জাতীয় ডেস্ক :
রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় সংঘর্ষের খবর সংগ্রহ করতে আসা সাংবাদিকদের পিটিয়ে আহত করেছেন নিউমার্কেটসহ আশপাশের বিভিন্ন মার্কেটের দোকানের কর্মচারীরা। তাদের অভিযোগ, ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের সংঘর্ষ নিয়ে সত্য তথ্য প্রকাশ করছেন না সাংবাদিকরা। এ ঘটনায় সময় সংবাদের প্রতিবেদকসহ ছয় সাংবাদিক আহত হয়েছেন।
সংঘর্ষের ঘটনা কভার করতে যাওয়া সাংবাদিকরা অভিযোগ করেছেন, টার্গেট করে তাদের ওপর হামলা করা হচ্ছে। ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা ভেতরে থাকলেও ব্যবসায়ীরা সড়কে অবস্থান নিয়ে ইট ছুড়ছেন। গণমাধ্যমে ফলাও করে যাতে দৃশ্য না আসে, সে কারণে সাংবাদিকদেরও বাধা দেওয়া হচ্ছে।
এই ঘটনায় হামলাকারীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ারও দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিকরা।
এদিকে গতকাল সোমবার রাতের সংঘর্ষের জের ধরে মঙ্গলবার (১৯ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে আবারও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীরা। সংঘর্ষের কারণে ওই এলাকায় বন্ধ হয়ে গেছে সব ধরনের যানবাহন। ভোগান্তিতে পড়েছেন শত শত পথচারী। এর ফলে অন্য সড়কগুলোতেও দেখা দেয় তীব্র জানজট।
ঢাকা কলেজের মূল ফটকের ভেতরে থাকা ছাত্রদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করছেন ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে ঢাকা কলেজের ভবনের ছাদ থেকে নিউমার্কেটের দিকে ইটপাটকেল ছুটতে দেখা গেছে শিক্ষার্থীদের।
আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এই সংঘর্ষ শুরু হলে ওই এলাকা যুদ্ধক্ষেত্র পরিণত হয়।
ছাত্রদের মধ্যে অনেককে হেলমেট পরে হাতে লাঠি নিয়ে সংঘর্ষে জড়াতে দেখা গেছে। ইটের আঘাতে বেশ কয়েকজনকে আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এখন পর্যন্ত ঘটনাস্থলে পুলিশের তৎপরতা দেখা যায়নি।
নিউমার্কেটের ব্যবসায়ীরা ওভার ব্রিজের নিচে অবস্থান নিয়েছে, অন্যদিকে চন্দ্রিমা মার্কেটের সামনে ঢাকা কলেজ শিক্ষার্থীরা। বেলা সোয়া ১১টার দিকে ঘটনাস্থলে অন্তত তিনটি ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
রাতের সংঘর্ষের জেরে সকাল থেকে নীলক্ষেত মোড়ে জড়ো হয়ে রাস্তা অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা। ফলে সায়েন্স ল্যাবরেটরি থেকে আজিমপুর পর্যন্ত সড়কের উভয় পাশের যান চলাচলও বন্ধ হয়ে যায়। পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এ ঘটনায় দুই শিক্ষার্থী ও দুই ব্যবসায়ী আহত হন। আহত হন বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্যও।
এর আগে সোমবার রাত ১২টার দিকে ঢাকা কলেজ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ‘কথাকাটাকাটির জেরে’ নিউমার্কেটের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আড়াই ঘণ্টা ধরে দুপক্ষের মধ্যে দফায় দফায় পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ।
ঢাকা কলেজের একাধিক ছাত্র জানান, তাদের এক সহপাঠীর ওপর নিউমার্কেটের ব্যবসায়ীরা হামলা চালিয়েছেন। এর প্রতিবাদে ঢাকা কলেজের আবাসিক হল থেকে কয়েকশ’ ছাত্র লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হল থেকে বের হয়ে নিউমার্কেটে যান। এ সময় নিউমার্কেটের কিছু দোকান ভাঙচুর করা হয়। পাশাপাশি কিছু ব্যবসায়ীকে মারধর করা হয়। এরপর নিউমার্কেটের ব্যবসায়ীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে বেরোলে দুপক্ষের সংঘর্ষ শুরু হয়।
অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা বলেছেন, রাতে ঢাকা কলেজের কয়েকজন ছাত্র নিউমার্কেটের একটি ফাস্টফুডের দোকানে খাবার খেতে এসেছিলেন। খেয়ে তারা টাকা না দিয়েই চলে যাচ্ছিলেন। এ নিয়ে ছাত্রদের সঙ্গে দোকানের লোকজনের তর্কাতর্কি হয়। এরপরই ঢাকা কলেজের ছাত্ররা এসে দোকান ভাঙচুর করতে থাকেন। পরে ব্যবসায়ীরা একসঙ্গে বের হয়ে আসেন।
সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছুড়লে ছাত্ররা পিছু হটে। কিন্তু উত্তেজিত ছাত্ররা দফায় দফায় ব্যবসায়ীদের দিকে তেড়ে যায়। এ সময় পুলিশ তাদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করে।
