খেলাধূলা ডেস্ক :
চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের বিপক্ষে রোমাঞ্চকর জয়ে বিশ্বকাপ শুরু করেছিল ভারত। এরপর গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেমিফাইনালে উঠে আসে রোহিত শর্মার দল। তবে ফাইনাল নিশ্চিতের ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হেরে বিদায়ঘণ্টা বেজে গেছে টিম ইন্ডিয়ার। বলতে গেলে ইংলিশদের কাছে পাত্তাই পায়নি ভারত। হার্দিক পান্ডিয়ার ঝোড়ো ইনিংসে ভর করে ১৬৮ রানের চ্যালেঞ্জিং পুঁজি নিয়েও হেলস-বাটলার দাপটে দশ উইকেটের বড় ব্যবধানে উড়ে গেছে দক্ষিণ এশিয়ার জায়ান্টরা।
এ নিয়ে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে টানা চার বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল থেকে ছিটকে গেল ভারত। বৈশ্বিক টুর্নামেন্টগুলোর গ্রুপপর্বে দাপট দেখানোর পরও টিম ইন্ডিয়া প্রতিবারই ছন্দ হারাচ্ছে নকআউটে এসে। যেন সেই পুরনো দক্ষিণ আফ্রিকা।
একটু পেছনে ফিরে তাকানো যাক, ২০১৪ সালে ধোনির ভারত যখন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে বাংলাদেশে আসে, অনেক বিশেষজ্ঞ ধরেই নিয়েছিলেন ধোনির হাতেই উঠবে ট্রফি। গ্রুপপর্বে পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া ও ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছিলেন তারা। সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকাকেও দাপটের সঙ্গে হারায়। কিন্তু তারপরই বিপর্যয়। ফাইনালে মালিঙ্গার শ্রীলঙ্কার হাতে পর্যুদস্ত হতে হয় ভারতকে। প্রথমে ব্যাট করে মাত্র ১৩০ রানে আটকে যায় ভারত। সাঙ্গাকারা-জয়াবর্ধনের শ্রীলঙ্কা সেই রান টপকে যায় অনায়াসে।
এরপর আসে ২০১৫ বিশ্বকাপ। ভারত লড়াইয়ে নেমেছিল আয়োজক দেশ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। হার না মানা অস্ট্রেলীয় জেদের কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ সেমিফাইনালে। সেবারও গ্রুপপর্বে অপ্রতিরোধ্য ছিল ভারত। জয় এসেছিল সবকটি ম্যাচেই। কিন্তু সেমিফাইনালে স্টিভ স্মিথের শতরানে ভর করে ৩২৮ রানের বড় টার্গেট দেয় অস্ট্রেলিয়া। রোহিত-শিখর ধাওয়ান জুটি ভালো শুরু করলেও ব্যর্থ হন কোহলি। রাহানে-ধোনি চেষ্টা করলেও ম্যাচ শেষ করতে পারেননি। কি আশ্চর্য মিল! সেবারও রান আউট হয়ে ফিরতে হয় ধোনিকে। অস্ট্রেলিয়ার সামনে থমকে যায় পরপর দু’বার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন।
এরপর ২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ ছিল ভারত। এশিয়া কাপ জিতে দারুণ ফর্মে থাকা ভারতের কাছে আদর্শ পরিস্থিতি ছিল শিরোপা বগলদাবা করার। কিন্তু শুরুতেই কিউইদের বিপক্ষে মাত্র ১২৭ রান করতে ব্যর্থ হন কোহলিরা। যদিও তারপর ফিরে আসে দাপটের সঙ্গে। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। সেবারের চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ভারত হেরে যায় সেমিফাইনালে। প্রথমে ব্যাট করে ভারত ১৯২ রানের স্কোর দাঁড় করে। কিন্তু ক্যারিবিয়ান দৈত্যরা সেই রান টপকে যায় দুই বল বাকি থাকতেই। তাদের আটকাতে ব্যর্থ হয় ভারতীয় বোলাররা।
২০১৭ সালে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির হার এখনও দগদগে হয়ে আছে ভারতীয় সমর্থকদের মনে। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের বিপক্ষে করুণ আত্মসমর্পণ। প্রথমে ব্যাট করে ফখর জামানের শতরানে ভর করে ৩৩৮ রান তোলে পাকিস্তান। সেবারের শক্তিশালী ভারতীয় ব্যাটিং-এর সামনে ওই রানও ছিল খুব সহজ। কিন্তু আমির ও হাসানদের পেস আক্রমণের সামনে কোনো জবাব খুঁজে পায়নি ভারতীয় ব্যাটাররা। মাত্র ১৫৮ রানে গুটিয়ে যায় ভারতের ব্যাটিং। তবে সেই হার যেন ভারতকে ঠেলে দিচ্ছে ‘চোকার্স’ তকমার দিকে।
২০১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপে প্রথম থেকে দাপটের সঙ্গে খেলে গ্রুপপর্বের নয় ম্যাচে মাত্র এক হার নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকা ভারত কিউইদের হারিয়ে প্রথম দল হিসেবে ফাইনাল নিশ্চিত করবে এ ধারণা বেশিরভাগ ক্রিকেটবোদ্ধারই ছিল। কিন্তু এজবাস্টনের সেই ম্যাচে বিদায়ঘণ্টা বেজে যায় উল্টো ভারতের। এরপর ২০২১ সালে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালেও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে স্বপ্নভঙ্গ হয়।
২০১৪ থেকে স্বপ্নভঙ্গের চিত্র
২০১৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে লঙ্কানদের কাছে হার।
২০১৫ ওয়ানডে বিশ্বকাপের সেমিতে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হার।
২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিতে উইন্ডিজের কাছে হার।
২০১৭ চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ফাইনালে পাকিস্তানের কাছে ধরাশায়ী।
২০১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপের সেমিতে নিউজিল্যান্ডের কাছে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়।
২০২১ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে সেই নিউজিল্যান্ডের কাছেই হার।
সবশেষ ২০২২ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের কাছে হার।
