জাতীয় ডেস্ক :
নেত্রকোনার হাওড়াঞ্চলে ধানের কাঙ্ক্ষিত ফলন না পাওয়ায় লোকসান গুণতে হচ্ছে কৃষকদের। তাদের সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ধান কাটতে আসা শ্রমিকরাও। আগাম ঢলে ফসল তলিয়ে যাওয়ার আতঙ্কে আধা পাকা ধান কাটায় এমন ক্ষতিতে পড়েছেন চাষিরা। তার ওপর ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে না কৃষকসহ শ্রমিকরাও।
হাওড় ঘুরে দেখা গেছে, টানা কয়েক সপ্তাহের পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোনার হাওড়াঞ্চল খালিয়াজুরীর ধনু নদসহ বিভিন্ন নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তলিয়ে গেছে তীরবর্তী কয়েকশ হেক্টর ফসলি জমি। হুমকির মুখে পড়েছে ছোটবড় বেশ কটি ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধ। যদিও গত দুদিন ধরে ধনু নদের পানি কিছুটা কমেছে বলে জানা গেছে। তারপরও শনিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুর পর্যন্ত বিপৎসীমার ২২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। যে কারণে শেষ রক্ষার ভয় এখনো রয়েছে কৃষকের। যে কোনো সময় বাঁধ ভেঙে ফসল ডুবির আশঙ্কায় ইতিমধ্যে আধা পাকা ধানই কেটেছেন হাওড়াঞ্চলের অধিকাংশ চাষি।
এরইমধ্যে হাওড়ের প্রায় ৭০ ভাগ ধান কেটে ফেলেছেন কৃষকরা। কিন্তু ধানের ফলন হয়েছে অর্ধেক। তার ওপর চিটা হয়ে গেছে ধানে। এমন দুর্যোগের মাঝে ন্যায্যমূল্যও পাচ্ছে না তারা। এ অবস্থায় শুধুমাত্র কৃষকরাই নয়, চরম বিপাকে পড়েছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাওড়ে ধান কাটতে আসা শতশত শ্রমিক।
এদিকে কৃষকদের অভিযোগ, চারা রোপণে খোঁজ নেয়নি কৃষি বিভাগও। তারা বলছেন, কৃষি বিভাগ তাদের সময় থাকতে পরামর্শ দিলে সে অনুযায়ী বীজ রোপণ করতে পারতেন তারা।
এদিকে হাওড়ের ধানের জাত পুরনো হয়ে যাওয়ায় ফলন কম হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক কৃষিবিদ এফ এম মোবারক আলী। তিনি বলেন, ২৮ ব্রি ও ২৯ ব্রি ধানের জাতের বদলে ৮৮ এবং ৮৯ জাতের ধান রোপণের পরামর্শ দেন কৃষক ভাইদের।
তিনি বলেন, ২৮ ধানের বয়স হয়ে গেছে ২৬ বছর। যে কারণে ফলন এখন কম হবে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এগুলোর কমে গেছে। সেইসাথে প্রকৃতিকগতভাবেই ১০ থেকে ১৫ ভাগ ধানে চিটা হয়ে যাবে। কাজেই চিটা পাকিয়ে কাটলে এগুলো ঝরে যাবে। ২৮ ব্রি ধান চাষ করতে থাকলে দিন দিন ক্ষতিগ্রস্ত হবেন কৃষকরা। তাই আগামীতে তিনি ওগুলোর বিকল্প ধান ব্রি ৮৮, ব্রি ৮৯ চাষ করার পরামর্শ দেন।
তিনি আরও বলেন, হাওড়াঞ্চলের আবাদটা ত্রিমুখী বিপদের মধ্যে। বেশি আগাম লাগালে কোল্ড ইনজুরিতে আক্রান্ত হবে, দেরিতে হলে আগাম ঢলে তলিয়ে যাবে আবার শর্ট ডিওরেশনের হলে ফলন কম হবে। কাজেই ধনু নদের পাড়ে কীর্তনখোলা বেড়িবাঁধ স্থায়ী করার বিকল্প নেই।
