জাতীয় ডেস্ক :
পিরিয়ডের সময় সহজে স্যানিটারি ন্যাপকিন সংগ্রহে ছাত্রীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে চট্টগ্রামের সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজের ৪টি স্থানে বসানো হয়েছে ভেন্ডিং মেশিন।
এটিএম কার্ডের মতো একধরনের স্মার্টকার্ড দিয়ে পাঞ্চ করলেই শিক্ষার্থীরা পেয়ে যাবেন স্যানিটারি ন্যাপকিন। এসব মেশিন থেকে যেকোনো শিক্ষার্থী ৫ টাকা ও সর্বোচ্চ ১০ টাকায় স্যানিটারি ন্যাপকিন সংগ্রহ করতে পারবেন। ব্যতিক্রমী এমন উদ্যোগে খুশি ছাত্রীরা।
বুধবার (২৯ জুন) কলেজ প্রশাসনের উদ্যোগে মহসিন কলেজের ৪টি স্থানে বসানো ভেন্ডিং মেশিন উদ্বোধন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। উদ্বোধনের পর ভেন্ডিং মেশিন ব্যবহারে শিক্ষার্থীদের অভ্যস্ত করাতে এক হাজার স্যানিটারি ন্যাপকিন বিনা মূল্যে দেয়া হবে বলে জানায় কলেজ কর্তৃপক্ষ।
কলেজ সূত্রে জানা যায়, কলেজের বাণিজ্য ভবন, নতুন একাডেমিক ভবন, কলাভবন ও বিজ্ঞান ভবনে বসানো হয়েছে ভেন্ডিং মেশিন। এই মেশিনগুলো ঢাকার ভার্টিকেল ইনোভেশন কোম্পানির মাধ্যমে কলেজ এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের (সিইডিপি) আওতায় নিজস্ব অর্থায়নে ওয়াশ ব্লকসহ বসানো হয়।
এদিকে, মালয়েশিয়ার নটিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কোলাবরেশনের মাধ্যমে ভেন্ডিং মেশিন স্থাপনের এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেছেন মহসিন কলেজের শিক্ষকরা। তা ছাড়া এসব মেশিন পরিচালিত হবে কোম্পানির নিজস্ব সার্ভারের মাধ্যমে। শিক্ষার্থীরা কার্ডের সাহায্যে স্যানিটারি ন্যাপকিন সংগ্রহ করতে পারবেন। এ ছাড়াও যেসব শিক্ষার্থীর কাছে কার্ড থাকবে না, তারা বিকাশের মাধ্যমে স্যানিটারি ন্যাপকিন সংগ্রহ করতে পারবেন। যদিও এক হাজার পিস স্যানিটারি ন্যাপকিন শেষ হলেই বিকাশের মাধ্যমে সংগ্রহ করার পদ্ধতি শুরু হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘কয়েক বছর আগেও যেখানে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে পারতাম না, সেখান থেকে বেরিয়ে এসে আমাদের কলেজে এত দারুণ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। আমরাও চাই সবার মাঝে সচেতনতা তৈরি হোক। আমাদের কলেজের মতো বাকি কলেজেও যেন এ ধরনের উদ্যোগ নেয়া হয়।’
সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক কামরুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের একটা দাবি ছিল। বিশেষ করে ছাত্রীদের। যেহেতু আধুনিক প্রযুক্তি আছে, তারপর আমাদের শিক্ষকরা উদ্যোগ নিয়ে দীর্ঘদিনের চেষ্টায় আমরা সফলভাবে উদ্বোধন করতে পেরেছি। চট্টগ্রামে সরকারি কলেজগুলোর মধ্যে আমাদের কলেজেই প্রথম এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে ভেন্ডিং মেশিন আরও বাড়ানোর প্রচেষ্টা থাকবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আপাতত চারটা দূরবর্তী ভবনে মেশিনগুলো বসিয়ে কার্যক্রম শুরু করেছি। কয়টি স্যানিটারি ন্যাপকিন নেয়া হয়েছে, কতটি স্টকে রয়েছে এবং কোন কোন শিক্ষার্থী নিয়েছে, তা সার্ভারে লিপিবদ্ধ হবে। আমরা কোম্পানি থেকে স্যানিটারি ন্যাপকিন সংগ্রহের জন্য এক হাজার কার্ড নিয়েছি। এক হাজার শিক্ষার্থীকে এ কার্ড দেয়া হবে। আমরা প্রথমদিকে এক হাজার পিস স্যানিটারি ন্যাপকিন ফ্রি দেয়া শুরু করেছি। যাতে তাদের মধ্যে ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা আর অভ্যস্ততা তৈরি হয়।’
কোন কোম্পানির ন্যাপকিন রাখা হচ্ছে–এমন প্রশ্নের জবাবে অধ্যক্ষ বলেন, ‘শুরুতে সেনোরা আর জয়া কোম্পানির স্যানিটারি ন্যাপকিন দেয়া হয়েছে। পরবর্তী সময়ে যদি ছাত্রীরা অন্য কোনো ব্র্যান্ডের ন্যাপকিন ব্যবহার করতে চায়, তাহলে তারও ব্যবস্থা করা হবে। আমাদের ছাত্রীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। যাতে তাদের পড়াশোনায় কোনো ব্যাঘাত না ঘটে।’
