রাজনীতি ডেস্ক:
আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নিজের পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে ভোট না করায় উজ্জল চন্দ্র শীল (৪৭) নামে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর এক সমর্থককে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চরজুবিলী ইউনয়নের চেয়ারম্যান সাইফুল্যা খসরু ও তার লোকজন তাকে মারধর করে ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যান।
এ ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার (১ মে) দুপুরে সুবর্ণচর প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও পরে সংবাদ সম্মেলন করেন উজ্জল চন্দ্র শীল। কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন সুবর্ণচর উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতা ও সদস্যরা।
এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে সুবর্ণচর উপজেলার হারিছ চৌধুরী বাজারে উজ্জলকে মারধর করে আনারস প্রতীকের সমর্থক ও চরজুবলী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সাইফুল্যা খসরু এবং তার লোকজন।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী উজ্জল চন্দ্র শীল অভিযোগ করেন, তিনি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খায়রুল আনম চৌধুরী সেলিমের দোয়াত কলম প্রতীকের পক্ষে কাজ করছেন। মঙ্গলবার (৩০ এপ্রিল) বিকেলে তিনি হারিছ চৌধুরী বাজারে যান, সেখানে একটি রেস্টুরেন্টে বসে কয়েকজন খেয়ে বের হওয়ার সময় চেয়ারম্যান সাইফুল্যাহ খসরু আনারস প্রতীকের প্রচারণা করছিলেন। এসময় খসরু তাকে নাম ধরে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞেস করেন দোয়াত কলমের ভোট কেন করতেছে। কিছু বুঝে ওঠার আগে খসরু তার কলার ধরে নিজের নেতাকর্মীদের ভিড়ের মধ্যে নিয়ে যান। সেখানে ভিতরে রেখে উজ্জলকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ এবং এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি দেয়। পরে স্থানীয় লোকজন উজ্জলকে উদ্ধার করে বাজার থেকে বের করে দেয়।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, দোয়াত কলমের পক্ষে কাজ করার কারণেই মূলত তাকে মারধর করে চেয়ারম্যান খসরু ও তার লোকজন। দোয়াত কলমের পক্ষে কোথায় কাজ করলে মেরে ফেলারও হুমকি দেয় চেয়ারম্যান খসরু। এ ঘটনায় তিনি চরজব্বার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
চরজুবিলী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সাইফুল্যাহ খসরু অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘উজ্জলের সঙ্গে আমার কিছুই হয়নি। সে যে প্রার্থীর পক্ষে ভোট করুক তাতে আমার কোনো সমস্যা নেই। নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে সে উদ্দেশ্যমূলকভাবে এসব ঘটনা ছড়াচ্ছে।’
এ বিষয়ে সঠিক তদন্ত করে আমার অপরাধ পেলে আমার বিরুদ্ধে যেন প্রশাসন ব্যবস্থা নেয় বলে জানান চেয়ারম্যান।
চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, উজ্জল চন্দ্র শীল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে, অভিযোগের সত্যতা ফেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।