আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
নফল ওমরাহ পালন করার পরিবর্তে এখন ফিলিস্তিনিদের সহায়তা করার আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্ববরেণ্য আলেম ও পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের শরিয়ত আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি, বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া পাকিস্তানের সভাপতি মুফতি তাকি উসমানি।
মঙ্গলবার (১৬ জানুয়ারি) গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসনের শততম দিন উপলক্ষে করাচিতে অনুষ্ঠিত ‘হুরমতে আকসা কনভেনশনে’ দেয়া বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
কনভেনশনে দেয়া বক্তব্যে মুফতি তাকি উসমানি বলেন, বর্তমান সময়ের শ্রেষ্ঠ ইবাদত হচ্ছে গাজার জনগণকে আর্থিক সহায়তা করা। আমার মতে, যারা নফল ওমরাহ করার নিয়ত করেছেন, তারা ওমরাহ’র অর্থ ফিলিস্তিনের দান করলে আরও বেশি সওয়াব পাবেন।
মুফতি তাকি উসমানি আরও বলেন, ‘মুসলিম বিশ্বের অনেক ভূমি বিদেশিরা দখল করে রেখেছে। কিন্তু এখানে ভূমির সমস্যা নয়, এমনকি সমস্যা এটিও নয় যে সেগুলো বিদেশিরা দখল করে রেখেছে। বরং মূল সমস্যা হলো আল আকসা দখল। ফিলিস্তিনের সমস্যা আল আকসার সমস্যা। মুসলিম উম্মাহর ওপর ফরজ হচ্ছে- এটিকে ইহুদিদের কবজা থেকে স্বাধীন করা। কারণ, সমস্যাটি আমাদের প্রথম কেবলাকে ঘিরে। আল আকসাই আমাদের প্রথম কিবলা। এটি আমাদের হৃদয়ের স্পন্দন।’
বিশ্ববরেণ্য এ আলেম বিশ্বের সব মুসলিমদের ও আলেমদের ফজরের নামাজে কুনুতে নাজেলা পড়ারও বিশেষ আহ্বান জানান। যেন মহান আল্লাহ তা’আলা ফিলিস্তিনের মুসলিমদের ভূমি ফিরিয়ে দেন। তাদের এ ভয়ানক ধ্বংস থেকে হেফাজত করেন।
মুফতি তাকি উসমানি বিশ্বের প্রসিদ্ধ একজন ইসলামি স্কলার। তিনি হাদিস, ইসলামি ফিকহ, তাসাউফ ও অর্থনীতিতে বিষয়ে বিশেষজ্ঞ। বর্তমানে ইসলামি অর্থনীতিতে সক্রিয় ব্যক্তিদের অন্যতম, বিদগ্ধ আলেম লেখক ও গবেষক। ১৯৮০ থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় শরীয়াহ আদালত এবং ১৯৮২ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টের শরীয়াহ আপিল বেঞ্চের বিচারপতি ছিলেন। তিনি বিখ্যাত তাফসিরগ্রন্থ ‘মাআরিফুল কোরআন-এর রচয়িতা মুফতি শফি উসমানির সন্তান। বিখ্যাত দুই ইসলামি ব্যক্তিত্ব মাওলানা রফী উসমানি ও মাওলানা ওয়ালী রাজীর ভাই।
মুফতি তাকি উসমানি ১৯৪৩ সালের ৫ অক্টোবর ভারতের উত্তর প্রদেশের সাহারানপুর জেলার দেওবন্দ নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করেন। পরবর্তীতে ভারত বিভাগের পর ১৯৪৮ সালের ১ মে তার পরিবার পাকিস্তানে স্থানান্তরিত হয়। মাওলানা তাকি উসমানির বংশধারা ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা উসমান রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুর সঙ্গে মিলিত হন।
অক্সফোর্ড এনসাইক্লোপিডিয়া অব ইসলামিক ওয়ার্ল্ডে তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ২০০২ সালে দারুল উলুম করাচির শিক্ষক লোকমান হাকিম মুহাম্মদ তাকি আল উসমানি আল-কাজী আল-ফকিহ ওয়া আল-দাঈয়াহ আল-রাহালাহ শিরোনামে একটি জীবনীগ্রন্থ রচনা করেন, যা দামেস্কের দারুল কলম থেকে প্রকাশিত হয়। ২০১১ সালে মালয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শায়খ মুহাম্মদ তাকি উসমানির ‘বুহুস ফি কাজায়া ফিকহিল মুআসিরা’-এর মাধ্যমে তার ফিকহি দৃষ্টিভঙ্গি শীর্ষক পিএইচডি অভিসন্দর্ভ প্রকাশিত হয়। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন বিষয়ে অসংখ্য গ্রন্থ রচনা করেছেন।