হোম অন্যান্যসারাদেশ নড়াইল পৌরসভার কর্মচারীদের গ্রাইচুইটি সহ সাড়ে ৩ কোটি টাকার দূর্নীতির অভিযোগ-তদন্তে স্থানীয় সরকার

নড়াইল অফিস :

ফের দূর্নীতির অভিযোগ নড়াইল পৌরসভার সচীব,প্রধান সহকারী সহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। জঙ্গল ও ড্রেন পরিস্কার,পি আই সি,বৈদ্যুতিক মালামাল,ওষধ ক্রয়,আপ্যায়ন এমনকি কর্মচারীদের গ্রাইচুইটি,গরীবের শাড়ি কেনা সহ নানা খাতে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকার মিথ্যা ভাউচারের অভিযোগ এনেছেন প্যানেল মেয়র কাজী জহিরুল হক।

বৃহস্পতিবার এ সকল বিষয় তদন্ত করতে পৌরসভায় আসেন স্থানীয় সরকার বিভাগের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক ও অতিঃজেলা প্রশাসক মো.ফখরুল হাসান।

অভিযোগে জানা গেছে,২০২১ সালের ২৫ এপ্রিল থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ৭৭ টি চেকের মাধ্যমে ৩ কোটি ৩৫ লক্ষ ৩ হাজার ৬৭৭ টাকা উত্তোলন করা হয়। পৌরসভার প্রধান সহকারী শিমুল কুমার ঘোষ, বদলি হওয়া প্রশাসনিক কর্মকর্র্তা মো.লালু সরদার,বৈদ্যুতিক মিস্ত্রী রমিচুর রহমান সহ কয়েকজন কর্মচারী এ সকল টাকা উত্তোলন করেন। উত্তোলন কৃত টাকা নানাভাবে আত্মসাৎ করে মিথ্যা বিল-ভাউচার করা হয়।

প্রধান সহকারী শিমুল কুমার ঘোষ দূর্নীতি বিষয়ে বলেন,আমার একার নয় আরো কয়েকজনের নাম এসেছে। এসকল বিষয়ে কথা বলার নির্বঅহী ক্ষমতা একমাত্র পৌরমেয়রের তাই আমি কিছু বলতে পারবো না।

অভিযোগ রয়েছে পৌরসভার সচীব মো.ওহাবুল আলম তত্ত্বাবধানে পৌরসভার সোনালী ব্যাংক,জনতা ব্যাংকের নড়াইল ও রূপগঞ্জ শাখা ,ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক থেকে নানা সময়ে অর্থ আর্তসাৎ এর উদ্দেশ্যে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।

টাকা দূর্নীতি বিষয়ে সচীব মো.ওহাবুল আলম বলেন,অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত এসেছে,আমরা তার যথাযথ প্রমান এবং নিয়মের মধ্যে খরচ হয়েছে তা উপস্থাপন করছি।

অভিযোগকারী পৌরসভার প্যানেল মেয়র কাজী জহিরুল হক তার ৭ পৃষ্টার অভিযোগ নামায় উত্তোলনকৃত চেক এবং কবে কার মাধ্যমে উত্তোলিত হয়েছে তা উল্লেখ করেছেন। অভিযোগ, বর্তমান মেয়র আঞ্জুমান আরা ২০২১ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারী শপথ নেবার পর থেকেই এসকল দূর্নীতির নেতৃত্বে রয়েছেন।পৌর নাগরিকের টাকা নিজেদের কাজে ব্যবহার করেছেন। ইজিবাইকের লাইসেন্স বাবদ উত্তোলিত সাড়ে ১৭ লক্ষ টাকার ৬ লক্ষ টাকা জমা দিয়ে বাকি সাড়ে ১১ লক্ষ টাকা মেয়র নিজে আত্মসাৎ করেছেন। বর্তমান মেয়র গত দুই বছরে কোন মাসিক সভা করে তা রেজুলেশ করেন নাই।সকল উত্তোলন ও ব্যয় পৌর পরিষদের সিদ্ধান্ত ছাড়াই মেয়র এবং সচিব গ্রহন করেছেন। ব্যায়ের অধিকাংশ খাতেই ক্যাশবই নেই,বেশিরভাগ দূর্নীতির অর্থ তড়িঘড়ি ভাউচার তৈরী করে ধামাচাপা দেয়া হয়।

প্যানেল মেয়র কাজী জহিরুল হক বলেন, আমাদের ওয়ার্ডে কবে জঙ্গল -ড্রেন পরিস্কার হয় তা আমিই জানিনা। এ সকল খাতে প্রত্যেক ওয়ার্ডে ৫-৭ লক্ষ টাকার হিসাব দেয়া হয়েছে। আমাদের কাছে স্পস্ট দূর্নীতির প্রমান রয়েছে। এ ধরনের দূর্নীতি নড়াইল পৌরসভায় আগে ঘটেনি।

এ সকল বিষয়ে ২০২১ সালের নভেম্বরে ঢাকা থেকে দুদকে অভিযোগ করলে নড়াইল পৌরসভায় ৩ দফা অভিযান চালায় দুদুক। সেসময় হিসাবের বৈধ কোন কাগজপত্র না পেয়ে ফিরে গেলেও দুদদকের অনুসন্ধানের মধ্যে রয়েছে।

পৌর মেয়র আঞ্জুমান আরা বলেন, পৌরসভার দূর্নীতি হলে তা নির্বাহী হিসেবে আমার ঘাড়েই বর্তায়। তবে আমি এটুকু বলতে পারি আমি চলে গেলে যাদের সুবিধা হয় তারাই আমার বিরুদ্ধে এসব সাজাচ্ছে।ইজিবাইকের টাকা কাউন্সিলররা যা নিয়েছে তা হিসাবে আসেনি।

বৃহস্পতিবার সারাদিন অভিযুক্ত মেয়র আঞ্জুমান আরা,সচীব,প্রধান সহকারী সহ প্রত্যেকের একের করে রুদ্ধদ্বার সাক্ষাতকার নিয়েছেন অতিঃজেলা প্রশাসক মো.ফখরুল হাসান। এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানকে চাইলে তিনি কথা বলতে রাজী হননি। পরে বলেন অভিযোগের তদন্ত চলছে।

Khaleda

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন