জাতীয় ডেস্ক :
বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা আর ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার গোকর্ণঘাট তিতাস নদীতে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল অষ্টমী স্নান।
প্রতিবছর চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষের অষ্টমী তিথিতে এ স্নান অনুষ্ঠিত হয়।
অষ্টমী স্নানকে কেন্দ্র করে শনিবার (৮ এপ্রিল) সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে ভক্ত-পুণ্যার্থীরা গোকর্ণঘাট তিতাস নদীর তীরে এসে সমবেত হন।
পরে তারা তিথি অনুযায়ী নিদিষ্ট সময়ের মধ্যে স্নানে অংশগ্রহণ করেন। নদীর পবিত্র জলে এই অষ্টমী স্নানের মধ্য দিয়ে ভক্তরা পরিবারের মঙ্গল কামনার পাশাপাশি দেশ-জাতির জন্য বিশেষ প্রার্থনা করেন।
স্নানে অংশগ্রহণ শেষে আন্তর্জাতিক কৃষভাবনামৃত সংঘ, ইস্কন জেলা শাখার সভাপতি প্রবীর দাস ব্রহ্মচারী জানান, শাস্ত্রে বলা হয়েছে, এই অষ্টমী স্নানের মধ্য দিয়ে জড়ো দেহের পাপ মোচন হয়। যেখানে ভক্তিসহকারে ভক্তরা সমবেত হন, সেখানে ভগবান বিরাজমান থাকেন।
সিমারানী দাস বলেন, ‘অষ্টমী স্নানের মধ্য দিয়ে আমি নিজের এবং পরিবারের জন্য মঙ্গল কামনা করেছি। প্রার্থনাকালে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় শান্তি কামনা করেছি। মহামারি করোনা যেন চিরতরে চলে যায়, সেই প্রার্থনা করেছি।’
দীপা সাহা বলেন, তিতাস নদীর পবিত্র জলে স্নানের মধ্য দিয়ে ভগবানের কাছে পাপমুক্তির জন্য প্রার্থনা করেছি। তিনি সবার মঙ্গল কামনা করেন।
এদিকে ঐতিহ্যবাহী এ অষ্টমী স্নানকে কেন্দ্র করে তিতাস নদীর তীর ঘেঁষে বসেছে লোকজ মেলা। মেলায় নাগরদোলা, হরেক রকম বাহারি খাবার মুড়ি-চিড়া, মাঠা, তিল্লাই, বাতাসাসহ মাটির তৈরি খেলনার পসরা সাজিয়ে বসেন দোকানিরা। ভক্ত সমাগম বৃদ্ধির পাশাপাশি বেচাকেনা ভালো হওয়ায় খুশি তারা। এদিকে দীর্ঘদিন পর গ্রামীণ লোকজ মেলায় অংশগ্রহণ করতে পেরে খুশি ভক্তরা।
