ঝিনাইদহ প্রতিনিধি :
নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ঝিনাইদহের সড়ক মহাসড়কে অবৈধভাবে তিন চাকার যানবাহনের চলাচল বেড়েছে কয়েকগুণ। এতে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। আর এসব যানবাহনের চলাচল ও নতুন করে অটোরিকশার লাইসেন্স দেয়া বন্ধ করতে জোর দাবি করেছেন ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ পৌরবাসী।
সরেজমিন দেখা যায়, কালীগঞ্জ শহরের পুরাতন ব্রিজ , মধূগঞ্জবাজার, হাসপাতালসড়ক, অগ্রণীব্যাংক সামনে, মুরগীহাটা, কলেজরোড, কালীবাড়ী সামনে শতশত অটোরিকশা শহর অভিমুখে ভিড় করছে। সকল নিয়মকানুন ও নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পৌরসভায় চলাচল করছে অসংখ্য তিন চাকার যানবাহন।
এতে একদিকে যেমন শহরের ধারণক্ষমতা লোপ পেয়েছে, তেমনি সৃষ্টি হয়েছে তীব্র যানজট। আর নিয়ন্ত্রণহীন এসব যানবাহনের ফলে তীব্র যানজটে নাজেহাল হতে হচ্ছে বিভিন্ন ব্যবসায়ী, অফিসগামী এবং পথচারীদের। হাসপাতাল সড়কে যানজটে পরে অ্যাম্বুলেন্সে থাকা রোগীর মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে। অবৈধ এবং পরিমাণে অসংখ্য এই তিন চাকার যানবাহন চলাচল বন্ধ করতে ট্রাফিক পুলিশ যথেষ্ট তৎপর হওয়া সত্তে¡ও নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে ।
এ প্রসঙ্গে কালীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আশরাফুল আলম বলেন, শহরে তিন চাকার যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের জন্য মিটিং করা হবে। শহরে অসংখ্য অটোরিকশার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। যার ফলে হঠাৎ করে এই বিপুল পরিমাণ অটোরিকশা বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না। শহরের ভিতরে বিভিন্ন সড়কে থেমে থাকা এইসব অবৈধ অটোরিকশা ও সিএনজিগুলোকে শহরের বাহিরে স্থানান্তর করার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হবে। খুব শীঘ্রই এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
তিন চাকার যানবাহন চলার বিষয়ে অভিযোগ করেন বেসরকারি কর্মকর্তা মনির হোসেন। তিনি বলেন, অফিস সময়ে এবং অফিস শেষে এই তিন চাকার গাড়ির কারণে ভীষণ সমস্যায় পরতে হয়। সময় নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনার শিকার হতে হয় প্রতিনিয়ত।পৌর এলাকার ২ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা রিপন হোসেন বলেন, অটোরিকশা এবং সিএনজির কারনে শহরের প্রবেশ মুখ সবসময় তীব্র যানজট লেগেই থাকে। ফলে নিজস্ব যানবাহন রেখে অনেক সময় হেঁটেই যাতায়াত করতে হয়। তারপরও দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকেই যায়।
কালীগঞ্জ নিরাপদ সড়ক চাই য়ুগ্ন আহবায়ক তানজির রহমান বলেন, তিন চাকার অটোরিকশা ও অবৈধ যানবাহনের কারণে অহরহ দুর্ঘটনা ঘটছে। অকালে অসংখ্য প্রাণ ঝরছে প্রতিদিন। এ ধরনের তিন চাকার যানবাহনের মহাসড়কে চলাচল অবিলম্বে বন্ধ হওয়া দরকার। না হলে অকালে আরও অনেক মানুষের প্রাণ যাবে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ট্রাক্টর চালক বলেন, ‘নিষেধের বিষয়টি আমি জানি। কিন্তু জীবিকার তাগিদে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মহাসড়কে যাই। এ ছাড়া আমরা অনেকটা পুলিশদের ম্যানেজ করেই গাড়ি চালাই। তা না হলে কি মহাসড়কে গাড়ি চালানো যায়?’ এ ব্যাপারে কালীগঞ্জবারবাজার হাইওয়ে থানার ওসি মেজবাউদ্দীন বলেন, সড়কে মোবাইলকোর্ট মামলা দিয়ে অবৈধ যানবাহন বন্ধ করা যাচ্ছেনা ।
s
