হোম জাতীয় ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে কিশোরীকে হত্যা: স্বামী-স্ত্রীর যাবজ্জীবন

জাতীয় ডেস্ক :

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে কিশোরীকে হত্যা মামলায় এক দম্পতির যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা; অনাদায়ে আরও তিন মাস করে কারাদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়েছে। একই মামলায় অবৈধ দেহব্যবসার আরেকটি আইনে স্বামী-স্ত্রী দুজনকে পাঁচ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৫ নভেম্বর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক নাজমুল হক শ্যামল এ রায় দেন।

নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক আসাদুজ্জামান সময় সংবাদকে রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন: পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া থানার পাঁচদনীয়া গাজী বাড়ির আব্দুল মজিদ ওরফে মান্নানের ছেলে স্বপন গাজী (৩৬) ও তার স্ত্রী আঁখি আক্তার তমা (৩০)। তারা দুজনই পলাতক রয়েছেন।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, ওই দম্পতি ফতুল্লার দাপা ইদ্রাকপুর এলাকায় পাইলট স্কুল সংলগ্ন রাসেল মিয়ার বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। ২০১৩ সালের ১০ নভেম্বর সকাল সাড়ে ৬টার দিকে বাড়িওয়ালা রাসেল ও তার স্ত্রী সাবিনা ভাড়াটিয়া স্বপন গাজীর রুমে কান্নাকাটির শব্দ শুনে সেখানে যান। গিয়ে দেখেন স্বপন ও তার স্ত্রী আঁখি কান্নাকাটি করছেন। তবে তাদের অসংলগ্ন কথাবার্তায় সন্দেহ হলে বাড়িওয়ালা থানা পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ এসে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে পারে, ভায়রার মেয়ে পরিচয় দেয়া কিশোরী মর্জিনা আক্তারকে (১৬) ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে বালিশচাপা দিয়ে শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করেন স্বপন। এতে সহযোগিতা করেন তার স্ত্রী আঁখি।

এ সময় পুলিশ তাদের ঘর থেকে নূরজাহান ও নূরুন্নাহার নামে আরও দুই তরুণীকে উদ্ধার করে। স্বপন গাজী ও তার স্ত্রী আঁখি নানা প্রলোভনে তাদের বাসায় এনে দেহব্যবসা করাতেন বলে উদ্ধার তরুণীরা পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন।

এ ঘটনায় বাড়িওয়ালা রাসেল বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পর আসামিরা আদালত থেকে জামিন নিয়ে আত্মগোপন করেন।

এদিকে দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আসামিদের দোষ প্রমাণ হওয়ায় আদালত মঙ্গলবার এ রায় দেন।

Khaleda

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন