নড়াইল অফিস :
নড়াইল সদর উপজেলার জুড়ালিয়া আলিম মাদ্রাসায় উপাধ্যক্ষসহ ৪টি পদে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। টাকার মাধ্যমেই নিয়োগ চলছে বলে রব উঠেছে মানুষের মুখে মুখে ।
অভিযোগ রয়েছে মাদ্রাসায় উপাধ্যক্ষ, অফিস সহকারি কাম হিসাব সহকারি, অফিস সহকারি কাম কম্পিউটার অপারেটর, আয়া ও শূন্যপদে নৈশপ্রহরী নিয়োগের জন্য গত ২০২০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পত্রিকায় অনেকটা অস্পষ্টভাবে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি মোতাবেক মোট ৫টি পদের জন্য ৬৮জন আবেদন করে। আবেদনকারীদের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই না করেই পোস্টাল অর্ডার ভেঙ্গে টাকা উত্তোলন করা হয়। ওই সময় মোট ৫টি পদের মধ্যে তিনজনের কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ নিয়ে নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে বলে অভিযোগ ওঠে।
এছাড়া মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতির স্ত্রী অফিস সহকারী পদের জন্য আবেদন করেন। আর মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি নিজে হয়েছিলেন নিয়োগ বোর্ডের সভাপতি। এসব অনিয়ম ও দুর্নিতীর বিষয়ে গনমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করেন।
পরবর্তিতে গত ১৪ মে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ পুনরায় উক্ত মাদ্রাসায় উপাধ্যক্ষ, নৈশ প্রহরী, নিরাপত্তা প্রহরী ও আয়া পদে ১জন করে লোক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। উক্ত ৪টি পদে পূর্বে আবেদন করা মোট ২৯জন প্রার্থীর আবেদন যাচাই-বাছাই করে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরুর নিমিত্তে ৪ সদস্য বিশিষ্ট নিয়োগ কমিটি গঠন করেন। নিয়োগ কমিটির সভাপতি হন মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোঃ আতাউর রহমান। অপর সদস্যরা হলেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোঃ আবুল কাশেম, মাদ্রাসার অভিভাবক সদস্য মোঃ কামরুজ্জামান এবং অপর ১জন সদস্য হিসাবে থাকবেন মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক মনোনীত প্রতিনিধি।
অভিযোগ পাওয়া গেছে যে, মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির অভিভাবক সদস্য মোঃ কামরুজ্জামান যিনি নিয়োগ কমিটির সদস্য হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন, তার শিক্ষাগত যোগ্যতা অষ্টম শ্রেনী পাশ। মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটিতে একাধিক বিএ এবং এমএ পাশ সদস্য থাকা স্বত্বেও রহস্যজনক কারনে তাদের নিয়োগ কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়নি।
জুড়ালিয়া আলিম মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সদস্য অভিযোগ করেছেন যে, ১৯৯৯ সালে এ মাদ্রাসাটি আলিম মাদ্রাসা হিসেবে স্বীকৃতি পায়। ওই সময় প্রতিষ্ঠানের নামে দেড় একর (খন্ডাকৃতির হলেও) জমি থাকলে স্বীকৃতি দেওয়া হত। জুড়ালিয়া আলিম মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠানের নামে খন্ডাকৃতির দেড় একর জমি থাকায় স্বীকৃতি পেয়েছে।
পরবর্তিতে ২০১০ সালে সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতির জন্য অখন্ড দেড় একর জমি থাকা বাঞ্ছনীয় বলে সরকারি আদেশ জারি করা হয়। কিন্তু উক্ত মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোঃ আবুল কাশেম ২০১০ সালের বিধি (খন্ডিত নয় অখন্ড জমি)’র দোহাই দিয়ে ২জন প্রার্থীর কাছ থেকে মাদ্রাসা সংলগ্ন জমি ও নগদ কয়েক লক্ষ টাকা নিয়ে নিয়োগের আশ্বাস দিয়ে তাদেরকে নিয়োগের জন্য তালিকা চ’ড়ান্ত করে মৌখিক পরিক্ষা গ্রহনের জন্য মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক মনোনীত প্রতিনিধি মনোনয়ন ও মৌখিক পরিক্ষার তারিখ নির্দ্ধারন করার সুপারিশ করে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরে পত্র প্রেরন করেছেন।
জুড়ালিয়া আলিম মাদ্রাসায় যে ৪জনকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে নিয়োগ প্রদানের প্রক্রিয়া বা মনোনয়ন করা হয়েছে তারা হলেন, উপধ্যক্ষ পদে মাদ্রাসায় কর্মরত শিক্ষক মোঃ সাইফুল ইসলাম, নিরাপত্তা প্রহরী পদে মোঃ মামুনুর রশীদ, নৈশ প্রহরী পদে মোঃ আক্কাস আলি এবং আয়া পদে মোছাঃ মিলি বেগম। উল্লেখ্য যে মোছাঃ মিলি বেগম উক্ত মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সদস্য মোঃ ওবিদুর রহমানের স্ত্রী।
অভিযোগ রয়েছে উক্ত মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোঃ আতাউর রহমান এবং অধ্যক্ষ মোঃ আবুল কাশেম যোগসাজসে এসব প্রার্থীর সাথে অনৈতিকভাবে টাকা ও মাদ্রাসার নামে জমি দেবার শর্তে চাকুরী দেবার আশ^াস দিয়েছেন এবং সব প্রক্রিয়া চ’ড়ান্ত করে ফেলেছেন।
অভিযোগ রয়েছে মাদ্রাসায় উপাধ্যক্ষ, আয়া, নৈশপ্রহরী এবং নিরাপত্তা প্রহরীসহ আরও কয়েকটি পদে নিয়োগের জন্য গত ২০২০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পত্রিকায় অনেকটা অস্পষ্টভাবে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি মোতাবেক মোট ৫টি পদের জন্য ৬৮জন আবেদন করে। ওই সময় আবেদনকারীদের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই না করেই পোস্টাল অর্ডার ভেঙ্গে টাকা উত্তোলন করা হয়।
বর্তমানে যে ৪টি পদে লোক নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে এরাও পূর্বে আবেদন করেছিল এবং সে আবেদনের প্রেক্ষিতেই এবার নিয়োগ প্রক্রিয়া গোপনে প্রায় চ’ড়ান্ত করা হয়েছে। অপরদিকে পূর্বে যে ৫টি পদে নিয়োগের জন্য ৬৮জন আবেদনকারির পোস্টাল অর্ডার আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের পূর্বেই ভাঙ্গিয়ে টাকা কোন তহবিলে রাখা হয়েছে তার কোন সুরাহা না করেই নতুন করে আবার ৪জন নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান আছে যেটা নিয়ম বহির্ভূতভাবে হচ্ছে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উক্ত মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির একজন সদস্য মন্তব্য করেছেন।
এসব অভিযোগের বিষয়ে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোঃ আতাউর রহমানকে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে এসব অভিযোগ সত্য নয় বলে তিনি জানান।
এসব অনিয়মের ব্যাপারে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোঃ আবুল কাশেম বলেন, কাউকে নিয়োগের নিশ্চয়তা দিয়ে বা কারও কাছ থেকে অর্থ অথবা মাদ্রাসার নামে জমি নিয়ে কাউকে চাকুরি প্রদানের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়নি। পোস্টাল অর্ডারগুলো আবেদন যাচাই বাছাইয়ের পূর্বেই ভাঙ্গানো হয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেন।
