এমন ঘটনায় জড়িত না। বাবুল মল্লিকের পরিবারের লোকজন মিথ্যা কথা বলছে।

Khaleda

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন