হোম ফিচার পদ্মা সেতু হওয়ায় বিএনপির মুখে চুনকালি পড়েছে: তথ্যমন্ত্রী

রাজনীতি ডেস্ক :

পদ্মা সেতুকে বাংলাদেশের গর্ব ও সক্ষমতার প্রতীক উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেছেন, সেতু হয়ে যাওয়ায় বিএনপির মুখে চুনকালি পড়েছে।

তিনি বলেন, পদ্মা সেতু আমাদের গর্বের, অহংকারের এবং সক্ষমতার প্রতীক। এই সেতু নিয়ে অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে। বর্তমান সরকার এটি করতে পারবে না বলে বিএনপির আস্ফালন ছিল।

রোববার (২৯ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর সচিবালয়ের নিজ কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ড. মুহাম্মদ ইউনুস সেতুর বিরোধিতা করেছিলেন। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন বন্ধে অপতৎপরতা চালিয়েছেন তিনি। বিএনপি চায়নি পদ্মা সেতু হোক। সেতু হয়ে যাওয়ায় বিএনপির মুখে চুনকালি পড়েছে।

সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল-ছাত্রলীগের সংঘর্ষের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এখন পদ্মা সেতু ঘিরে মানুষের মধ্যে উচ্ছ্বাস যাতে বিনষ্ট হয়, মানুষের দৃষ্টি যাতে ভিন্নখাতে নেয়া যায় সেজন্য বিএনপি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ করছে। আবার অগ্নিসংযোগ নৈরাজ্য চালানো হলে কঠোর হাতে দমন করা হবে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হলে তার দায় খালেদা জিয়াকে নিতে হবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, যেহেতু বেগম জিয়া মুক্ত রয়েছেন, বেগম জিয়াকে মুক্তভাবে জীবন যাপনের সুযোগ করে দেয়া হয়েছে; এখন আবার যদি অগ্নিসংযোগ এবং নৈরাজ্যের সৃষ্টি হয়, তার দায়দায়িত্ব বেগম জিয়ার ওপর পড়বে। সে জন্যই বেগম জিয়াকে আবার কারাগারে পাঠানোর দাবি উঠেছে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ উসকানি দেয়নি, উসকানি দিয়েছে ছাত্রদল। তারা যখন বহিরাগতদের নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করে তখন সাধারণ শিক্ষার্থীরা তো উত্তেজিত হবেই।

প্রসঙ্গত, পদ্মা সেতু দেশের পদ্মা নদীর ওপর নির্মাণাধীন একটি বহুমুখী সড়ক ও রেল সেতু। এর মাধ্যমে মুন্সিগঞ্জের লৌহজংয়ের সঙ্গে শরীয়তপুর ও মাদারীপুর যুক্ত হবে। ফলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে উত্তর-পূর্ব অংশের সংযোগ ঘটবে।

দুই স্তরবিশিষ্ট স্টিল ও কংক্রিট নির্মিত ট্রাস ব্রিজটির ওপরের স্তরে থাকবে চার লেনের সড়ক পথ এবং নিচের স্তরটিতে একটি একক রেলপথ। পদ্মা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা নদীর অববাহিকায় ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের ৪১টি স্প্যান ইতোমধ্যে বসানো হয়েছে, ৬.১৫০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য এবং ১৮.১০ মিটার প্রস্থ পরিকল্পনায় নির্মিত হচ্ছে দেশটির সবচেয়ে বড় সেতু।

পদ্মা সেতু নির্মাণকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি।

খরস্রোতা পদ্মা নদীর ওপর ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা নিজস্ব অর্থায়নে নির্মাণ হচ্ছে স্বপ্নের এ সেতু। ২০১৪ সালে পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়।

 

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন