জাতীয় ডেস্ক :
ধর্ম অবমাননার মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন মুন্সীগঞ্জের বিজ্ঞানশিক্ষক হৃদয় চন্দ্র মণ্ডল। শ্রেণিকক্ষের আলোচনার সূত্র ধরে করা এই মিথ্যা মামলায় ১৯ দিন কারাবরণ এবং প্রায় ৫ মাস মামলার ঘানি টানেন তিনি।
বুধবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে মুন্সীগঞ্জ আমলি আদালত-১-এর বিচারক জশিতা ইসলাম এ রায় দেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট দেবদাশ মন্ডল দীপু বলেন, ‘অভিযোগটিই ছিল মিথ্যা। তদন্তে সেটিই প্রমাণিত হয়েছে। আদালত তদন্ত রিপোর্টে সন্তুষ্ট হয়ে আসামিকে অব্যাহতি দিয়েছেন।’
মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়ে হৃদয় চন্দ্র মণ্ডল উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, ‘সত্য প্রতিষ্ঠিত হলো। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ফিরে আসবে। তবে এ ঘটনার পেছনে যারা জড়িত তাদের চিহ্নিত করার দাবি জানাচ্ছি। কারণ, অপরাধীরা শাস্তি পেলে এমন অরাজক পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটবে না।’
এই সত্য প্রতিষ্ঠায় যারা অবদান রেখেছেন, তাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এই শিক্ষক।
আদালতের এই আদেশে বিশিষ্টজনরা মনে করছেন, শিক্ষকরা স্বাধীনভাবে ক্লাসে পড়নোর ক্ষেত্রে এই আদেশ একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
মুন্সীগঞ্জে ’৭১-এর ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ কাদের মোল্লা বলেন, ‘শিক্ষকদের বিজ্ঞান ক্লাস নিয়ে আতঙ্ক-উৎকণ্ঠার অবসান ঘটল।’
জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও জেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট অজয় চক্রবর্তী বলেন, ‘আদালতের এই আদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্যও একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকল। তবে যে মহলটি এখানকার সুন্দর পরিবেশ নষ্ট করতে চেয়েছে, অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির অপচেষ্টা চালিয়েছে, তাদের চিহ্নিত করা জরুরি।’
গত ২০ মার্চ বিজ্ঞান ক্লাসের কথোপকথন অডিও রেকর্ড করা হয়। ভুল বোঝাবুঝির সমাধান না হওয়ায় বিলম্বের সুযোগে অডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া হয়। তৃতীয় দিনের মাথায় ২২ মার্চ শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে বিক্ষোভ ও মারমুখী হয়ে ওঠে। পরে ২২ মার্চ রাতে হৃদয় মণ্ডলের বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃতভাবে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত, ধর্মীয় বিশ্বাসকে অপমান করা ও ধর্মীয় গ্রন্থের অবমাননার অভিযোগ এনে বিদ্যালয়টির ইলেকট্রিশিয়ান মো. আসাদ বাদী হয়ে মামলা করেন। এরপর শিক্ষক হৃদয় মণ্ডলকে গ্রেফতার করা হয়।
মুন্সীগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে গত ২৮ মার্চ ও ৪ এপ্রিল তার জামিন আবেদন করা হলেও আদালত নাকচ করেন। এরপর থেকেই গণমাধ্যমসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার ঝড় ওঠে। এরপরও হৃদয় মণ্ডলকে ১৯ দিন কারাগারে থাকতে হয়।
পরে ১০ এপ্রিল কারামুক্ত হয়ে আবারও বিদ্যালয়ে ফিরে যান হৃদয় মণ্ডল। তবে এই সময়ে স্ত্রী-সন্তানসহ তার পুরো পরিবারকে নানা প্রতিকূল পরিস্থিতিতে পড়তে হয়।
হৃদয় মণ্ডল মনে করেন, আদালতের এই আদেশে তিনি কলঙ্কমুক্ত হয়েছেন। তিনি জানান, এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অদিধফতর থেকেও একটি তদন্ত কমিটি হয়। সেই দাফতরিক তদন্তেও তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন।
