বাণিজ্য ডেস্ক :
স্বপ্নের পদ্মা সেতুতে শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সপ্তম দিনের মতো যানবাহন চলাচল অব্যাহত রয়েছে। সেতুটি যাতায়াতে দুর্ভোগ কমিয়ে ও সময় বাঁচিয়ে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিাঞ্চলের ২১টি জেলার মানুষকে সমৃদ্ধিশালী করে গড়ে তুলছে। ইতোমধ্যে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণসহ কৃষি-ব্যবসা-বাণিজ্যে এনেছে অকল্পনীয় পরিবর্তন। পবিবহন ব্যবসায়ীরা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। তবে শরীয়তপুরের সড়কের উন্নয়ন কার্যক্রম শেষ না হওয়ায় জেলাটি পিছিয়ে পড়ছে।
গত ২৬ জুন সকাল ৬টা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে যান চলাচল শুরু হওয়ায় দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ রাজধানী ঢাকায় গিয়ে প্রয়োজন মিটিয়ে দিনে দিনেই ফিরে আসতে পারছেন। ফেরি, লঞ্চ, ট্রলার দিয়ে আর প্রমত্তা পদ্মা পাড়ি দিতে হচ্ছে না। এতে কমে গেছে প্রাণহানির ঝুঁকি ও দুর্ভোগ।
দীর্ঘদিন ধরে প্রাকৃতিকভাবে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে বিচ্ছিন্ন থাকা ২১ জেলা আজ রাজধানী দেশের সব জেলার সঙ্গে সড়কপথে সংযুক্ত। ফলে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসল রাজধানী ঢাকাসহ অন্যান্য জায়গায় সরবরাহ করতে পারায় ন্যায্যমূল্য পেতে শুরু করেছেন। পাশাপাশি মৎস্য, ডেইরি ও এগ্রো খামারিরাও লাভবান হচ্ছেন।
এ ছাড়া দক্ষিণাঞ্চলের জেলা থেকে পদ্মা সেতু দিয়ে রাজধানীসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার কোরবানির হাটে গরু বিক্রি করতে সহজেই ট্রাকে করে পরিবহন করছেন খামারিরা। এক জেলার পশু অন্য জেলায় নেয়ার ভালো সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় ন্যায্য দামে পশু বিক্রির সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
গণপরিবহনের ব্যবসা জাঁকজমক হয়ে ওঠায় জেলায় জেলায় নতুন নতুন বিলাসবহুল এসি, নন-এসি বাস ও মাইক্রোবাস যুক্ত হয়েছে। প্রায় প্রতিটি জেলায়ই পরিবহন সেবা প্রদানের জন্য বিআরটিসির বাস চালু হয়েছে। এ ছাড়া যেকোনো সময়ে চিকিৎসার স্বার্থে স্বাচ্ছন্দ্যে রোগী পরিবহনেরও সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে প্রতিদিন পদ্মা সেতু দিয়ে পার হওয়া হাজার হাজার যানবাহন থেকে কোটি টাকার ওপরে টোল আদায় হচ্ছে। তবে দক্ষিণ-পশ্চিমের ২১ জেলার মধ্যে শরীয়তপুরের মানুষ পদ্মা সেতু ব্যবহারের সুবিধা পেলেও পদ্মা সেতুর অ্যাপ্রোচ থেকে জাজিরা হয়ে জেলা শহরের যাতায়াতের একমাত্র সড়কটির ২৯ কিলোমিটারের মধ্যে ১০ কিলোমিটার সড়কটি ১০ ফুট চাওড়া। আর ১৫ কিলোমিটার সড়ক ১২ ফুট চাওড়া এবং বাকি ৪ কিলোমিটার রাস্তা ১৮ ফুট চওড়া। তাই সড়কটি দিয়ে ঝুঁকি নিয়েই যানবাহন চলছে। ফলে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা স্থানীয় মানুষের।
আড়াই থেকে তিন বছর আগে ফোর লেন সড়কের জন্য জমি অধিগ্রহণ করে এ সড়কটি দুই লেনের সড়কে উন্নীত করার উদ্যোগ নেয় সরকার। তবে জমি অধিগ্রহণের জটিলতায় জমি বুঝে না পাওয়ায় কাজ শুরুই করতে পারেনি সড়ক ও জনপদ বিভাগ।
পদ্মা সেতু উদ্বোধনের আগে জেলা শহরের ফায়ার সার্ভিস এলাকা থেকে ১৩ কিলোমিটার সড়কের কাজ দুই লেনে শুরু করে সড়ক বিভাগ। কিন্তু সড়কে বিদ্যুতের খুঁটি না সরিয়ে কাজ শুরু করায় কাজের অগ্রগতি ছিল কম। এক মাসে সড়কটির মাত্র দুই কিলোমিটার রাস্তা খুঁড়ে মাটি ভরাট করে প্রেমতলা এলাকার বিসিক শিল্পনগরী পর্যন্ত উন্নয়ন কাজ করেছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার।
এ বিষয়ে ঠিকাদার প্রতিনিধি ও শ্রমিকরা জানিয়েছেন, সড়কের খুঁটি না তোলার কারণে কাজের সময় বেশি লাগছে এবং টেকসই কাজ করা যাচ্ছে না।
শরীয়তপুর বাস-মিনিবাস মালিক গ্রুপের সভাপতি ফারুক তালুকদার জানিয়েছেন, সেভাবে সড়কে খুঁটি না সরিয়ে কাজ চলছে, তাতে কাজের বিলম্ব হচ্ছে। খুঁটি সরানোর আগে যদি রাস্তা তৈরি করা হয়, তা কোনো কাজে আসবে না। দ্রুত সড়ক নির্মাণকাজ সম্পন্ন না হলে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হব। শরীয়তপুরের মানুষ শতভাগ পদ্মা সেতুর সুফল ভোগ করতে পারবে না।
এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রেদাওয়ানুর রহমান বলেন, ‘জেলা প্রশাসন এখনো জমি অধিগ্রহণ করে আমাদের দিতে পারেনি। এতে সম্পূর্ণ অংশের কাজ শুরু করা যায়নি। বিদ্যুৎ বিভাগকে চিঠি দেয়া হলেও তারা খুঁটি সরিয়ে নিতে বিলম্ব করছে। বর্তমানে ১৩ কিলোমিটার এলাকার উন্নয়নকাজ করার জন্য ঠিকাদারকে কাজের আদেশ দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া কোটাপাড়া এলাকায় কীর্তিনাশা নদীর ওপর ব্রিজ নির্মাণে কাজ শুরু হলেও ব্রিজটির অ্যাপ্রোচের জমি এখনো পাওয়া যায়নি। ব্রিজটির পাইলিংয়ের কাজ সম্পূর্ণ করা হয়েছে। বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজ দিয়ে যান চলাচল করছে। ফলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে শরীয়তপুরের সব জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ীসহ সর্বস্তরের মানুষ দ্রুত ব্রিজটির নির্মাণকাজ সম্পন্নসহ ২৯ কিলোমিটার সড়কটি ফোর লেনে উন্নীত করে নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
