নড়াইল অফিস :
নড়াইলের মির্জাপুর ইউনাইটেড ডিগ্রি কলেজ এর ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাসকে জুতার মালা পরানোর ঘটনার পর বন্ধ হওয়া কলেজ খুলছে রোববার।
কলেজের সভাপতি অ্যাডভোকেট অচীন চক্রবর্তী জানান, গতকাল বুধবার আমাদের কলেজের পরিচালনা পর্ষদের একটি সভা ছিল। সেই সভায় সর্বসম্মত ক্রমে কলেজ খোলার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী রোববার কলেজ খোলা হবে।
এ ছাড়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাসকে জুতার মালা পরানোর বিষয়ে কলেজের পরিচালনা পর্ষদকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছিল। সেই নোটিশের জবাব দেয়ার ব্যাপারেও আলোচনা হয়েছে। এবং কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্বে স্বপন কুমারই থাকছেন। পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা অধ্যক্ষ স্বপন কুমার এর নিরাপত্তার বিষয়ে সব রকমের দায়িত্ব নিয়েছেন।
তাকে ফুলের মালা পরিয়ে কলেজে ফিরিয়ে আনার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন কলেজের সভাপতি। তিনি বলেন‘পরিচালনা পর্ষদের সবাই মিলে স্বপন কুমার বিশ্বাসের কাছে যাব। তাকে পুনরায় কলেজে আসার অনুরোধ করব। আমাদের ইচ্ছা আছে গ্রামের সব মানুষকে ডেকে নিয়ে ফুলের মালা গলায় দিয়ে তাকে আবারও কলেজে ফিরিয়ে আনব।
‘ফেসবুকে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) বহিষ্কৃত মুখপাত্র নূপুর শর্মাকে সমর্থন করে এক হিন্দু শিক্ষার্থী ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন’- এমন অভিযোগ তুলে কলেজে পুলিশের সামনেই শিক্ষক স্বপন কুমার বিশ্বাসকে অপদস্থ করা হয়।
গুজব ছড়িয়ে দেয়া হয় ওই শিক্ষার্থীর পক্ষ নিয়েছেন স্বপন কুমার। মির্জাপুর ইউনাইটেড ডিগ্রি কলেজে গত ১৮ জুন এ নিয়ে দিনভর চলে উত্তেজনা। ঐদিন বিকেল ৪টার দিকে স্বপন কুমার বিশ্বাসকে ক্যাম্পাসের বাইরে নিয়ে যাওয়ার সময় তাকে দাঁড় করিয়ে গলায় জুতার মালা পরিয়ে দেয় একদল ব্যক্তি। এ সময় দুহাত জোড় করে শিক্ষক স্বপন কুমার হাত উঁচিয়ে ক্ষমা চাইতে থাকেন। পরে তাকে তুলে নেয়া হয় পুলিশের গাড়িতে।
মোবাইল ফোনে ধারণ করা এ ঘটনার ভিডিও ফুটেজ ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। দেশজুড়ে তৈরি হয় তীব্র ক্ষোভ। কলেজে হামলা ও শিক্ষক হেনস্তার ঘটনার ৯ দিন পর গত ২৭ জুন দুপুরে নড়াইল সদর থানায় মামলা করেন পুলিশের উপপরিদর্শক ও মির্জাপুর ফাঁড়ির ইনচার্জ শেখ মোরছালিন।
দন্ডবিধি ৩৪, ১৪৩, ৪৪৭, ৪৪৮, ৩২৩, ৩৪১, ৩৩২, ৩৫৩, ৩৫৫, ৪৩৬, ৪২৭, ৫০০ ধারায় করা এ মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় ১৭০ থেকে ১৮০ জনকে আসামি করা হয়। মামলায় এ পর্যন্ত ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
তারা হলেন শিক্ষার্থী রহমাতুল্লাহর রনি, মোবাইল ফোনের মেকানিক শাওন খান, অটোরিকশার চালক রিমন আলী, মাদ্রাসা শিক্ষক মনিরুল ইসলাম ও শ্রমিক মো. নুরুন্নবী। তাদের বাড়ি নড়াইল সদরের মির্জাপুর কলেজের আশপাশের বিভিন্ন গ্রামে।
সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহামুদুর বলেন, ‘ঘটনার দিন মনিরুল হ্যান্ড মাইকে উসকানিমূলক ঘোষণা দিয়েছিলেন। রিমন আলী স্থানীয়দের মধ্যে জনরোষ সৃষ্টি করেছিলেন এবং নুরুন্নবী কলেজ মাঠে গিয়ে নিজের গায়ের পাঞ্জাবি ছিঁড়ে সেখানে বেশ উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিলেন। এ ছাড়া রনি ও শাওন সরাসরি অধ্যক্ষের গলায় জুতার মালা পরিয়ে দিয়েছিলেন। বর্তমানে তারা সবাই কারাগারে আছেন।
