জাতীয় ডেস্ক:
পদ্মা সেতু চালুর পর বাগেরহাটের পর্যটন খাতে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। গত এক বছরে দেশি-বিদেশি পযর্টক সমাগম কয়েকগুণ বেড়েছে। ফলে সরকারের রাজস্ব অর্জিত হয়েছে দ্বিগুণেরও বেশি।
দেশের দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে অন্যতম বাগেরহাটের ষাটগম্বুজ মসজিদ এবং সুন্দরবন। হাজার বছরের ইতিহাস আর ঐতিহ্য বহনকারী এই দর্শনীয় স্থানগুলো দেখতে প্রতি বছর ভিড় করেন লাখ লাখ পর্যটক।
তবে পদ্মা সেতু চালুর মধ্য দিয়ে দক্ষিণের জেলা বাগেরহাটের পর্যটন খাতের দৃশ্যপট পাল্টে গেছে। ফেরি ঘাটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার ভোগান্তি না থাকায় প্রতিদিন হাজার হাজার দেশি-বিদেশি দর্শনার্থী ঐতিহ্যবাহী ষাটগম্বুজ মসজিদ ও সুন্দরবনের বিভিন্ন পর্যটন স্পট দেখতে আসছেন। দিনের মধ্যে এসব স্পট ঘুরে গন্তব্যে ফিরে যেতে পারছেন তারা। আর তাই দর্শনার্থীর সংখ্যাও গত এক বছরে বেড়েছে দ্বিগুণ।
এক পর্যটক বলেন, ‘এ অঞ্চলে অনেকবার আসার পরও আমি আগে কখনো ষাটগম্বুজ মসজিদ দেখতে আসার সুযোগ পাইনি। কারণ যাতায়াতেই বেশি সময় ব্যয় হয়ে যেত। বর্তমানে একদিনেই এখানকার সব পর্যটন স্পট ঘুরে আবার ফিরে যেতে পারছি। যা বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের জন্য বেশ ভালো একটি দিক।’
আরেকজন পর্যটক বলেন, পদ্মা সেতুর কারণে যাতায়াত সহজ হয়েছে। আর যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণেই পর্যটকরা একদিনেই এসে ঘুরে দেখে ফিরে যেতে পারছে।
এক বিদেশি পর্যটক বলেন, ‘আমি এখানে প্রথম বারের মতো এসেছি। আশা করছি, এইটিই শেষবার নয়। আবার আসা হবে। কারণ বাংলাদেশ অসম্ভব সুন্দর।’
এদিকে পর্যটকদের সুবিধার্থে সব ধরনের সুযোগ সুবিধা নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাগেরহাট জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আজিজুর রহমান। তিনি বলেন, পদ্মা সেতু উদ্বোধনের আগে যত সংখ্যক পর্যটক আসত, বর্তমানে তার ১০ গুণ বেড়ে গেছে। ২১টি জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থার অপার সম্ভাবনা ও বিপুল ক্ষেত্র এবং উন্নয়নের সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের দেয়া তথ্যমতে, গত এক বছরে ষাটগম্বুজ দেখতে ৪ লাখ ৯৬ হাজার ৮ জন দেশি ও ১ হাজার ৪৮২ জন বিদেশি দর্শনার্থী এসেছেন। এতে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৮৭ লাখ টাকা। আর সুন্দরবন থেকে রাজস্ব এসেছে ১ কোটি ৮৭ লাখ ৬৭ হাজার টাকা। যা গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।
