হোম আন্তর্জাতিক দখলকৃত দেশের স্বীকৃতি চায় ‘পূর্ব তুর্কিস্তানের নির্বাসিত সরকার’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

উরুমচি গণহত্যার ১৩তম বার্ষিকী উপলক্ষে কয়েক ডজন উইঘুর মুসলিম স্থানীয় সময় মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসের সামনে একটি সমাবেশের আয়োজন করে। সমাবেশে তারা মার্কিন সরকারকে পূর্ব তুর্কিস্তানকে একটি দখলকৃত দেশ হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়ার এবং তার জাতীয় আত্মনিয়ন্ত্রণ ও স্বাধীনতার অধিকারকে সমর্থন করার আহ্বান জানিয়েছে।

নির্বাসিত পূর্ব তুর্কিস্তান সরকার এবং পূর্ব তুর্কিস্তান জাতীয় জাগরণ আন্দোলন ২০০৯ সালের ৫ জুলাই সংঘটিত উরুমচি গণহত্যার স্মরণে হোয়াইট হাউস থেকে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট পর্যন্ত একটি শান্তিপূর্ণ পদযাত্রার আয়োজন করে। উরুমচি জিংজিয়াং প্রদেশের রাজধানী যেখানে ১ কোটি ১০ লাখ উইঘুর মুসলিমের বাস। এই অঞ্চলের আগের নাম ‘পূর্ব তুর্কিস্তান’। এখন চীনা কমিউনিস্ট পার্টি এর নাম বদলে ‘জিনজিয়াং প্রদেশ’ নামকরণ করেছে।

বার্তা সংস্থা এএনআইয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, কমিউনিস্ট চীন সরকার তার সামরিক বাহিনীকে দিয়ে পূর্ব তুর্কিস্তানে তাণ্ডব চালিয়েছে, উইঘুর বিক্ষোভকারীদের গুলি করেছে এবং নির্বিচারে হাজার হাজার মানুষকে গ্রেফতার করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীকালে, সরকার ৫ জুলাইয়ের গণহত্যার ঘটনাটিকে বেশ কয়েক মাস ধরে বেআইনিভাবে উইঘুরদের অপহরণ করার অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে। ফলস্বরূপ, ব্যাপক পুলিশি অভিযান বৃদ্ধি পায় এবং শত শত উইঘুর পুরুষ নিখোঁজ হয়ে যায়।

ধারণা করা হয়, ২০০৯ সালের জুলাইয়ের মাঝামাঝি পর্যন্ত প্রায় ৪ হাজার মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। উরুমচির কারাগারগুলো এতটাই পরিপূর্ণ ছিল যে নতুন গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের পিপলস লিবারেশন আর্মির গুদামে আটকে রাখা হয়েছিল। তবে কারাগারে থাকা ব্যক্তিদের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি বলেও জানিয়েছেন অনেকে।

ঘটনার পর, ইন্টারনেট, মোবাইল ফোন পরিষেবা এবং আউটবাউন্ড আন্তর্জাতিক কলগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল যাতে ওই এলাকায় কি হচ্ছে তা বাইরের মানুষ জানতে না পারে এবং ২০১০ সালের মে মাসের আগ পর্যন্ত পরিস্থিতি এমনই ছিল।

এর পর ১৩ বছর কেটে গেছে এবং পূর্ব তুর্কিস্তানের পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। কারণ উইঘুর, কাজাখ, তাতার, কিরগিজ, উজবেক এবং অন্যান্য জাতিগত তুর্কিরা চীনা দখলদারিত্বের অধীনে গণহত্যা এবং গণ বন্দিদশার মুখোমুখি হয়েছে।

সমাবেশে পূর্ব তুর্কিস্তানের নির্বাসিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী সালেহ হুদায়ার এই অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, ৫ জুলাই উরুমচি গণহত্যা ছিল গত কয়েক দশকে চীন সরকারের উপনিবেশ, গণহত্যা এবং পূর্ব তুর্কিস্তানের দখলের একটি চূড়ান্ত পরিণতি, এবং এটি উইঘুরদের প্রতিরোধের একটি চিহ্নও ছিল।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, উরুমচি গণহত্যায় প্রতিফলিত জাতিগত নিপীড়ন আজও বহন করা হচ্ছে।

পরে বিক্ষোভকারীরা যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছে উইঘুর এবং অন্যান্য তুর্কি জনগণের বিরুদ্ধে চীনের চলমান গণহত্যাকে স্বীকার করার জন্য পূর্ব তুর্কিস্তানকে তিব্বতের মতো একটি অধিকৃত দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানায়।

নির্বাসিত পূর্ব তুর্কিস্তান সরকার বিশ্বাস করে যে, নজিরবিহীন গণহত্যা ও নিপীড়নের মুখোমুখি হওয়ার পর পূর্ব তুর্কিস্তানের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার করাই উইঘুর এবং অন্যান্য তুর্কি জনগণের জন্য একমাত্র পথ।

Khaleda

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন