নড়াইল অফিস :
নড়াইল জেলায় করোনা টিকা ফুরিয়ে যাওয়ায় বন্ধ হয়ে গেছে করোনা টিকাদান কার্যক্রম। প্রথম ডোজ নেওয়ার পর দ্বিতীয় ডোজ নিতে পারেননি জেলার ছয় হাজার ৭২৯ জন মানুষ। দ্বিতীয় ডোজ গ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন তাঁরা। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, কবে ওই টিকা আসবে তা তাঁদের ধারণা নেই। তাঁরা টিকা পাওয়ার অপেক্ষায় আছেন।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, করোনার টিকা গ্রহণের জন্য জেলায় ৩৩ হাজার ৮৫৩ জন নিবন্ধন করেন। দুই ধাপে জেলায় করোনা টিকার বরাদ্দ পাওয়া যায় ৩০ হাজার ডোজ। গত ৭ ফেব্রুয়ারি জেলায় শুরু হয়েছিল। নড়াইল সদর হাসপাতাল, লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, কালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং কয়েকটি ইউনিয়ন পর্যায়ে টিকাদান কার্যক্রম চলে।
২৯ হাজার ৯৭২ জনকে প্রথম ডোজ টিকা দেওয়া হয়। নিবন্ধন করেও জেলায় তিন হাজার ৮৮১ জন টিকা গ্রহণ করেননি। এরপর ৭ এপ্রিল জেলায় দ্বিতীয় ডোজ টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়। দ্বিতীয় ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে ২৩ হাজার ২৪৩ জনকে। দ্বিতীয় ডোজ এসেছিল ২৪ হাজার। টিকার মজুত ফুরিয়ে যায় ২০ মে। গত ২১ মে থেকে টিকাদান কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। জেলায় এখন ছয় হাজার ৭২৯ জনকে টিকার দ্বিতীয় ডোজের অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে।
জেলায় প্রথম ডোজ টিকা এসেছিল ৩০ হাজার এবং দ্বিতীয় ডোজ এসেছিল ২৪ হাজার। কিন্তু প্রথম ডোজ দেওয়া হয়েছে ২৯ হাজার ৯৭২ জনকে এবং দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়েছে ২৩ হাজার ২৪৩ জনকে। এই কম টিকা দেওয়ার ব্যাপারে সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে বলা হয়েছে, কিছু টিকা অপচয় হবে এটি স্বাভাবিক। কারণ একটি ভায়ালে (শিশি) ১০ ডোজ টিকা থাকে। সর্বশেষ ভায়াল খোলার পর ১০ জন গ্রাহক সবদিন পাওয়া যায়নি।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের রোগনিয়ন্ত্রণ বিভাগের কর্মকর্তা চিকিৎসক শফিক তমাল বলেন, ‘প্রথম ডোজ টিকা যাঁরা নিয়েছেন, তাঁদের দ্বিতীয় ডোজ টিকা গ্রহণের জন্য এসএমএস দেওয়া হয়েছে। টিকার মজুত শেষ হওয়ায় এখন এসএমএস দেওয়া হচ্ছে না। তবে অনেকেই ফোন করে বা স্বশরীরে এসে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।’
জানতে চাইলে সিভিল সার্জন নাসিমা আকতার বলেন, ‘কবে টিকা পাওয়া যাবে তা বলা সম্ভব হচ্ছে না। সরকার প্রাণপণ চেষ্টা করছে টিকা আনতে। আমরা দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার ক্ষেত্রে ১২ সপ্তাহ পর্যন্ত দেরি করতে পারব। এ পর্যন্তও যদি টিকা না পাওয়া যায় তবে নিশ্চয়ই এ ব্যাপারে নিদের্শনা আসবে। সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
