বাণিজ্য ডেস্ক :
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফের ঋণ আমদানি ব্যয় মেটানো, বাজেট ও কৃষিখাতে সহায়তা এবং সামাজিক নিরাপত্তা বাড়াতে ব্যবহার করলে ভালো ফল মিলবে। এমনটাই মনে করেন বিশ্লেষকরা। তাদের পরামর্শ, এ ঋণের অর্থ যেন কোনোভাবেই অপচয় না হয় সেদিকে খেয়াল রেখে পরিকল্পনা সাজাতে হবে।
অনেক জল্পনা কল্পনার পর আইএমএফ বাংলাদেশকে সাড়ে ৪ বিলিয়ন ডলার ঋণ দিতে সম্মত হয়েছে। যার গড় সুদ হার ২ দশমিক ২ শতাংশ।
এই ঋণের মূল উদ্দেশ্য হবে বাংলাদেশের সমষ্টিক অর্থনৈতিক সুরক্ষা, প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা, ব্যালেন্স অব পেমেন্টের চাপ সামলানো আর জলবায়ু সুরক্ষা তহবিলে সহায়তা করা। এসবের জন্য রাজস্ব বাড়ানো, রিজার্ভ গণনা পদ্ধতি পরিবর্তন, ভর্তুকি কমানোসহ বেশ কিছু সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছে সংস্থাটি। বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশের নিজেদের প্রয়োজনেই এইসব সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা জরুরি।
অর্থনীতিবিদ তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) মতো প্রতিষ্ঠান থেকে আমরা যতখানি সহযোগিতা পাই তা ভালো। যদি আমরা অন্যান্য বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট প্রকল্পগুলো ভালোভাবে বাস্তবায়ন করতে পারি, এখান থেকেও আমাদের বৈদেশিক সাহায্যের প্রবাহ বাড়বে। সুতরাং আমাদের এসব বিষয়ে মনোযোগী করতে হবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ঋণ আমদানি ব্যয় মেটানো, বাজেট সহায়তা, জলবায়ুর প্রভাব মোকাবিলা, কৃষিখাতে সহায়তা, সামাজিক নিরাপত্তা বাড়াতে ব্যবহার করলে ভালো ফল মিলবে।
এদিকে অর্থনীতিবিদ এম আবু ইউসুফ বলেন, আসলে কিছু কিছু রিফর্ম আমাদের নিজেদের জন্যই দরকার। আমাদের নিজেদের স্বার্থেই আমাদের তা করতে হবে।
অর্থনীতিবিদ মাহফুজ কবীর বলেন, যদি ব্যবসা বাণিজ্য ভালোভাবে না চলে তাহলে সরকার আসলে টাকা পাবে কোথায় থেকে। আর মানুষের কাছে তো আয় থাকতে হবে, কারণ সেখান থেকেই তো ইনকাম ট্যাক্স আসে। কাজেই এ দুটো জায়গাই বড় রকমের চাপ রয়েছে। এর পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনজনিত যে সমস্যা সেটি প্রতিবছরই থাকে। আর এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। সুতরাং এ তিনটি জায়গাতেই আইএমএফের ঋণ ব্যবহার করা হবে।
আগামী ফেব্রুয়ারিতে ৪৪৮ মিলিয়ন ডলার ছাড় করার মধ্য দিয়ে শুরু করে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ৭ কিস্তিতে আইএমএফের ঋণ কার্যক্রম চলবে।
