জাতীয় ডেস্ক :
নারায়ণগঞ্জে ধলেশ্বরী নদী থেকে নিখোঁজের দুদিন পর ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
নিহত বশির শেখ মুন্সীগঞ্জ জেলার টঙ্গিবাড়ী থানার বেতকা ইউনিয়নের কান্দাপাড়া গ্রামের মৃত আমির হোসেনের ছেলে। তিনি নিজ এলাকায় পুকুর খনন করার ড্রেজার চালাতেন। এর পাশাপাশি মাছের ব্যবসাও করতেন ।
বশির শেখের বেয়াই মো. জসীম সময় সংবাদকে জানান, বশির শেখ গত ২৬ জুলাই রাতে মোবাইলে কল পেয়ে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। পরে তিনি ফিরে না আসায় বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পর ২৭ জুলাই টঙ্গিবাড়ী থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন তার স্ত্রী নূপুর আক্তার। বৃহস্পতিবার (২৮ জুলাই) রাতে নারায়ণগঞ্জ জেলা সদরের চর আলীরটেক এলাকায় ধলেশ্বরী নদীতে মরদেহ ভেসে উঠলে স্থানীয়রা পুলিশকে জানান। রাত ১১টায় মুন্সীগঞ্জের মুক্তারপুর নৌ-থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। খবর পেয়ে স্বজনরা গিয়ে শনাক্ত করলে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায় পুলিশ।
মুক্তারপুর নৌ-পুলিশ স্টেশনের অফিসার ইনচার্জ মো. লুৎফর রহমান সময় সংবাদকে বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাতে ধলেশ্বরী নদীতে মরদেহ ভাসছে౼এমন খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। রাত ১১টায় মরদেহ উদ্ধার করি। এ সময় মরদেহের হাত-পা বাঁধা, মুখে স্কচটেপ ও গলায় রশি প্যাঁচানো ছিল। পেট কাটা ও নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে ছিল। খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন এলে তাদের উপস্থিতিতেই সুরতহাল করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি মর্গে পাঠানো হয়।’
বশিরের ছোট ভাই আলামীন জানান, তার ভাই বশির এলাকায় মাদক ব্যবসা বন্ধ করতে মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন। নিখোঁজের দিন ২৬ জুলাই বিকেলে পুলিশ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে এলাকায় মতবিনিময় সভাও করেছিলেন বশির। এর জের ধরেই মাদক কারবারিরা পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করে মরদেহ নদীতে ফেলে দিয়েছে বলে তার অভিযোগ। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার ও উপযুক্ত শাস্তি দাবি করেন তিনি।
নিহত বশির বেপারি পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে দ্বিতীয়। বিবাহিত জীবনে স্ত্রী ও পাঁচ বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে তার। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় টঙ্গিবাড়ী থানায় মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে নিহতের পরিবার।
