জাতীয় ডেস্ক :
ঢাকাই সিনেমার আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমনি বুধবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগার থেকে মুক্তি পান। মাদক মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে ১৯ দিন এই কারাগারেই বন্দি ছিলেন নায়িকা। পরীমনির জামিনের খবরের পর থেকে সকাল থেকেই বনানীর লেকভিউয়ের ওই বাড়ির সামনে তার অনেক ভক্ত-অনুরাগী ও সাংবাদিকরা ভিড় করেন।
সকাল থেকেই পরীমনির বাড়ির মূল ফটক তালাবন্দি করে ভেতর থেকে পলিথিন টাঙিয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া গণমাধ্যমকর্মীরা বাড়ির ভেতরের ছবি তোলার চেষ্টা করলে মূল ফটকে নীল রঙের পলিথিন ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।
গ্রেপ্তার থেকে জামিনের এই সময়ে পুলিশ, সাংবাদিক ও ভক্ত-অনুরাগীদের ভিড়ে অতিষ্ঠ চিত্রনায়িকা পরীমনির বনানীর লেকভিউয়ের ফ্ল্যাটের মালিকরা। এ বিষয়ে পরীমনির ফ্ল্যাটের মালিককে অভিযোগ জানিয়েছেন পাশের ফ্ল্যাটের লোকজন।
বুধবার (১ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমকে পাশের ফ্ল্যাটের এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আগামী তিন মাসের মধ্যে পরীমনিকে বাড়ি ছাড়ার নোটিশ দেওয়া হবে। তার ফ্ল্যাট মালিকের সঙ্গে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন অন্য ফ্ল্যাটের মালিকরা।
পরীমনির পাশের ফ্ল্যাটের আরেক বাসিন্দা জানান, ‘৬ তলায় পরীমনি একাই ভাড়া থাকেন। অন্যগুলোতে ফ্ল্যাট মালিকরা নিজেদের পরিবার নিয়ে থাকেন। বর্তমানে পরীমনির কারণে অন্যদের নানা রকম প্রশ্ন ও স্বজনদের কাছে জবাবদিহিতার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। বাচ্চারাও এসব নিয়ে বিরক্ত। একটি পরিবারের জন্য এ বাড়ির সুনাম নষ্ট হতে বসেছে। এটি আসলে মেনে নেয়া যায় না। এই এলাকাটি ভদ্রলোকের জন্য।’
তিনি বলেন, ‘রোজ রোজ পুলিশ, সাংবাদিক। এসব দেখে অভ্যস্ত নয় তারা। এতে করে আমরা বিব্রত। এসব বিষয় বিবেচনা করে পরীমণির ফ্ল্যাটের মালিককে অভিযোগ জানানো হয়েছে। দ্রুত যেন ব্যবস্থা নেন তিনি।’
এর আগে মঙ্গলবার (৩১ আগস্ট) জামিন পান তিনি। ৫০ হাজার টাকা মুচলেকায় পুলিশ রিপোর্ট দেওয়ার আগ পর্যন্ত তাকে জামিন দেওয়া হয়। কিন্তু পরীমনির জামিনের কাগজপত্র সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে কারাগারে না পৌঁছানোয় সেদিন তার মুক্তি মেলেনি।
শুধু জামিনের জন্য এর আগে তিনবার আবেদন করেছিলেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। রাষ্ট্রপক্ষের জোরালো আপত্তির মুখে কোনোবারই সাড়া পাননি। উল্টো তিন দফায় ৭ দিন রিমান্ডে নেওয়া হয় পরীকে।
বারবার জামিন আবেদনের শুনানি পেছানোয় বিড়ম্বনায় পড়েন পরীমনি। আদালতে গণমাধ্যমকে উদ্দেশ্য করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন তিনি। তৃতীয় দফায় রিমান্ড শুনানি শেষে নিয়ে যাওয়ার সময় টানাহেঁচড়ায় পড়েও যান পরী।
এরপর চতুর্থ দফায় জজ আদালতে জামিন চান পরীমনি। কিন্তু শুনানির তারিখ দেরিতে দেওয়ায় আবারও ঝুলে যায় পুরো প্রক্রিয়া।
অবশেষে উচ্চ আদালতের হস্তক্ষেপে মঙ্গলবার শুনানি হয়। ৫০ হাজার টাকা মুচলেকায় পুলিশ রিপোর্ট দেওয়ার আগ পর্যন্ত জামিন দেন আদালত।
