হোম জাতীয় নেত্রকোনায় মাদক ও জুয়ার আসর বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ

জাতীয় ডেস্ক :

নেত্রকোনায় যাত্রাপালার নাম করে মাদক ও জুয়ার আসর বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন সদর উপজেলার ১ নম্বর মৌগাতী ইউনিয়নের আসনউড়া গ্রামের বাসিন্দারা।

বুধবার (২৮ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে শহরের মোক্তারপাড়া প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেন এলাকার শতাধিক মানুষ। পরে তারা বিক্ষোভ মিছিলসহকারে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি অভিযোগপত্র দেন।

আসনউড়া বাজারে অশ্লীল যাত্রা ও মদের আসরে যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় এখনও শাস্তি হয়নি দাবি করে এবার এ আয়োজন বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হামিদ, মাওলানা আসাদুর রহমান আকন্দ, মো. নাজমুল আলম খান, গাজী আব্দুর রহিম, মো. আক্কাস মিয়া, মাওলানা এরশাদ মিয়া প্রমুখ।

বক্তারা অভিযোগ করেন বলেন, যাত্রাকে কেন্দ্র করে বাজারে জুয়া ও মদের আসর বসে। প্যান্ডেলের ভেতরে চলে যাত্রার নামে অশ্লীল নৃত্য। দেশি-বিদেশি মদের আসরে এলাকা ছেড়েও বিভিন্ন এলাকার যুবকরা আসে। আর এই রমরমা ব্যবসায় যুবকদের অগ্রাধিকার দেয়া হয়। এমন অবস্থায় প্যান্ডেলের ভেতরে ২০১৭ সালে টেংগা এলাকার তারা মিয়ার ছেলে খাইরুল ইসলাম খুন হয়েছিল। এরপর দু-তিন বছর বন্ধ থাকলেও আবারও সেসব শুরু হয়। এবারও যাত্রার আয়োজন করেছেন এলাকার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার শামছুদ্দিন আহমেদসহ কিছু জুয়াড়ি। তাদের পারমিশন নিয়ে দিতে জনপ্রতিনিধি, মুক্তিযোদ্ধাসহ অনৈতিক কাজে যারা লিপ্ত, তারাই সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। মূলত যাত্রাকে কেন্দ্র করেই রমরমা জুয়ার আসর ও মদ খাওয়া। এতে এলাকায় যুবসমাজের ওপর খারাপ প্রভাব পড়ছে।

তারা আরও বলেন, খেলাধুলা হোক, সাহিত্য আড্ডা হোক, সুস্থ ধারার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বা প্রতিযোগিতা হোক আমাদের অংশগ্রহণ ও সার্বিক সহযোগিতা থাকবে। কিন্তু সেগুলো না করে অশ্লীলতা করা সমাজের জন্য চরম সামাজিক অবক্ষয়ের হুমকি।

তবে যাত্রার আবেদনকারীদের মধ্যে স্থানীয় ইউপি সদস্য শামছুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘ওই যুবক চুরি করতে গিয়ে প্যান্ডেলের ভেতর বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যায়। আমরা নিয়ম মেনেই আবেদন করেছি। এতে মুক্তিযোদ্ধাসহ অনেকেই আছেন।’

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা আক্তার জানান, গীতিনাট্য লিখে তদবির করেছে। মানববন্ধন করে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেছে। এটি ভালো করে যাচাই-বাছাই শেষে জেলা প্রশাসক সিদ্ধান্ত দেবেন। আর রিপোর্ট দেয় পুলিশের গোয়েন্দা শাখা থেকে। সেই রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে অনুমতি দেয়া হয়। পারমিশন দেয়ার জন্য বড় বড় ব্যক্তি তদবির করছেন বলেও জানান তিনি।

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন