হোম রাজনীতি নির্বাচনী প্রচারণায় মানতে হবে যেসব বিধিনিষেধ

রাজনীতি ডেস্ক:

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীদের সোমবার (১৮ ডিসেম্বর) প্রতীক বরাদ্দ দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) রিটার্নিং কর্মকর্তারা। প্রতীক বরাদ্দ পেয়েই আটঘাট বেঁধে প্রচারণায় নেমেছেন প্রার্থীরাও। তবে সব প্রার্থীকে নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলতে বিধিনিষেধ দিয়েছে ইসি।

ওয়েবসাইটে দেয়া রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে ইসি জানিয়েছে, নির্বাচনী প্রচারের ক্ষেত্রে প্রত্যেক নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল কিংবা দলের মনোনীত প্রার্থী বা স্বতন্ত্র প্রার্থী কিংবা তাদের পক্ষে অন্য ব্যক্তিকে বিধির ৬ থেকে বিধি ১৪ এর বিধানবলি অনুসরণ করতে হবে। বিধিনিষেধের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয় তুলে ধরা হলো:

নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল কিংবা দলের মনোনীত প্রার্থী বা স্বতন্ত্র প্রার্থী কিংবা তাদের পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি প্রচারের ক্ষেত্রে সমান অধিকার পাবে। তবে প্রতিপক্ষের সভা, শোভাযাত্রা এবং অন্য প্রচারাভিযান পণ্ড বা তাতে বাধা দিতে পারবে না। সভার দিন, সময় ও স্থান সম্পর্কে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে লিখিত অনুমতি নেবে। তবে এরূপ অনুমতি লিখিত আবেদন প্রাপ্তির সময়ের ক্রমানুসারে দিতে হবে।

সভা করতে চাইলে কমপক্ষে ২৪ ঘণ্টা আগে স্থান এবং সময় সম্পর্কে স্থানীয় পুলিশকে জানাতে হবে, যাতে ওই স্থানে চলাচল ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য পুলিশ প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে। জনগণের চলাচলের বিঘ্ন সৃষ্টি হতে পারে এমন কোনো সড়কে জনসভা কিংবা পথসভা করতে পারবে না এবং তাদের পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তিও অনুরূপভাবে জনসভা বা পথসভা ইত্যাদি করতে পারবে না।

সভা বাধাদানকারী বা অন্য কোনোভাবে গোলোযোগ সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সভার আয়োজকরা পুলিশের শরণাপন্ন হবেন এবং এ ধরনের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তারা নিজেরা ব্যবস্থা নিতে পারবেন না।

সিটি করপোরেশন এবং পৌর এলাকায় অবস্থিত দালান, দেয়াল, গাছ, বেড়া, বিদ্যুৎ ও টেলিফোনের খুঁটি বা অন্য কোনো দণ্ডায়মান বস্তুতে, সরকারি বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের স্থাপনায়, বাস, ট্রাক, ট্রেন, স্টিমার, লঞ্চ, রিকশা কিংবা অন্য কোনো প্রকার যানবাহনে কোনো প্রকার পোস্টার, লিফলেট বা হ্যান্ডবিল সাটাতে পারবেন না। তবে শর্ত থাকে যে, দেশের যে কোনো স্থানে পোস্টার, লিফলেট বা হ্যান্ডবিল ঝুলাতে বা টাঙাতে পারবেন।

এ ছাড়া কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর পোস্টার, লিফলেট, হ্যান্ডবিল ইত্যাদির ওপর অন্য কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর পোস্টার, লিফলেট, হ্যান্ডবিল ইত্যাদি লাগানো যাবে না এবং ওই পোস্টার, লিফলেট ও হ্যান্ডবিল ইত্যাদির কোনো প্রকার ক্ষতিসাধন তথা বিকৃতি বা বিনষ্ট করা যাবে না।

প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারে পোস্টার সাদা-কালো রঙের হতে হবে এবং তার আয়তন ২৩/১৮ ইঞ্চির অধিক হতে পারবে না এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী পোস্টারে তার প্রতীক ও নিজের ছবি ব্যতীত অন্য কোনো ব্যক্তির ছবি বা প্রতীক ছাপাইতে পারবেন না। তবে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মনোনীত হলে সেক্ষেত্রে তিনি কেবল তার বর্তমান দলীয়প্রধানের ছবি পোস্টারে ছাপাইতে পারবেন।

কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল কিংবা তার মনোনীত প্রার্থী বা স্বতন্ত্র প্রার্থী কিংবা তাদের পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি কোনো ট্রাক, বাস, মোটরসাইকেল, নৌযান, ট্রেন কিংবা অন্য কোনো যান্ত্রিক যানবাহন সহকারে মিছিল কিংবা মশাল মিছিল বের করতে পারবে না কিংবা কোনোরূপ শোডাউন করতে পারবে না।

নির্বাচনী প্রচারকার্যে হেলিকপ্টার বা অন্য কোনো আকাশযান ব্যবহার করা যাবে না। তবে দলীয়প্রধানের যাতায়াতের জন্য তা ব্যবহার করতে পারবে কিন্তু যাতায়াতের সময় হেলিকপ্টার হতে লিফলেট, ব্যানার বা অন্য কোনো প্রচার সামগ্রী প্রদর্শন বা বিতরণ করতে পারবে না।

কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল কিংবা তার মনোনীত প্রার্থী বা স্বতন্ত্র প্রার্থী কিংবা তাদের পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি দেয়ালে লিখে কোনো ধরনের নির্বাচনী প্রচার চালাইতে পারবেন না। কালি বা রং দিয়ে বা অন্য কোনোভাবে দেয়াল ছাড়াও কোনো দালান, থাম, বাড়ি বা ঘরের ছাদ, সেতু, সড়ক দ্বীপ, রোড ডিভাইডার, যানবাহন বা অন্য কোনো স্থাপনায় প্রচারমূলক কোনো লিখন বা অঙ্কন করতে পারবেন না।

কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল কিংবা তার মনোনীত প্রার্থী বা স্বতন্ত্র প্রার্থী কিংবা তাদের পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি নির্বাচনী প্রচারে কোনো গেট বা তোরণ নির্মাণ করতে পারবেন না কিংবা চলাচলের পথে কোনো প্রকার প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারবেন না। নির্বাচনী প্রচারের জন্য ৪০০ বর্গফুটের অধিক স্থান নিয়ে কোনো প্যান্ডেল তৈরি করতে পারবেন না। নির্বাচনী প্রচারের অংশ হিসেবে বিদ্যুতের সাহায্যে কোনো প্রকার আলোকসজ্জা করতে পারবেন না।

কোনো সড়ক কিংবা জনগণের চলাচল ও সাধারণ ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত স্থানে নির্বাচনী ক্যাম্প স্থাপন করতে পারবেন না। প্রতিটি ইউনিয়নে সর্বোচ্চ একটি এবং প্রতিটি পৌরসভা বা সিটি করপোরেশন এলাকার প্রতি ওয়ার্ডে একটির অধিক নির্বাচনী ক্যাম্প স্থাপন করতে পারবেন না। নির্বাচনী প্রচারের জন্য প্রার্থীর ছবি বা প্রার্থীর পক্ষে প্রচারমূলক কোনো বক্তব্য বা কোনো শার্ট, জ্যাকেট, ফতুয়া ইত্যাদি ব্যবহার করতে পারবেন না। নির্বাচনী ক্যাম্পে ভোটারদের কোনোরূপ কোমল পানীয় বা খাদ্য পরিবেশন বা কোনোরূপ উপঢৌকন দিতে পারবেন না।

নির্বাচনী প্রচারকালে ব্যক্তিগত চরিত্র হনন করে বক্তব্য দেয়া বা কোনো ধরনের তিক্ত বা উসকানিমূলক কিংবা লিঙ্গ, সাম্প্রদায়িকতা বা ধর্মানুভূতিতে আঘাত লাগে এমন কোনো বক্তব্য দিতে পারবেন না। মসজিদ, মন্দির, গির্জা বা অন্য কোনো ধর্মীয় উপাসনালয়ে কোনো প্রকার নির্বাচনী প্রচার চালাতে পারবেন না। নির্বাচন উপলক্ষে কোনো নাগরিকের জমি, ভবন বা অন্য কোনো স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তির কোনোরূপ ক্ষতি করা যাবে না এবং অনভিপ্রেত গোলোযোগ ও উচ্ছৃঙ্খল আচরণে কারও শান্তি ভঙ্গ করতে পারবেন না।

নির্বাচনী এলাকায় মাইক বা শব্দের মাত্রা বর্ধনকারী অন্যবিধ যন্ত্রের ব্যবহার দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখবেন। নির্বাচনী কাজে সরকারি প্রচার যন্ত্রের ব্যবহার, সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারীদের ব্যবহার বা সরকারি যানবাহন ব্যবহার করতে পারবেন না এবং রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা ভোগ বা ব্যবহার করতে পারবেন না।

প্রার্থিতা প্রত্যাহার শেষে ১৮ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দ হয়েছে। এরপরই নির্বাচনী প্রচার শুরু করেছেন প্রার্থীরা। চলবে ৫ জানুয়ারি সকাল ৮টা পর্যন্ত। ৭ জানুয়ারি হবে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ।

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন