বাণিজ্য ডেস্ক :
নির্ধারিত সময়ে উৎপাদনে আসছে না রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট। কেন্দ্রটি ২০২৪ সালের শেষ দিকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে যেতে পারে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।
বৃহস্পতিবার (২৯ ডিসেম্বর) পাবনার ঈশ্বরদীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শনকালে এ কথা জানান প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘মূলত করোনা মহামারির কারণে আমাদের কাজ কিছুটা পিছিয়েছে। ফলে রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজ সময়মতো শেষ করা যায়নি। এ ছাড়া বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের কাজ শুরু করতেও দেরি হয়েছে। কিন্তু সব কাজের অগ্রগতি সন্তোষজনক।’
কোনো অসুবিধা হবে না- এমন আশ্বাস দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রথম ইউনিটের কাজ ৮৭ শতাংশ শেষ হয়েছে। সব কাজ ঠিকমতো হবে। বিদ্যুৎ বিভাগ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সমন্বয় করেই কাজ চলছে।
এদিকে রূপপুর প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের বিজ্ঞানী ও প্রকল্পের পরিচালক মো. শৌকত আকবর বলেন, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি প্রথম ইউনিটের কাজ শেষ করার প্রক্রিয়া চলছে।
এর আগে রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের অগ্রগতি নিয়ে একটি নিবন্ধ উপস্থাপন করেন ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্টের ভাইস প্রেসিডেন্ট এলেক্সান্দার দেইরি। এতে বলা হয়, রাশিয়ান প্রতিষ্ঠান রোসাটমের বাস্তবায়ন করা রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র এলাকায় সঞ্চালন উপকেন্দ্র নির্মাণে জার্মান কোম্পানি সিমেন্স যন্ত্রপাতি সরবরাহে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রথম ইউনিট উৎপাদনে আসার সময় পিছিয়ে যাওয়া ঠেকানোর ব্যবস্থা নিতে পরামর্শ দিয়েছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান।
আর্থিক বিচারে দেশের সবচেয়ে বড় প্রকল্প রূপপুরে নির্মাণাধীন প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। পাবনার ঈশ্বরদীতে পদ্মাপাড়ে ১২৭৬ একর জমির ওপর বেশ জোরেশোরেই চলছে মূল প্রকল্পের কাজ। ২৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট নির্মাণের কাজ এগিয়েছে ৮৭ শতাংশ। একদিকে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান পিজিসিবির সঞ্চালন প্রকল্পের কাজ এগিয়েছে মাত্র ৫০ শতাংশের কিছুটা বেশি।
এতে আগামী ডিসেম্বরে মধ্যে বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের উৎপাদনে যাওয়ার কথা থাকলেও সেটি বিদ্যুৎ সঞ্চালন অবকাঠামোর কাজের জন্য পিছিয়ে যাচ্ছে। যার কারণে রূপপুর থেকে বিদ্যুৎ পেতে এখন আরও দুই বছরের মতো অপেক্ষা করতে হবে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আওতায় পরমাণু শক্তি কমিশন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াটের দুটি ইউনিট রাশিয়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্ট নির্মাণ করছে। এতে খরচ হচ্ছে প্রায় ১ লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকা। ২০২৩ সালের মধ্যেই কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটের উৎপাদনের আসার কথা ছিল। তবে এখন পর্যন্ত রূপপুর প্রকল্পের খরচ বা মেয়াদ কোনোটাই বাড়াতে হয়নি। ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ রয়েছে।
