নড়াইল প্রতিনিধি:
নড়াইল শহরের ভওয়াখালী এলাকার দেবদার তলা চত্বরে গভীর রাতে এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। তবে স্থানীয় এলাকাবাসীর অতর্কিত ও সংঘবদ্ধ প্রতিরোধের মুখে ওই নেতা ও তার সহযোগীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে বাধ্য হন।
অভিযুক্ত মফিজ জমাদার ভওয়াখালী গ্রামের মৃত ফজল জমাদারের ছেলে এবং নড়াইল পৌর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বরত আছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভওয়াখালী মৌজার এসএ ৪৮৫ খতিয়ানে ১৪৪২ দাগ এবং হাল খতিয়ান ২৪৬–এর ৪২১২ দাগের জমিটি মৃত আউয়াল মন্ডল ও তার স্ত্রী মৃত আনোয়ার খাতুনের নামে রেকর্ডভুক্ত। গতকাল দিবাগত গভীর রাতে ওই জমিটি দখলের উদ্দেশ্যে মফিজ জমাদার তার একদল অনুসারী নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন। জনশূন্য ও নীরবতার সুযোগ নিয়ে তারা জমির সীমানা পরিবর্তন বা অবৈধ কাঠামো নির্মাণের চেষ্টা চালান।
গভীর রাতে অস্বাভাবিক শব্দ ও কর্মকাণ্ড টের পেয়ে এলাকার সাধারণ মানুষ ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝতে পেরে এলাকাবাসী দ্রুত সংঘবদ্ধ হয়ে দখলচেষ্টার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
একপর্যায়ে এলাকাবাসীর কঠোর অবস্থান ও পুলিশের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে মফিজ জমাদার ও তার লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে সটকে পড়েন।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভওয়াখালী এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গভীর রাতে রাজনীতির প্রভাব খাটিয়ে এ ধরনের দখলচেষ্টা এলাকার শান্তিশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করছে। তারা এ বিষয়ে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ এবং সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। এলাকাবাসীর মাঝে এখনো এই ঘটনা নিয়ে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা মফিজ জমাদার গভীর রাতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকার বিষয়ে বলেন , এক সময় ঐখানে একটা খাল ছিল, এখন খাল বন্দ হয়ে যাওযায় জায়গাটা খালি পড়ে আছে । জেলা পরিষদ থেকে ইজারা নেওয়া হয়েছে। এলাকার লোকজন একটা ঘর তোলার জন্য গিয়েছিল আমি তাদের সাথে ছিলাম।
এ বিষয়ে জেলা পরিষদ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন, এই জায়গা কাউকে বন্দোবস্ত দেয়া হয়নি।
তবে আজিজুল ইসলাম নামে এক ব্যাক্তি এই জমি তাদের বলে দাবী করে বলেন , ভওয়াখালী মৌজার এসএ ৪৮৫ খতিয়ানে ১৪৪২ দাগ এবং হাল খতিয়ান ২৪৬–এর ৪২১২ দাগের জমিটি আমার পিতা মৃত আউয়াল মন্ডল ও মাতা মৃত আনোয়ার খাতুনের নামে রেকর্ডভুক্ত। প্রায় ১শত বছর এই জমি আমরা ভোগদখল করে আসছি।
