হোম খুলনানড়াইল নড়াইলে সেচকাজে বিপ্লব ঘটাচ্ছে সৌরশক্তি, ডিজেল-বিদ্যুৎ সংকটে কৃষকের ত্রাতা ‘সোলার পাম্প’

নড়াইলে সেচকাজে বিপ্লব ঘটাচ্ছে সৌরশক্তি, ডিজেল-বিদ্যুৎ সংকটে কৃষকের ত্রাতা ‘সোলার পাম্প’

কর্তৃক Editor
০ মন্তব্য 54 ভিউজ

মোস্তফা কামাল:

জ্বালানি তেলের সংকট আর ঘনঘন লোডশেডিংয়ের বৃত্তে বন্দি হয়ে যখন দেশের বোরো চাষিরা দিশেহারা, তখন নড়াইল সদর উপজেলায় আশার প্রদীপ হয়ে দেখা দিয়েছে পরিবেশবান্ধব সৌরবিদ্যুৎ চালিত সেচ পদ্ধতি। প্রথাগত ডিজেল ইঞ্জিন বা বিদ্যুৎ চালিত পাম্পের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে এই আধুনিক প্রযুক্তিতে কম খরচে নিরবচ্ছিন্ন পানি পেয়ে নতুন দিনের স্বপ্ন দেখছেন স্থানীয় কৃষকরা।

নড়াইল সদর উপজেলার তুলারামপুর ইউনিয়নের তুলারামপুর মিতনা গ্রামের বিলে বর্তমানে যেদিকে চোখ যায়, শুধু কচি ধানের সবুজ সমারোহ। তবে এই দৃষ্টিনন্দন সবুজের পেছনের কারিগর কোনো শব্দদূষণকারী ডিজেল ইঞ্জিন বা লোডশেডিং আক্রান্ত বৈদ্যুতিক মোটর নয়; বরং আকাশের অফুরন্ত সূর্যরশ্মি। মাঠের এক কোণে সারিবদ্ধভাবে বসানো সোলার প্যানেল থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ সরাসরি শক্তিশালী সাবমারসিবল পাম্প পরিচালনা করছে, যা মাটির গভীর থেকে তুলে আনছে অমূল্য সম্পদ পানি।

এই এলাকার চাষিদের তেলের জন্য দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে হচ্ছেনা।  না লোডশেডিংয়ের কারণে গভীর রাত পর্যন্ত পানির জন্য মাঠ পাহারা দিতে হচ্ছে। কিন্তু সোলার প্যানেল স্থাপনের পর চিত্রটি বদলে গেছে। স্থানীয় কৃষকরা জানান, এখন সূর্য উঠলেই পানির নিশ্চয়তা পাওয়া যায়। এতে তাদের কায়িক শ্রম যেমন কমেছে, তেমনি কমেছে মানসিক দুশ্চিন্তা।

নড়াইলের মাঠের কৃষকরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, “সোলার প্যানেল আমাদের জন্য আশীর্বাদ।  টাকা দিয়েও সময়মতো তেল পাওয়া যায না, আবার লোডশেডিংয়ের কারণে মোটর চলত না। এখন সোলার আসায় খরচ অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে এবং পানির কোনো অভাব হচ্ছে না। এই ব্যবস্থা সারা জেলায় ছড়িয়ে দিলে কৃষকরা ঘুরে দাঁড়াবে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যমতে, বিশেষ প্রকল্পের আওতায় স্থাপিত এই সোলার পাম্পগুলো প্রতিদিন প্রায় ১৬ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্নভাবে সচল থাকে। প্রতিদিন গড়ে প্রায় লাখ লিটার পানি দিয়ে সেচ দেওয়া হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ বিঘা জমিতে। হিসাব অনুযায়ী, এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৮৮ ইউনিট বিদ্যুৎ এবং ২৪ লিটার ডিজেল সাশ্রয় হচ্ছে। শুধু বোরো ধানই নয়, সারা বছরই এই সেচ সুবিধায় পাট বিভিন্ন ধরনের শীতকালীন শাকসবজি চাষ করে লাভবান হচ্ছেন চাষিরা।

নড়াইল সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান এই প্রযুক্তির সফলতার কথা উল্লেখ করে বলেন, “বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সৌরশক্তি ব্যবহারের কোনো বিকল্প নেই। বোরো ধান, পাট সবজিসহ অন্যান্য ফসলের সেচ কার্যক্রমকে সহজ ব্যয়সাশ্রয়ী করতে এই সোলার পাম্পগুলো অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করছে। কৃষকরা যৌথভাবে এই পাম্প পরিচালনা করায় উৎপাদন খরচও অনেক কম হচ্ছে। আমরা আশা করছি, এই মডেলটি সারাদেশে ছড়িয়ে দিতে পারলে বাংলাদেশের কৃষি খাতে একটি আমূল পরিবর্তন আসবে।

জ্বালানি নির্ভরতা কাটিয়ে কৃষিকে টেকসই লাভজনক করতে দেশের প্রতিটি অঞ্চলে সরকারি বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে এমন সোলার প্যানেল স্থাপনের জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। প্রকৃতির এই অফুরন্ত বিনামূল্যে পাওয়া শক্তি ব্যবহার করে বাংলাদেশ দ্রুতই কৃষিস্বনির্ভর হয়ে উঠবে এমনটাই নড়াইলের পরিশ্রমী চাষিদের প্রত্যাশা।

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন