খেলাধূলা ডেস্ক :
দুয়ার খুলেছে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের, দুয়ার খুলেছে বহুল প্রতীক্ষিত পদ্মা সেতুর। শনিবার (২৫ জুন) সকালে ৬.১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এ সেতু উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ বিশেষ দিনে মিরপুরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও (বিসিবি) ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেয়, সেতুর উদ্বোধনে সামিল হন বোর্ড কর্মকর্তারা। সেখানেই বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন বলেন, বাংলাদেশকে আরও উচ্চতায় নিয়ে যেতে শেখ হাসিনার কোনো বিকল্প নেই।
শুরুর দিক থেকে পদ্মা সেতু তৈরির পরিকল্পনা নানা ধরনের ষড়যন্ত্রের মুখে পড়ে। এগুলো মোকাবিলা করেই শেখ হাসিনা তার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করেছেন।
এসব নিয়ে পাপন সাংবাদিকদের বলেন, ‘পদ্মা সেতু উদ্বোধনের এই শুভ দিনে বিসিবির পক্ষ থেকে আমরা মাদরাসা ও এতিমখানায় দোয়া ও খাওয়ার ব্যবস্থা করেছি। আমরা দোয়া করেছি প্রধানমন্ত্রীর জন্য। উনার দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য কামনা করি। আমি মনে প্রাণে বিশ্বাস করি, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র আগেও ছিল, সামনেও থাকবে। আর এগুলো মোকাবিলা করা শেখ হাসিনার পক্ষেই সম্ভব। এবং দেশকে আরও উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার জন্য উনার কোনো বিকল্প নেই। প্রধানমন্ত্রী ছাড়া এটা কেউ পারবেও না।’
পাপন তার বক্তব্যের শুরুটাই করেন পদ্মা সেতু নিয়ে। বিশেষ এ দিনে ক্রিকেট নিয়ে কিছু বলতে চাননি তিনি। তার ভাষ্য, ‘আজকে ক্রিকেট নিয়ে আমি কিছুই বলতে চাই না। আমরা পদ্মা সেতুর ওপরই মনযোগ দিতে চাই। পদ্মা সেতু বাস্তবায়নের জন্য যে মানসিকতা ও সাহস দরকার সেটা সবার নেই। এ ধরনের একটা স্বপ্ন দেখেছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তার স্বপ্ন ছিল বাঙালি জাতির মুক্তি নিয়ে। ঠিক তেমনি শেখ হাসিনা স্বপ্ন দেখেছিলেন বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় মানুষদের মুক্তি নিয়ে।’
পাপন যোগ করেন, ‘স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নে যেমন বিরোধিতা হয়েছিল, তেমনি পদ্মা সেতুর স্বপ্ন বাস্তবায়নেও বিরোধিতা হয়েছে। দেশি ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়ন হয়েছিল, তেমনি পদ্মা সেতুর স্বপ্নও দেশি ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে সফল হয়েছে।’
বিশেষজ্ঞরা বলে থাকেন, পদ্মা সেতু হওয়ায় দেশের অর্থনীতি দ্রুত পরিবর্তিত হবে। বিশেষ করে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় মানুষদের কষ্ট লাঘব হবে। দ্রুত সময়ের মধ্যেই দেশের প্রাণকেন্দ্র ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন তারা। কিন্তু পদ্মা সেতু না হলে কি হতো? পাপনের ভাষায়, ‘কত প্রকল্পই তো বাস্তবায়ন হয় না। পদ্মা সেতুর ক্ষেত্রেও এমন হলে সেটা আমাদের জাতির জন্য একটা লজ্জাজনক ব্যাপার হতো। কাজেই আমি মনে করি যে এই পদ্মা সেতুটা বাংলাদেশের মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর স্বপ্ন। এটা রূপকথার গল্পের মতো, আর এখানে শুধু একটা নামই লেখা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।’
পাপন আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্বপ্ন যেমন বঙ্গবন্ধুর পক্ষে দেখা সম্ভব হয়েছিল, তেমনি পদ্মা সেতুর স্বপ্ন দেখা একমাত্র শেখ হাসিনার মাধ্যমেই সম্ভব হয়েছে। আর কারো পক্ষে এটা সম্ভব না। অন্য কেউ এটা চিন্তাই করতে পারে না। এটা আমাদের গৌরব, বাঙালি জাতির মর্যাদা, এটা আমাদের অহংকার৷’
