নড়াইল অফিস :
শতাব্দী প্রাচীন নাওসোনা মহা-শশ্মান। মৃত ব্যক্তির মরদেহ সৎকার করতে মহা শশ্মানে যাতাযাতের কোন সুবিধা ছিল না। এ নিয়ে বিভিন্ন সংবাদ প্রচার হওয়ায় জনপ্রতিনিধিসহ প্রশাসনের নজরে আসে। অবশেষে মহা-শশ্মানে যাতায়াতের জন্য রাস্তাা নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। এখন থেকে ওই এলাকার ২০/২৫ হাজার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ পায়ে হেটে মহা-শশ্মানে তাদের মৃত স্বজনদের সৎকার করতে যেতে পারবেন।
শুক্রবার (২৭ মে) বিকেলে রাস্তা নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন জজ কোর্টের জিপি অচীন চক্রবর্তী। এ সময় ভার্চুয়ালে যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন নড়াইল-১ আসনের সাংসদ কবিরুল হক মুক্তি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিছালী ইউপি চেয়ারম্যান মো.হিমায়েত হোসেন।
অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন,বিছালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আনারুল কাদির উজ্জল,ইউপি সদস্য অসীম কুমার,কামরুল ইসলাম,মাজহারুল ইসলাম,খন্দকার মঈন উদ্দীন,পান্না বিম্বাস,ইউনিযন যুবলীগ সভাপতি সোহেল রানা প্রমুখ।
ভার্চুয়াল বক্তব্যে সংসদ কবিরুল হক মুক্তি বলেন,আমার নির্বাচনী এলাকায় এমন কষ্টগাথা ঘটনা বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেখে মর্মাহত হয়েছি। বিষয়টি জানতে পেরে মহাশশ্মানে যাতায়াতের জন্য বিছালী ইউনিয়নের সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অচীন চক্রবর্তীর কাছে ৪ লাখ টাকা পাঠাই।
তিনি বলেন,এ বছর হয়তো মাটির কাজ করা হবে। সামনের বছরে পাকা রাস্তা করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে,বর্ষাকালে কলাগাছের ভেলায়,কেউবা নৌকায়,অথবা তালের ডোঙায় আবার অনেকে ঘাড়ে করে কোমর জল ভেঙ্গে শুকনার সময কৃষি জমির আইলের ওপর দিয়ে তাদের মৃত স্বজনকে নিয়ে মহাশশ্মানে যেতে হতো।
সরেজমিন দেখা গেছে,নাওসোনা শশ্মানের অবস্থান ইউনিয়নের বনখলিশাখালি গ্রামের ডঙ্করের বিলের মাঝ খানে। ইউনিয়নের ১০টি গ্রামের প্রায ২৫/৩০ হাজার হিন্দু সম্প্রদাযের মৃত স্বজনদের এই শশ্মানে সৎকার করা ছাড়া কোন উপায় নেই। বর্ষা মওসুমে কোন মৃত ব্যক্তিকে নিয়ে সৎকার করা ছিল কষ্টসাধ্য। যাদের সামর্থ নেই তাদের অনেকেই বর্ষা মওসুমে বিলের কচুরির ধাপের তলে স্বজনের মরদেহ ফেলে রেখে আসতে হয়েছে। দুর্ভোগের হাত থেকে পরিত্রাণ পেতে এলাকাবাসি মহা শশ্মানে যাতায়াতের জন্য পথ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। মহাশশ্মানে যাবার জন্য ইতোমধ্যে আটঘড়া গ্রামের সামনে দিয়ে ইটের সোলিংয়ের কাজ শুরু হয়েছে। শুক্রবার বনখলিশাখালি গ্রামের মানুষ শশ্মানে আসার জন্য আড়াই কিলোমিটার রাস্তায় মাটির কাজ শুরু করা হলো।
অচীন চক্রবর্তী বলেন,মহা শশ্মানে যেতে ১০টি গ্রামের সাধারন মানুষের জনদুর্ভোগের কথা শুনে এমপি কবিরুল হক আমার কাছে ৪ লাখ টাকা পাঠিয়েছেন। সেই টাকা দিযে প্রথমে মাটির কাজ করা হচ্ছে। তিনি কথা দিয়েছেন আগামি অর্থ বছরে এই রাস্তা গুলো পাকা করা হবে। এ সময় তিনি মুঠোফোনে জেলা প্রশাসকের সহযোগিতা কামনা করেন।
বিছালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. হেমায়েত হোসাইন ফারুক সংসদ কবিরুল হক মুক্তি ও উপজেলা চেয়ারম্যান নিজামউদ্দিন খান নিলুকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন,হিন্দু সম্প্রদায় মানুষদের এই দুর্ভোগ নিরসনে নাওসোনা মহাশশ্মানে তাদের মৃত স্বজনের সৎকারের সুব্যাবস্থা গ্রহণে জন প্রতিনিধি, জেলা প্রশাসক ও প্রধানমন্ত্রীর সদয় দিবেন।
