হোম অন্যান্যসারাদেশ তালায় স্ত্রীর পরকীয়া প্রেমের বলী নিরিহ স্বামী!

তালা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি :

স্ত্রীর পরকীয়া প্রেমের কারনে হয়রানীর শিকার হচ্ছে তালার মৃত্যুঞ্জয় হালদার সহ তার বৃদ্ধা মা ও ছোট ভাই। পরকীয়া প্রেমকে বাস্তবে রুপ দিতে টাকা ও স্বর্নালংকার প্রয়োজন হওয়ায় তা স্বামী মৃত্যুঞ্জয়ের কাছ থেকে হাতিয়ে নেবার চেষ্টা করে স্ত্রী সুমনা। কিন্তু তাতে ব্যর্থ হয়ে টাকা হাতিয়ে নেবার কৌশল হিসেবে সুমনা বিশ্বাস তার স্বামী, শাশুড়ি ও দেবরের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করে। মামলা চলমান থাকাবস্থায় সুমনা তার পিতার বাড়িতে পরকীয়া প্রেমিকের সাথে অনৈতিক অভিযোগে ধরা পড়ার পর প্রতারনার বিষয়টি জানাজানি হয়। এঘটনায় এলাকার মানুষের মাঝে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

উপজেলার মোবারকপুর গ্রামের মৃত অমল হালদারের ছেলে মত্যুঞ্জয় হালদার জানান, প্রায় ৩বছর পূর্বে পারিবারিক ভাবে মাগুরা গ্রামের মৃনাল বিশ্বাসের মেয়ে সুমনা বিশ্বাস’র সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর বাসর ঘরে ফিল্মি স্টাইলে সুমনা জানায়, সে এই বিয়েতে রাজি ছিলনা, তার বাবা-মা জোরপূর্বক তাকে বিয়ে দিয়েছে। মাগুরা বারুইপাড়া গ্রামের বাপ্পী দেবনাথের সাথে তার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে এবং তার সাথেই সে সংসার করবে। একারনে বিয়ের প্রায় ৩বছরে মাত্র ১১দিন স্বামীর বাড়িতে সংসার করে সুমনা। বাকি সময় সে পিতার বাড়িতে হিন্দু ধর্মীয় বিধান অবমাননা করে শাখা ও সিঁদুর ছাড়ায় থেকে পরকীয়া প্রেমিকের সাথে অনৈতিক সম্পর্কে লিপ্ত হতো। বিষয়টি জানার পরও ঘর সংসারের কথা ভেবে ঘটনাটি নিরবে সহ্য করে মৃত্যুঞ্জয়।

মৃত্যুঞ্জয় হালদার বলেন, বিয়ের মাত্র ৩দিন পর সুমনা তার কাছে তালাক দাবী করে। এই দাবী না মানায় সে আত্মহত্যা করবে বা নারী নির্যাতন মামলায় ফাঁসিয়ে দেবার হুমকি দেয়। যার ধারাবাহিকতায় সুমনা তার পিতার বাড়িতে থেকে আত্মহত্যার চেষ্টা করে এবং পরবর্তীতে সাতক্ষীরা বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালে আমাকে সহ আমার মা নির্মলা হালদার ও ছোট ভাই সঞ্জয় হালদারকে আসামী করে একটি মামলা (২৭০/২০) দায়ের করে। এই মামলায় মৃত্যুঞ্জয় ২৩দিন এবং বৃদ্ধা মা নির্মলা হালদার ৪দিন অমানবিক জেল হাযত বাস করে।

মৃত্যুঞ্জয় আরও বলেন, এই মামলা প্রত্যাহারের জন্য সুমনা সহ তার পিতা ও মাতা অবৈধভাবে ৩০ হাজার টাকা এবং ১ভরি স্বর্নালংকার দাবী করে আসছিল। এনিয়ে গত ৫ আগষ্ট বিকালে ঘোনা গ্রামে আক্কাজ আলীর বাড়িতে আমাদের দু’ পক্ষের উপস্থিতিতে সালিস হয়। সালিসে মামলা উঠিয়ে নেবার কথা বলে সুমনার বাবা আবারও টাকা ও স্বর্নালংকার দাবী করে। কিন্তু আমরা বিনা কারনে তা’ দিতে অস্বীকার করলে ওইদিন সালিস অমিমাংসিত থাকে। সালিস থেকে বাড়ি ফেরার পর রাতে সুমনা তার সেই পরকীয়া প্রেমিক বাপ্পীর সাথে অনৈতিক অভিযোগে ধরা পড়ে। এনিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে তালা থানা পুলিশ যেয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন। এঘটনার একপর্যায়ে সুমনা বিশ্বাস পরকীয়া প্রেমিক বাপ্পী দেবনাথ সহ ৭ জনের বিরুদ্ধে তালা থানায় একটি মামলা (১/১৪৮, তাং : ০১/০৯/২২) দায়ের করে। মামলার এজাহারে সুমনা বিশ্বাস তার পরকীয়া প্রেমিকের সাথে ০৬/১২/২০২১ তারিখে হিন্দু ধর্ম মতে বিয়ে করা সহ তার সাথে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন বিষয় উল্লেখ করে। এছাড়াও সুমনার ওই স্বীকারোক্তিমূলক একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

সুমনা বিশ্বাসের অনৈতিক কর্ম ও অবৈধ ভাবে বিয়ে করা ঘটনার শাস্তি সহ হয়রানীকর মামলা থেকে অব্যহতি পাবার জন্য মৃত্যুঞ্জয় হালদার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন।

এব্যাপারে জানতে চাইলে সুমনা বিশ্বাস তার পরকীয়া প্রেম পরবর্তী বিয়ের কথা স্বীকার করে বলেন, আমাদের দাবীকৃত টাকা দিলে মৃত্যুঞ্জয়দের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার করে নিবো।

Khaleda

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন